খবরঃ
দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সঙ্কট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণ আনতে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি এলপিজি আমদানীর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এই আমদানীর অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। [https://www.bd-pratidin.com/economy/2026/01/14/1204660]
মন্তব্যঃ
আমদানীনির্ভর এলপিজি গ্যাসের মত নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকটের ফলে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে, তা নতুন কিছু নয়। এর আগেও সাধারণ মানুষ এই একই প্যাটার্নের সংকট দেখেছে চালের বেলায়, পেঁয়াজের বেলায়, সয়াবিন তেলের বেলায়, মরিচের বেলায়, ব্রয়লার মুরগি ও তার ডিমের বেলায়। প্রত্যেকবারই একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হাহাকার। ব্যবসায়ীরা সরকারের ভ্যাট পলিসিকে দায়ী করে। সরকার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে দায়ী করে। তীব্রসংকটে প্রচন্ড দাম বাড়ে। সমাধান যেন একটাই। তা হলো- আরো আমদানী। যেই আমদানী নীতিকে আবহমান কালব্যাপী সমাধান হিসেবে গণ্য করে রাষ্ট্রের স্বনির্ভরতা অর্জন হয়নি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও দুর হয়নি, সেই আমদানী নীতি থেকে কোন সরকারই বের হতে পারে না। যেই আমদানী আবার আমেরিকান মুদ্রা ডলার নামক মুদ্রা ছাড়া করা যায় না। সেই মুদ্রা পেতে গেলে আবার আমেরিকার পছন্দসই পণ্য আমেরিকার কাছে বিক্রি করা লাগে নয়তো আমেরিকা বা এমন কোন দেশে গিয়ে দেশের মানুষকে চাকরি করে ডলার দেশে পাঠানো লাগে। নয়তো আইএমএফ থেকে ডলার লোন নেয়া লাগে। সেই জমানো ডলার দিয়েই এলপিজি গ্যাস, চাল, সয়াবিন তেল, পেয়াজ ইত্যাদি আমদানী করা যায়। প্রশ্ন হলো- কেন কৃষিনির্ভর গ্যাসসমৃদ্ধ বাংলাদেশ সমাধান হিসেবে শুধু আমদানীকেই খুঁজে পায়!!! কেন কোন সরকার শত শত মেগা প্রজেক্ট নিলেও বাপেক্স পেট্রোবাংলাকে শক্তিশালী করার মেগা প্রজেক্ট নিয়ে অনুসন্ধান কূপ খননের প্রচেষ্টা বাড়ায় না??
মূলতঃ উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি পেলেও ভারতীয় উপমহাদেশ নব্য উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি পায়নি। নামে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ নামক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র তৈরি হলেও প্রত্যেকটা পলিসি পশ্চিমাদের দিকনির্দেশনায় তৈরি। এই দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোর প্রবল সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে আমদানীর মাধ্যমে আমেরিকা তার ডলার আধিপত্য বিস্তার করে রাখতে চায়। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের উচিৎ ছিল রাষ্ট্রের এই প্রতিনিয়ত চলতে থাকা ক্রাইসিসের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। তারা তাদের ইশতেহারে উল্লেখ করতে পারত যে তারা বাপেক্স, পেট্রোবাংলাকে এমনভাবে শক্তিশালী করবে যেন তারা অনেক অনুসন্ধান কূপ খনন এবং তা থেকে উত্তোলনের সক্ষমতা অর্জন করে। এতে করে শেভরনের মত আমেরিকান কোম্পানির উপর রাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা কমে যাবে। শিল্পায়ন হবে। বেকারত্ব কমবে। মানুষের বহিঃরাষ্ট্রের এলপিজির উপর ভরসা করে থাকা লাগবে না। কারণ নব্যউপনিবেশবাদি পলিসিকে আঁকড়ে তারা কখনো ব্রিটেন আমেরিকাকে এই ধৃষ্টতা দেখাতে পারবে না। কিন্তু তারা যদি ইসলামকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করত, তাহলে তারা খুব সহজেই এই নব্যউপনিবেশবাদি পলিসিকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারত। কারণ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, “...এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বের কোন পথকে মেনে নেন না” (সূরা নিসা: ১৪১)। এ কারণেই কুরআন-সুন্নাহ্’র ভিত্তিতে হিযবুত তাহ্রীর কর্তৃক প্রণীত খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানের ২৯ এর ১ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “(খিলাফত) রাষ্ট্রটি স্বাধীন হতে হবে এবং এর কর্তৃত্ব সম্পূর্ণভাবে মুসলিমদের উপর নির্ভরশীল হতে হবে, কোন কুফর রাষ্ট্রের উপর নয়”।
- জাবির জোহান
