তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল ও করছাড় সুবিধা



খবর:

স্টার্টআপ তহবিল গঠন: অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল হিসেবে নারী উদ্যোক্তা, নারী উন্নয়ন ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে।(https://www.prothomalo.com/business/economics/biaznme1vu)

মন্তব্য: 

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও স্টার্টআপদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল এবং ভ্যাট-কর ছাড়ের যে ‘জনতুষ্টিমূলক’ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তার আড়ালে একটি গভীর কাঠামোগত বৈপরীত্য ও নব্য-ঔপনিবেশিক (Neo-colonial) এজেন্ডা লুকিয়ে আছে।

প্রথম বৈপরীত্য হলো, যেখানে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর কর আরোপ করে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপানো হচ্ছে, সেখানে কর্পোরেট ঘরানার স্টার্টআপগুলোকে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ৯ বছরের ভ্যাট ও টার্নওভার কর মুক্ত করে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী এলিট শ্রেণী তৈরির পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। আরও বড় ঔপনিবেশিক এজেন্ডাটি স্পষ্ট হয় যখন “বিদেশি বিনিয়োগ আনলে দেড় শতাংশ প্রণোদনা” দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে; এর আসল উদ্দেশ্য হলো ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েটের মতো সস্তা সেবামূলক খাতে তরুণদের নিয়োজিত করে পশ্চিমা বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলোর জন্য একটি বিশাল ও সস্তা ‘ডিজিটাল শ্রমিক’ (Digital Labor) বাহিনী গড়ে তোলা।

পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় বাজেট হলো একটি বার্ষিক রাজনৈতিক হাতিয়ার, যেখানে সংসদ বা পার্লামেন্ট প্রতিবছর নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ট্যাক্স, সুদভিত্তিক ঋণ ও অনুদানের নতুন নতুন ‘অধ্যায়’ (Chapters) ও আইন তৈরি করে সাধারণ মানুষের ওপর শোষণের বৈধতা দেয়, যার চমৎকার উদাহরণ এই ২০২৬-২৭ এর বাজেট। অথচ এর বিপরীতে ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থার অর্থনৈতিক কাঠামোতে বাজেটের মূল অধ্যায় বা উৎসগুলো (যেমন—খরাজ, ফায়, পাবলিক ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়) শরিয়তের স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় নিয়ম দ্বারা নির্ধারিত, যা পরিবর্তন করার ক্ষমতা খলিফা বা মজলিশ আল উম্মাহ্‌রও নেই; খলিফা কেবল তার ইজতিহাদ ও প্রশাসনিক মতামতের ভিত্তিতে বার্ষিক (হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী) উপ-বিভাগ বা বরাদ্দগুলোর (Sections) ব্যবস্থাপনা ও তদারকি করেন যেন জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

    -    তানজিল আহমেদ

Previous Post Next Post