বাবা-মা নামাজ পড়ে, ছেলে টিকটকার, মেয়ে কোরিয়ান অভিনেত্রী হতে চায়: পার্থ

 


খবর:

আপনি ভোট নিতে যাবেন কোন বাড়িতে ঢুকবেন, বাবা-মা নামাজ পড়ে, ছেলে টিকটকার, মেয়ে কোরিয়ান অভিনেত্রী হতে চায়। এটাকে একটা বন্ধনে আনার জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে ধর্ম অথবা কালচার। মডার্নাইজেশন ও গ্লোবালাইজেশনের নাম করে আমরা আমাদের রুট ধর্ম থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি। আমাদের ধর্মে আর কালচারে ফেরত আসতে হবে। (https://www.youtube.com/shorts/ZUZOhKSe5Ik

মন্তব্য:

টিকটক ও অন্যান্য ডিজিটাল ওটিটি প্লাটফর্মগুলোর মাধ্যমে পশ্চিমা ও কোরীয় উদারনৈতিক সংস্কৃতি তরুণদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কারণ স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যবধি আমরা যে পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছি, তা একদিকে আল্লাহর প্রদত্ত শারীআহ্‌ বিধানকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপসারণ করে ইসলামকে কিছু আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে, আর অন্যদিকে আধুনিকতা (Modernism) ও স্বাধীনতার (Freedom) অজুহাতে পশ্চিমা উদারনৈতিক মূল্যবোধকে জীবনের মানদন্ড হিসাবে উপস্থাপন করেছে। আর আন্দালিব রহমান পার্থদের মত শাসকেরাই এদেশে উদারনৈতিক মূল্যবোধ আমদানি করার লক্ষ্যে সংসদে বসে টিকটকের মত সোসাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য ডিজিটাল ওটিটি প্লাটফর্মগুলোকে লাইসেন্স প্রদান করেছেন এবং সেগুলোতে প্রচারিত পাশ্চাত্য এবং কোরীয় ধাচের উদারনৈতিক সংস্কৃতির অবাধ প্রসারের অনুমতি দিয়েছেন। যেখানে অবাধ স্বাধীনতা, ভোগ ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সুখকে জীবনের মূখ্য বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলশ্রুতিতে তরুণদের মধ্যে হলিউড-বলিউডের কালচার সহ টিকটকের “Toxic Validation culture” ছড়িয়ে পড়ছে। আধুনিকতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নামে নেটফ্লিক্স সহ বিভিন্ন ডিজিটাল ওটিটি প্লাটফর্মগুলোকে অবাধ কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়ার ফলে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কে-পপ সংস্কৃতি ও কে-ড্রামার প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে।  বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অসুস্থ কোরিয়ান কে-পপ সংস্কৃতি জনপ্রিয় করে তুলতে ঢাকায় নিয়মিত “K-Pop Fancy Fest” এবং “K-Pop Bangladesh Global Audition” এর মত কে-পপ প্রতিযোগিতা ও উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। অথচ ধর্মনিরপেক্ষ শাসকদের অসততা হলো এই যে, যখন তাদের চাপিয়ে দেওয়া পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও মূল্যবোধ সমাজের নৈতিক অবকাঠামো ধ্বংস করে চলেছে তখন প্রতিষেধক হিসেবে তারা লোক দেখানো সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে ইসলামের ব্যক্তিগত আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করছেন; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতির কথা বলছেন না। তারা কি এখনো পঁচে যাওয়া কুফর ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা ও মূল্যবোধকে রক্ষা করতে চান? তারা এটা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, উদারনৈতিক মূল্যবোধ আরোপের মাধ্যমে গোটা সমাজকে যেখানে অসুস্থ করে ফেলা হয়েছে, তখন কেবল ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান যথেষ্ট নয়; বরং সমাজে প্রচলিত মূল্যবোধ ও মতাদর্শের মূল কাঠামো পরিবর্তন না করলে তরুণদের অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়।

কেবলমাত্র উদারনৈতিক মূল্যবোধ বাস্তবায়নকারী কুফর ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মূল কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করে ইসলামী জীবনাদর্শ ও তা থেকে উদ্ভুত সংস্কৃতির পুনরুত্থানের মাধ্যমে সকল প্রকার সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব।  যা আমাদের তরুণদেরকে ইসলামী আক্বীদার ভিত্তিতে উচ্চতর জীবনদর্শন , মুল্যবোধ, সংস্কৃতি ও  জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিয়ে তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ইসলামী চরিত্র গঠন করতে পারে। ফলে এমন ইসলামি ব্যক্তিত্ব তৈরি হবে যারা ইসলাম এবং  ইসলাম ব্যতীত অন্য মতাদর্শ,  মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির মধ্যে পার্থ্যক্য করতে শেখার পাশাপাশি প্রতিটি কাজের সাথে পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির বিষয়টি সংযোগ করতে পারবে। এছাড়া খিলাফত রাষ্ট্র পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুপ্রবেশের সকল পথ রুদ্ধ করে দেয়ার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে সমাজের ইসলামী চিন্তাধারা ও আবেগ রক্ষা করবে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা পবিত্র কুর‘আন-এ বলেন: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর” [সূরা আত-তাহরীম : ০৬]

    -    কাজী তাহসিন রশীদ

Previous Post Next Post

Popular Items