খবর:
শিল্প এলাকায় ক্ষতিকর লবণ অপসারণের জন্য জিনগতভাবে ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তনে কাজ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (DU) শিক্ষার্থীরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (NSU) সুবিধাপ্রাপ্ত ল্যাবের সাথে আনুষ্ঠানিক পার্শ্বীয় সহযোগিতার সুযোগ বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও ডিইউ-এর থাকা শক্তিশালী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সহযোগিতার সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। উভয় প্রতিষ্ঠানই যৌথভাবে এমন সরকারি ভর্তুকিযুক্ত প্রকল্পের অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারে যা সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়। (https://www.thedailystar.net/campus/news/the-public-vs-private-university-debate-and-why-its-outmoded-4224361)
মন্তব্য:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে, নর্থ সাউথ কিংবা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোকে সরকারি তহবিলের সাথে যুক্ত করে যৌথ গবেষণার যে প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে তা আদতে Socializing the Risks while Privatizing the Rewards নীতির এক নির্মম Capitalist Trap ছাড়া আর কিছু নয়। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের মতো জনস্বার্থে উৎপাদিত প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত যেভাবে বিগ ফার্মার Monopolistic IP (Intellectual Property) Cash Cow বা মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, তা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় জ্ঞান ও গবেষণা কখনোই পাবলিক ইউটিলিটি নয়, বরং মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির পোর্টফোলিও ভারী করার একটি High-Yield Equity Asset মাত্র।
এই অন্তহীন Extractive Growth Model ও করপোরেট আগ্রাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ছাত্রসমাজ মাত্রাতিরিক্ত ঋণের চাপে জর্জরিত। ফেডারেল রিজার্ভের উপাত্ত অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে Student Loan Liabilities ছাড়িয়ে গেছে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি! শিক্ষাকে এখানে পরিণত করা হয়েছে একটি প্রিডেটর বা শিকারী Pay-to-Play Subscription Model-এ, যেখানে থমাস পিকেটির গবেষণা ও অক্সফাম গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী Top 1% Hoarders-দের হাতে পুঞ্জীভূত রয়েছে অর্ধেকের বেশি গ্লোবাল ক্যাপিটাল। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা আজ করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি, যেখানে মেধাকে বানিয়ে ফেলা হয়েছে করপোরেট ব্যালেন্স শিটের নিছক একটি লাইন আইটেম।
মানবজাতিকে পুঁজিবাদের অমানবিক শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্ত করে বিশ্বমঞ্চে ইসলামকে একমাত্র Dominant and Prevailing Ideology হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইসলামের ভিশন ঘোষণা করে যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গবেষণার মতো মৌলিক খাতগুলো কোনো ROI (Return on Investment) বা মুনাফা অর্জনের পণ্য হবে না। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর আব্বাসীয় খিলাফতের স্বর্ণযুগে বাগদাদ বা কর্ডোভার উন্মুক্ত জ্ঞানচর্চা কীভাবে পৃথিবীকে আলোড়িত করেছিল। খলিফা আল-মামুনের পৃষ্ঠপোষকতায় জাবির ইবন হাইয়ানের রসায়নচর্চা, আল-খাওয়ারিজমির অ্যালগরিদম বা ইবনে সিনার চিকিৎসা বিজ্ঞানের বইগুলো পরবর্তীতে অক্সফোর্ড ও প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের Core Syllabi ছিল শতাব্দী ধরে। সেসব আবিষ্কার কোনো কর্পোরেট সিন্ডিকেটের কবজায় বন্দি ছিল না।
- আবু ইউসুফ
