খবর:
মন্তব্য:
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এইচএসসি পরীক্ষা কেবলমাত্র শিক্ষা বা মেধার মূল্যায়ন পদ্ধতি নয়, বরং এটা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রুটি-রুজির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এখানে এক বছর পিছিয়ে পড়া মানে চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারে আরও অসংখ্য শিক্ষিত বেকার প্রতিযোগীদের সাথে জীবিকার যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। যার কারণে এখানে যেকোন উপায়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদেরকে নৌকায় করে, কোমর সমান পানি পাড়ি দিয়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে হলেও ভেজা কাপড়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।
দেশের প্রান্তিক জনগণের তুলনায় প্রায় ৮১ গুণ বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা এদেশের শাসন কাঠামোর অংশীদারগণ (মন্ত্রী, আমলা কিংবা অন্যান্য কর্তাব্যক্তিগণ) শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগগুলো কখনো অনুধাবনই করতে পারেন না। তাদের কাছে সমস্যায় পতিত পরীক্ষার্থীগণ কেবলমাত্র একটি ‘সংখ্যা’। জনগণের কল্যানের ব্যাপারে সিরিয়াস হওয়ার কোন উপাদান এই ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় নাই। এখানে, শাসকরা হচ্ছেন আল্লাহ্’কে (ﷻ) সরিয়ে নিজেরা আইনপ্রণেতা এবং তাদের শাসনকার্যের সাথে পরকালের কোন সংযোগ নেই। তাই, শুধু টাকা কিংবা পদবীর জন্য কেউ জনগণের কল্যাণে নিবেদিত হবেনা, বরং এগুলোর টোপ দিয়ে জনগণের অকল্যানও করানো যায়। আর, যদি কারো মন্ত্রীত্ব কিংবা আমলাত্ব কেড়েও নেয়া হয়, নতুন কর্তাব্যক্তি কি ভিন্ন কিছু হবেন? কারণ তিনিও ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা নামক একই জমির ফসল। অর্থাৎ তাই, মন্ত্রীকে লালকার্ড দেখালেই চলবে না, বরং বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে লালকার্ড দেখাতে হবে।
সমাধানের জন্য এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দরকার, যেখানে শাসকদেরকে নিজেদের ‘শাসন’ পদটিকে জনগণের অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন তারা তাদের শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জিত দক্ষতাগুলোকে কাজে লাগাতে পারে। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, “কোন জনপদে যদি একজন লোকও ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেন, তাহলে তাদের সাথে আল্লাহ্’র চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে”। ধর্মনিরপেক্ষ শাসকশ্রেণী কখনোই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর এই সতর্কবাণীর পরোয়া করে না। তাই, ন্যায়পরায়ণ শাসক তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন আল্লাহ্ (ﷻ) প্রদত্ত ন্যায়ের শাসন খিলাফত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। আল্লাহ্ভীরু এবং আল্লাহ্’র (ﷻ) বিধান যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ সাধনে সক্ষম এরকম অসংখ্য রাষ্ট্রনায়ক প্রস্তুত আছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন: “তোমাদের সর্বোত্তম শাসক বা নেতা হচ্ছে তারা, যাদেরকে তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদেরকে ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দোয়া করো এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে” (সহীহ্ মুসলিম)
- মোঃ জহিরুল ইসলাম
