“ড. খলিলের এই বিজয় বাংলাদেশের বিজয়, নিজস্ব কূটনৈতিক দক্ষতার বিজয়: গোলাম মোর্তোজা”



খবর:

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অত্যন্ত সম্মানজনক। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান অনেক অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে শুধূ এই পদটিতে বিজয়ী হওয়ার জন্যে। এই বিশাল বিজয়ের পথ ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠবে আগামী এক বছরে। ড. খলিলুর রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত পরিচিত একজন মুখ। যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষমতাধর প্রশাসন সেই প্রশাসনের বহু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে তার ব্যক্তিগত যোগযোগ আছে ও ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। জাতিসঙ্ঘ কেন্দ্রীক যে একটা বলয় আছে সেই বলয়ের খুবই কাছের মানুষ তিনি। (https://www.youtube.com/watch?v=zvgx-z-zM1I)

মন্তব্য:

বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহের চেয়ে আয়তনে ছোট মাত্র নয় হাজার বর্গকিলোমিটারের দেশ (!) সাইপ্রাস এবং সেই দেশের সাথে  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রায় হারতে হারতে জিতে গিয়েছে বাংলাদেশ — সেটা আবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অত্যন্ত সম্মানজনক!! জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি যদি এতই তাৎপর্যপূর্ণ হয়, তাহলে ১৯৪৬ সালে এই পদটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া কিংবা চীনের কোন পররাষ্ট্র মন্ত্রী কেন এই পদের জন্য  প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি? মূলত: নব্য-সাম্রাজ্যবাদি প্রতিষ্ঠান জাতিসঙ্ঘ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ‘ক্লাবঘর’ এবং নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য দেশ বাদে বাকিরা হল ‘দুধভাত’। ব্রেটনউডস পরবর্তী বিশ্বরাজনীতির ডিজাইন না বুঝলে যে কারো মস্তিষ্কই এই মার্কিন ফাঁদে আটকা পরবে। 

ইউনুস সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে ড. খলিলুর রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে রাখাইনে সামরিক করিডোর প্রদানের সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর দৃঢ়তার সাথে এই করিডোরের বিরোধীতা করে এবং সামরিক বাহিনীর উপর ড. খলিলের অযাচিত কর্তৃত্বকে প্রত্যাখান করে। সামরিক বাহিনীর উপর পূর্ণ  কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ড. খলিলকে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত করিয়েছে — যেটাকে বলা যায় তথাকথিত শান্তিরক্ষী মিশনের বাজেটের উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের সামরিক বাহিনীর মনস্তত্বকে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করার মার্কিন কৌশল।

আমাদের উচিত খলিফা হয়রত উমার (রা.)-এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করা। জেরুজালেম বিজয়ের সেই ঐতিহাসিক মূহুর্তে তিনি (রা.) বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই আমরা ছিলাম অত্যন্ত অধঃপতিত ও  অসম্মানিত একটি জাতি। তারপর আল্লাহ ইসলামী শাসনব্যবস্থা দিয়ে আমাদেরকে সম্মানিত করলেন। আমরা যদি ইসলাম ব্যতিত অন্যকোন উপায়ে সম্মান অনুসন্ধান করি তাহলে আল্লাহ পুনরায় আমাদেরকে অসম্মানিত করবেন।” তাই, আমাদের উচিত কাফিরদের ছুঁড়ে দেয়া খড়-কুটার (জাতিসংঘ শান্তিমিশনের ডলারের) মোহে আচ্ছন্ন না হয়ে নিজেদের মুসলিম আত্মপরিচয়কে উপলব্ধি করা এবং নিজ দেশের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলারের অবারিত সম্পদকে ব্যবহার করে নিজেদের ও পুরো জাতি সম্মান ও ভাগ্য পরিবর্তনের একমাত্র পথ সেই খিলাফত শাসনব্যবস্থাকে অতিদ্রুত ফিরিয়ে আনা। 

    -    রিসাত আহমেদ

Previous Post Next Post