খবরঃ
দেশে গুম বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এমনকি অতি উৎসাহী কোনো ব্যক্তি বা কর্মকর্তারও কাজ নয়। জোরপূর্বক নিখোঁজ রেখে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ছিল সেনা ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং দীর্ঘদিন ধরে টিকিয়ে রাখা একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা। গুমসংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া এই অপরাধের দায় শুধু মাঠ পর্যায়ের সেনাসদস্যদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অপারেশনাল ইউনিট, মধ্যম পর্যায়ের কমান্ড, গোয়েন্দা নেতৃত্ব এবং সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্মকর্তারা—সবার ওপর বর্তায় বলে কমিশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। (https://www.dailyamardesh.com/amar-desh-special/amdlrdb2jwvm3)
মন্তব্যঃ
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী হলো জনগণের আশা-ভরসার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল, এবং সেকুলার ও দালাল শাসকগোষ্ঠী সবমসয় এই সামরিক বাহিনীকে ভয় পায়। কারণ, সামরিক বহিনী যেকোন প্রেক্ষাপটে ও স্বল্প সময়ের নোটিসে এই দালালদেরকে পাকড়াও করে তাদের দেশদ্রোহীতা ও অপরাধের জন্য বিচারের সম্মুখীন করার সক্ষমতা ও সাহস রাখে। ঠিক এই কারণেই দালাল সেকুলার রাজনৈতিকগোষ্ঠী সবসময় এই সামরিক বাহিনীর মনোবল, নৈতিকতা, যুদ্ধ-সক্ষমতা ও ইসলামের প্রতি আনুগত্যকে ধ্বংস করে একটি অকার্যকর বাহিনীতে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই, সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলো, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে স্বার্থান্বেষী দলীয় আনুগত্য ও বিধিবিরুদ্ধ অর্থের হাতছানিকে ঢুকিয়ে দিয়ে সামরিক বাহিনীর পুরো পরিবেশটিকে চরম কলুষিত করে রেখেছে, এবং দলীয় আনুগত্যের ‘সীলমোহর’ ছাড়া নিজ যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলীতে প্রমোশন পাওয়াকে অসম্ভব করে রেখেছে। দলীয় আনুগত্য প্রমাণের একটা অসুস্থ প্রতিযোগিতার সরাসরি পরিণতি হলো পতিত হাসিনার শাসনামলে কিছু অফিসারদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। ফলে, সামরিক অফিসারদের বিরুদ্ধে গুম-খুনের যেকোন অভিযোগের দায়ভার মূলত সেকুলার ও দালাল শাসকগোষ্ঠীর ঘাড়ে বর্তায়, যারা জনগণের জন্য নিবেদিতপ্রাণ একটি বাহিনীর মধ্যে দলীয় আনুগত্যের ‘বিষাক্ত’ বীজ বপন করেছে।
বুদ্ধিমানের কাজ হল সমস্যার মূল কারণে হাত দেওয়া, যা হল সামরিক বাহিনী থেকে সেকুলার রাজনীতির দলীয় আনুগত্যের ‘বিষাক্ত’ গাছকে শিকড় সহ উপড়ে ফেলা। সমীকরণ খুব সহজ, দলীয় আনুগত্যের উপর সওয়ার হয়েই সেকুলার শাসকগোষ্ঠী তাদের অনুগতদের দিয়ে নানার অপকর্ম করায়। সুতরাং যতদিন দলীয় আনুগত্য থাকবে ততদিন সামরিক বাহিনী কখনোই পূর্ণ ‘পেশাদার’ বাহিনীতে পরিণত হয়ে জনগণের সামনে তার হারানো সম্মানকে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না।
মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) বলেন: “(হে নবী!) আপনি মুনাফিকদেরকে যন্ত্রনাদায়ক আযাবের সুসংবাদ (!) দিন, যারা কাফিরদেরকে তাদের ত্রাণকর্তা ও পরামর্শদাতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। (এটা কি তারা এজন্য করছে যে) তারা সেই কাফিরদের কাছ থেকে সম্মান ও ক্ষমতা অনুসন্ধান করতে চায়? অথচ: সকল সম্মান ও ক্ষমতার মালিক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ!” (সূরা নিসা ১৩৮-৩৯)। সুতরাং, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অফিসারদের উচিত কাফির-সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রসমূহ ও তাদের দেশীয় দালালদের থেকে প্রাপ্ত দায়মুক্তির মিথ্যা ওয়াদা ও আশ্বাসকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আল্লাহ্’র পূর্ণ আনুগত্য ও ইসলাম অনুসরণের নিমিত্তে খিলাফত পুন:প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্মান, ক্ষমতা ও নিরাপত্তা অনুসন্ধান করা। এবং ওয়াদা পূরণে আল্লাহ্’র চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আর কে আছে!?
- রিসাত আহমেদ
