গাজায় সেনা পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত, তবে...

 


খবরঃ

টানা দুই বছর ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত  হওয়া গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন করে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে তিনটি স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে, ১. বাংলাদেশ সেখানে লড়াই করতে যাবে না। ২. সেখানে এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকতে হবে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তা বলা সম্ভব ৩. পরিবেশ অনুকূল না হলে কোনো ধরনের ডেপ্লয়মেন্ট হবে না। বিশ্লষকরা বলছেন, সর্বোপরি সেখানে বাংলাদেশ সৈন্য পাঠালে রিস্ক কি? বেনিফিট কি? ইত্যাদি প্রাক্কলন করতে হবে। [https://mzamin.com/news.php?news=199374#gsc.tab=0 ]

মন্তব্যঃ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাহিনীতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সামরিক বাহিনী পাঠাতে চায়। পুরো বিশ্ববাসী জানে, আমেরিকা তথাকথিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের প্রস্তাব করেছে, অথচ তারাই গাজা গণহত্যায় অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধান মদদদাতা। শুধুমাত্র তাদের সমর্থনের কারণে পুরো বিশ্ব বিরোধীতা সত্বেও অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল গণহত্যা বন্ধ করেনি। তাই, গাজা গণহত্যায় সবচেয়ে বড় ঘাতক  হচ্ছে আমেরিকা। এখন সেই আমেরিকাই গাজার জন্য একটি বাহিনী গঠন করতে চায়। তাই, এই বাহিনী মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করবে তা কোন সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ বিশ্বাস করবে না। কিন্তু মুসলিম নামধারী কতিপয় আমেরিকার সেবাদাসরা আমেরিকার পা চাটা শুরু করেছে।

এমতাবস্থায় প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহারের ঔদ্ধত্য এই অন্তর্বর্তী সরকার কিভাবে দেখালো? জনগণ এক জালিমকে তাড়িয়ে এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছিল  যেন তারা জনগণকে এই জুলুমের ব্যবস্থা থেকে মুক্তি দিবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোন জালিম সরকার ক্ষমতায় না আসে, তার ব্যবস্থা করবে। অথচ এই কাজের কাজ কিছুই না করে তারা আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় মার্কিন বিতর্কিত কোম্পানী স্টার লিংককে বাংলাদেশে ডেকে এনেছে, মার্কিন প্রক্সিশক্তি- রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যাকারী আরাকান আর্মিকে বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে করিডোর দিতে চেয়েছে, বাংলাদেশের বন্দরগুলো মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের হাতে তুলে দিয়েছে, এবং সর্বোপরি শুধু বাংলাদেশ নয় পুরো মুসলিম উম্মাহ্‌’র আবেগের বিরুদ্ধে গিয়ে গণহত্যাকারী আমেরিকা-ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। 

মুলত: কিছুদিন পরেই বাংলাদেশ একটি নির্বাচন, তার মানে কিছুদিন পরেই বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে। এই সরকার নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি ফাইনালাইজ করে যেতে চায় যাতে ভবিষ্যৎ সরকার ক্ষমতায় এসে এই চুক্তিটির কোন পরিবর্তন আনতে না পারে কিংবা বাতিল করতে না পারে।

মুসলিম সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে, পৃথিবীর নির্যাতিত মুসলিমদের পাশে দাঁড়ানো। বাংলাদেশসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ্‌’র দাবী এটাই। যখন, এই শাসকগোষ্ঠীর চোখের সামনে গাজায় আমাদের মুসলিম ভাই-বোনেরা গণহত্যার শিকার হলো,  আমাদের বাড়ির পাশে আমাদের রোহিঙ্গা ভাই-বোনেরা গণহত্যার শিকার হলো, তখন সেসব জায়গাতে আমাদের ভাই-বোনদের উদ্ধার করতে  এই সরকার সামরিক বাহিনী পাঠালো না কেন? এই প্রশ্নগুলো আমাদের মাথার উপর বসে থাকা এসব শাসকদের করতে হবে। জনগণকে অনুধাবন করতে হবে, এই শাসকেরা উম্মাহ্‌’র প্রতিনিধিত্ব করে না, জনগণের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করেনা, জনগণের চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করেনা; তারা প্রতিনিধিত্ব করে তাদের প্রভুদের- যারা তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে। আমাদের অনুধাবন করা উচিত, মুসলিমদের  ঐক্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে কাফির-মুশরিকদের অনুগত শাসকগোষ্ঠী। তারা মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল তৈরি করে, মুসলিমদের মধ্যে ভ্রান্ত ন্যারেটিভ তৈরি করে। এগুলোতে কাজ না হলে, আইনের মাধ্যমে, শক্তির মাধ্যমে, বিভিন্ন মামলা দিয়ে দমন করে। তাই, সময় এসেছে এই শাসকদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, তাদের গাদ্দারীকে উন্মোচিত করার, সর্বোপরী অনুধাবন করার: কে আমাদের প্রকৃত বন্ধু, আর কে শত্রু?

    -    মোহাম্মদ  ফয়সাল হোসেন


Previous Post Next Post