খবর:
রোববার সকালে নিজের ঘর থেকে ওই শিক্ষার্থীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, “সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।” (https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/95fb19b551c0)
মন্তব্য:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর সাম্প্রতিক আত্মহত্যা এবং শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীর সাথে তার সম্পর্কের যে চিত্রটি সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা মূলত এই জনপদে চাপিয়ে দেওয়া এক গভীর আদর্শিক সংকটের প্রতিফলন। উল্লেখ্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও "অগ্রযাত্রায়" ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বিশেষ অবদান ও অর্থায়ন ছিল, যা মূলত একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বলয় তৈরির প্রচেষ্টার অংশ। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে যে, এদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আজ এমন এক ধর্মহীন সেক্যুলার ব্যবস্থার শিকার যেখানে সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে বিবাহের পবিত্র বন্ধনকে সুকৌশলে মুছে ফেলা হয়েছে। এর পরিবর্তে সুপরিকল্পিতভাবে কেবল ব্যক্তিগত ভোগের এক অনিয়ন্ত্রিত পথে তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই ব্যবস্থা নারী-পুরুষের সম্পর্ককে কেবল জৈবিক বা লিঙ্গীয় দৃষ্টিতে দেখে এবং একে উসকে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব পথ উন্মুক্ত রাখে, যার ফলে সমাজজুড়ে জঘন্য যৌন হয়রানি ও অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়ছে। পশ্চিমা ব্যবস্থার এই আদর্শিক ও শারীরিক পাশবিকতা আজ বিশ্বজুড়ে স্পষ্ট। একদিকে মিমোর মতো মেধাবীরা সম্পর্কের জটিলতায় প্রাণ দিচ্ছে, অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিবাদী নারীদের ওপর পুলিশের নির্মমতা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পুলিশ যেভাবে একজন মুসলিম ছাত্রীর হিজাব জোরপূর্বক খুলে ফেলেছে, তা পশ্চিমা 'লিঙ্গ সমতা'র প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে দেয়। এই ব্যবস্থা নারীকে কোনো সম্মান দিতে জানে না; বরং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বিশ্বব্যাপী ৩৫ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার হলেও তিউনিসিয়া ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে গণপরিবহনে এই হয়রানির হার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের অসারতা প্রমাণ করে পুনরায় ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থায় ফিরে আসা। ইসলাম যৌনতাকে দমন বা বলগাহীন মুক্ত করে না, বরং একে বিবাহের পবিত্র কাঠামোর মধ্যে সুসংগঠিত করে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি রক্ষা করে। ইতিহাস সাক্ষী, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং পরবর্তী খলিফাগণ একজন মুসলিম নারীর সম্মান রক্ষায় বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন। মিমোর মতো মেধাবীদের এই করুণ পরিস্থিতির শিকার হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিম বোনদের লাঞ্ছনা রুখতে হলে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য চেয়ে লাভ নেই। বরং একটি শক্তিশালী ঢাল বা খিলাফাহ রাষ্ট্র পুনপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যা হবে উম্মাহর সম্মান ও নিরাপত্তার প্রকৃত গ্যারান্টি। ইসলামের সুমহান আদর্শিক পুনর্জাগরণ এবং আল্লাহর আনুগত্যই পারে এদেশের তরুণদের এবং বিশ্বজুড়ে মানবজাতিকে এই আদর্শিক ও শারীরিক আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে।
- আবু ইউসুফ
