“অসুস্থ শরীর নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন এক শিক্ষার্থী”



খবর:

https://m.youtube.com/shorts/_nf4H84jBNs

মন্তব্য:

হুইলচেয়ারে বসা সেই শিক্ষার্থী কেবল পরীক্ষার হলে যায়নি, সে আসলে পা রেখেছে এক “ডাম্ব” সেক্যুলার পুঁজিবাদী শিক্ষাব্যবস্থার যূপকাষ্ঠে। এখানে জীবনের চেয়ে সার্টিফিকেট-ই বেশি জরুরি। এই শিক্ষাব্যবস্থা জ্ঞান তৈরির কারখানা নয়, বরং ‘মানব-পণ্য’ (Human Capital) উৎপাদনের এক অদ্ভুত ফ্যাক্টরি। পরিসংখ্যান বলে, বাংলাদেশের ৩৫-৪০ শতাংশ তরুন পরীক্ষাভীতির ‘অ্যানজাইটি-ট্র্যাপ’ (Anxiety Trap) বা মানসিক চাপে পিষ্ট। সিস্টেমের অলিখিত আইন একটাই—হয় পারফর্ম করো, নয়তো ঝরে পড়ো। এই ইঁদুর দৌড়ে মানবিকতা একটা বিসর্জনযোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার প্রকট উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় পাবলিক পরীক্ষার হলে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্ট্রেচারে শুয়ে পরীক্ষার খাতা পূরণ করার সেই অমানবিক দৃশ্য।

এই দৃশ্য কেবল বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুঁজিবাদী সিস্টেমের মাধ্যমে তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সারাবিশ্বে ছাত্রঋণের বোঝা ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে মেধাকে মাপা হয় ‘ইনভেস্টমেন্ট রিটার্ন’ দিয়ে। ফলে স্নাতক শেষে একজন শিক্ষার্থী নিজের স্বপ্ন পূরণের বদলে কর্পোরেট ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য আধুনিক দাসে পরিণত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত এক দশকে তরুণদের মধ্যে বিষণ্নতা ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে, যার মূল কারণ এই ‘গডলেস ভোগবাদ’ (Godless Consumerism)। গাজার ধ্বংসলীলা থেকে শুরু করে জলাবদ্ধ শহরের মেগাপ্রজেক্ট—সবকিছুর আড়ালে পুঁজিবাদের একই নিষ্ঠুর হিসাব: মুনাফা আগে, মানুষ পরে। এখানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি।

আজকের এই টালমাটাল বিশ্বরাজনীতিতে পুঁজিবাদের সেক্যুলার মডেল পুরোপুরি দেউলিয়া এবং এটি এমন এক সিস্টেমেটিক ব্যর্থতা, যা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে আজ দিশেহারা। অথচ ইসলামি স্বর্ণযুগের দিকে তাকালে দেখা যায়, শিক্ষার অর্থ ছিল আল্লাহ্’র (ﷻ) সন্তুষ্টি ও মানুষের প্রকৃত উৎকর্ষ। আল-জাজারির মতো বিজ্ঞানীরা যখন যন্ত্রের মাধ্যমে মানবতার সেবা নিশ্চিত করতেন, তখন ইউরোপ ছিল অন্ধকারে। খিলাফতের সময় শিক্ষা ছিল একটি অধিকার, যেখানে দারিদ্র্যতা মেধাকে আটকাতে পারতো না, কারণ রাষ্ট্রই ছিল নাগরিকের অভিভাবক। এখন সময় এসেছে সেই ইসলামের শাশ্বত জীবনব্যবস্থাকে রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার। পুঁজিবাদের এই ‘নরক’ (Hell of Capitalism) থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের মুনাফার দাসত্ব ছেড়ে সেই আদর্শিক পথে হাঁটতে হবে, যা নবী কারীম (ﷺ) আমাদের দেখিয়ে গেছেন। আমরা কেউ যন্ত্র হতে জন্মাইনি, আমাদের লক্ষ্য আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হওয়া।

    -    আবু ইউসুফ


Previous Post Next Post