খবর:
বোরকা পড়ে যেতে দেয়া হবে না ক্লাসে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ধর্মীয় উত্তেজনার নতুন নতুন ঘটনা যেন আরো প্রকশ্যে সামনে আসতে শুরু করেছে। এবার একটি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে হঠাত করেই জড়ো হয় একদলুগ্র হিন্দু যুবক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যুবকদের একটি দল সরাসরি ঘোষণা দিচ্ছে যে হিজাব পড়ে কলেজে ঢোকা যাবে না। এই দৃশ্য আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে ভারতের পুরোনো হিজাব বিতর্কে। হিন্দু যুবকরা জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে মুসলিম ছাত্রীদের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য করতে থাকে। অনেক ছাত্রী ভয়ে কলেজের ভিতরে ঢুকতেই পারেনি। ভারতে হিজাব বিতর্কের শিকড় আরও গভীরে। ২০২২ সালে কর্ণাটকের হাইকোর্ট রায় দেয় যে হিজাব ইসলামের অপরিহার্য কোন অনুশীলন নয় (https://www.youtube.com/watch?v=2z3YWLMj2vk)
মন্তব্য:
ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকদের দ্বারা মুসলিমদের উপর অব্যাহত নিপীড়ন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিজাব পরিধানে বাধা দেয়া ভারতে মুসলিমদের উপর চলমান এই দমন-নিপীড়নের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের হাইকোর্ট মুসলিম নারী ও মেয়েদের হিজাব পরিধান নিষিদ্ধ করেছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী পোশাকের উপর এমন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গো-রক্ষক গোষ্ঠীগুলো রাস্তায় মুসলিম যুবকদেরকে পিটিয়ে ও প্রকাশ্যে গলাকেটে হত্যা করছে। ভারতের কিছু রাজ্যে, যেমন মহারাষ্ট্রে, কর্তৃপক্ষ মসজিদগুলোকে আজান প্রচারে বাধা দিচ্ছে। ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাবেশে হিন্দু ভিক্ষু এবং হিন্দুত্ববাদী নেতারা প্রকাশ্যে ভারত থেকে মুসলিম বিতাড়ন ও মুসলিম গণহত্যার আহ্বান জানাচ্ছে। বিজেপি’র পৃষ্টপোষকতার সাম্প্রতিক বলিউডের চলচ্চিত্র “দ্য কাশ্মীরি ফাইলস”-এ মুসলিমদের রক্তপিপাসু খলনায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
অথচ অতীতে ও বর্তমানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এই সমস্ত নৃশংসতা দেখেও মুসলিম বিশ্বের দালাল শাসকেরা এটিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে আখ্যা দিয়ে ভারতের মুসলিমদেরকে পরিত্যাগ করেছে। এবং অর্থনৈতিক লাভ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে হিন্দুত্ববাদী শাসকদেরকে আলিঙ্গন করছে।
এই সবকিছু বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, আজ এমন কোনো রাষ্ট্র কিংবা শাসন কর্তৃপক্ষ নেই যা আন্তরিকভাবে মুসলিমদের জীবন, অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে দাঁড়াবে। প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম উম্মাহ্’র এবং এই উম্মাহ্’র নারী ও কন্যাদের জন্য ন্যায়বিচার, সুরক্ষা এবং অভিভাবকত্ব কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না, যদি না ইসলামের সেই ব্যবস্থা - খিলাফতে রাশিদাহ্ পুনরায় ফিরে আসে। যা প্রকৃত অর্থেই মুসলিমদের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়ায়, তাদের দ্বীনকে রক্ষা করে, তাদের কল্যাণের যত্ন নেয় এবং ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক। এর উদাহরণ দেখা যায় অষ্টম শতাব্দীর খলিফা আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের কর্মকাণ্ডে, যিনি অত্যাচারী ভারতীয় হিন্দু রাজা দাহিরের হাতে বন্দী কিছু মুসলিম নারীকে উদ্ধার করার জন্য মহান মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে এক শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেছিলেন। নবম শতাব্দীর খলিফা আল-মু’তাসিম বিল্লাহ্’র কর্মকাণ্ডে, যিনি তুরস্কের আমুরিয়ায় রোমানদের দ্বারা বন্দী ও নির্যাতিত একজন মুসলিম নারীকে উদ্ধার করার জন্য এক বিশাল সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, একমাত্র ইসলামী শাসনের অধীনেই ভারতের মুসলিমরা এবং সেইসাথে অন্যান্য ধর্মের মানুষেরাও নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি ভোগ করেছিল। সুতরাং, ভারতে বা বিশ্বের অন্যত্র মুসলিম উম্মাহ্’র বিরুদ্ধে নতুন কোনো দমন-নিপীড়ন ও গণহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে মুসলিমদের অভিভাবক রাষ্ট্র - খিলাফত পুনরুদ্ধারে আমাদের আন্তরিক মনোযোগ, প্রচেষ্টা ও শক্তি জরুরি ভিত্তিতে নিবদ্ধ করতে হবে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন: “নিশ্চয়ই ইমাম (খলীফা) হচ্ছেন ঢালস্বরুপ যার পেছনে মুসলিমরা যুদ্ধ করে এবং নিজেদের আত্মরক্ষা করে” (মুসলিম)।
- কাজী তাহসিন রশীদ