এআই বাবল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বুদবুদ কি ফেটে যাওয়ার জন্য বড্ড বেশি বিশাল?



খবর:

বুদবুদ বা 'বাবল'-এর একটি কৌতূহলোদ্দীপক বৈশিষ্ট্য রয়েছে: এগুলো পুরোপুরি ফুলে ফেঁপে ওঠার আগেই সাধারণত এদের পতনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে যায়। সম্ভবত এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক অবশিষ্ট আতঙ্ক। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় যখন 'ডট-কম' বাবলটি ফুলে ফেঁপে উঠেছিল এবং নাটকীয়ভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, যা তার পেছনে হাজার হাজার কোম্পানিকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে গিয়েছিল। (https://www.thedailystar.net/rising-stars/explained/news/the-ai-bubble-too-big-pop-4163826)

মন্তব্য:

বর্তমানে আমরা এক অভূতপূর্ব এআই (AI) বাবলের সম্মুখীন, যা মূলত পশ্চিমা পুঁজিবাদী অর্থনীতির কাঠামোগত সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিটজ সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ যখন বাজারে লাগামহীনভাবে ডলারের সরবরাহ (Liquidity) বৃদ্ধি করে, তখন সেই বিশাল পুঁজি উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ না পেয়ে এআই-এর মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও কাল্পনিক খাতে গিয়ে পুঞ্জীভূত হয়। এই ভঙ্গুর কাঠামোর পাশাপাশি পশ্চিমা বিজ্ঞান মানুষের রূহানি বা আত্মিক চেতনাকে (Consciousness) উপেক্ষা করে বুদ্ধিমত্তাকে কেবল যান্ত্রিক ডাটা প্রসেসিং হিসেবে বিবেচনা করে ভুল করছে। মানুষের মস্তিষ্ক যেখানে মাত্র ২০ ওয়াট শক্তি ব্যয় করে প্রজ্ঞাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম, সেখানে এআই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করেও কেবল একটি চেতনাহীন যান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া আর কিছু নয়, যা মানব সভ্যতাকে এক লক্ষ্যহীন ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করছে।

বাংলাদেশের জন্য এই বৈশ্বিক পরিস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগজনক, কারণ  নব্য উপনিবেশবাদিরা অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে আমাদের অর্থনীতিকে কেবল তৈরি পোশাক শিল্প (RMG) এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতের ওপর নির্ভরশীল করে ডিজাইন করেছে। IMF, World Bank এবং JICA-র মতো colonial সংস্থাগুলো ঋণের মরণফাঁদে আটকে আমাদের উপর এমন সব শর্তারোপ করে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আজীবন পশ্চিমাদের জন্য 'সস্তা শ্রমের জোগানদাতা' হিসেবেই টিকিয়ে রাখে। তাদের মূল পরিকল্পনা হলো আমাদেরকে কোনোভাবেই 'ভারী শিল্পে' স্বাবলম্বী হতে না দেয়া; ফলে যখনই পশ্চিমাদের এই এআই বাবল বিপর্যস্ত হবে, তখন তার প্রত্যক্ষ আঘাত পড়বে আমাদের ফ্রিল্যান্সার ও শ্রমিকদের উপর। এই পুরো ব্যবস্থাটিই গড়ে তোলা হয়েছে পরনির্ভরশীলতার এক ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর, যা আমাদের মেধাকে কেবল ডিজিটাল দাসে পরিণত করছে।

এই ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক শোষণ থেকে চূড়ান্ত মুক্তির একমাত্র পথ হলো দ্রুত শিল্পায়ন (Rapid Industrialisation), যা সরাসরি ইসলামী আকীদাহ’র উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। প্রকৃত শিল্পায়ন মানে কেবল কৃষি থেকে উত্তরণ নয়, বরং ইস্পাত, রাসায়নিক এবং ভারী যন্ত্রপাতি তৈরির মতো মৌলিক সক্ষমতা অর্জন করা — যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রধান গ্যারান্টি। খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থায় খনিজ সম্পদ বা কোনো বিশেষ এলিট শ্রেণির কুক্ষিগত সম্পদ হবে না, বরং তা হবে গণমালিকানাধীন; যা আল্লাহ’র উপর তাওয়াক্কুল করে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি প্রতিরক্ষা-কেন্দ্রিক শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের সচেতন শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, চেতনাহীন পশ্চিমা প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাবস্থার অধীনে নিজস্ব ভারী শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমেই একটি প্রকৃত স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

    -    তামজিদ হোসেন

Previous Post Next Post