দেশে এইডসে আক্রান্তদের বেশিরভাগই সমকামী



খবর:

দেশে বর্তমানে এইডসের চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন। তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সমকামী, আর এই গোষ্ঠীর আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই শিক্ষার্থী। এটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মেডিকেল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। (https://rtvonline.com/health/378117)

মন্তব্য: 

বাংলাদেশে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বর্তমানে কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সংকট নয়, বরং এটি স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব অস্বীকার করে প্রবৃত্তিকে প্রাধান্য দেওয়া স্যাকুলার ভোগবাদী সংস্কৃতির অবধারিত পরিনতি। USAID ও IPPF-এর মতো মার্কিন ক্রুসেডারদের সংস্থাগুলোর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় এবং Bandhu Social Welfare Society বা SRHR Alliance-এর মতো এনজিওগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত 'Comprehensive Sexuality Education' (CSE) প্রোগ্রামগুলো সরাসরি শিক্ষার্থীদের মগজধোলাই করছে। তারা  আমাদের তরুণদের শেখাচ্ছে যে নিজের লিঙ্গ নিজে পছন্দ করাই হলো প্রকৃত স্বাধীনতা, যা মূলত সত্যকে অস্বীকার করার এক সামষ্টিক Collective Delusion। পুঁজিবাদী কর্পোরেট সংস্কৃতি ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো, Rainbow Capitalism ও Pink Washing-এর আড়ালে পশ্চিমা ভোগবাদী জীবনধারাকে প্রগতিশীলতা হিসেবে প্রচার করছে। Netflix বা Disney-র মতো মাধ্যমে পশ্চিমা ড্রামা বা রিয়েলিটি শোর আদলে তৈরি কনটেন্টগুলো প্রচার করে শিক্ষার্থীদের সুকৌশলে এই বিষ পান করানো হচ্ছে। 

তারা তরুণদের মগজে ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে Truth is Relative বা সত্য আপেক্ষিক এবং ব্যক্তিগত ভোগই সুখের পরম লক্ষ্য। My Body My Choice কিংবা No Judgement-এর মতো চটকদার স্লোগানগুলোকে নৈতিক ঢাল হিসেবে শিখিয়ে দিয়ে তরুণদের মূলত নিজেদের বিনাশ করার পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে এই সংস্কৃতির শিকার তরুণদের করুণ পরিণতি আজ স্পষ্ট; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের CDC-এর সর্বশেষ তথ্যমতে, সেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ তরুণ নতুন করে যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পশ্চিমা এই চরম Individualism তরুণদের যে আধ্যাত্মিক শূন্যতায় ফেলেছে, তা এখন ঢাকার মতো মুসলিম জনবহুল শহরগুলোর শিক্ষার্থীদেরও AIDS- এর অসহায় শিকারে পরিণত করছে। এই অধপতনের Intellectual Post-mortem-এ সেকুলার মূল্যবোধের অসারতা পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়ে।

এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে সেকুলারিজমের এই ব্যর্থ বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব ও Subjective Truth-এর বিভ্রান্তিকে প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় স্রষ্টা-প্রদত্ত তথা ইসলামি জীবনবিধানের দিকে ফিরে আসা অপরিহার্য। ইসলাম দৃঢ়ভাবে এই ধারণাকে খণ্ডন করে যে নৈতিকতা মানুষের সুবিধামতো পরিবর্তনশীল; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মানুষের লিঙ্গ পরিচয় কোনো মর্জিমতো পছন্দ করার বিষয় নয়, বরং এটি আল্লাহর নির্ধারিত নেয়ামত ও পরীক্ষা। প্রজনন প্রবৃত্তির নিরাপদ ও সম্মানজনক পথ হিসেবে ইসলাম একমাত্র বিবাহের পবিত্র গণ্ডিকে স্বীকৃতি দেয়, যা চার্লস টেইলরের বর্ণিত Buffered Self বা আধ্যাত্মিকতাহীন সত্তার শূন্যতা থেকে মুক্তি দেয়। No Judgement-এর বিভ্রান্তিকর দর্শন মূলত মানুষকে অপরাধবোধ থেকে সরিয়ে দিয়ে পাপাচারকে স্বাভাবিক করে তোলে, যেখানে ইসলাম জবাবদিহিতার মাধ্যমে মানুষকে উচ্চতর মর্যাদায় উন্নীত করে।

মার্কিন ক্রুসেডারদের সংস্থাগুলো, তাদের মিডিয়া ও কোম্পানিগুলো যখন তাদের ক্ষতিকর আদর্শিক এজেন্ডা মুসলিম দেশগুলোতে রপ্তানি করতে আপসহীন, তখন আমাদের শাসকরা আর্থিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে এই সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদকে স্বাগত জানাচ্ছে। ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাবস্থা খিলাফতের শক্তিশালী প্রাচীরই পারে তরুণ প্রজন্মকে প্রবৃত্তির দাসত্ব ও করপোরেট মিডিয়া ট্র্যাপ থেকে মুক্ত করে একটি উচ্চতর জীবনবোধ ও স্থিতিশীলতার সন্ধান দিতে।

    -    আবু ইব্রাহিম 


Previous Post Next Post