আজকের তরুণ প্রজন্ম ক্লান্ত-বিধ্বস্ত! তারা কি আসলেই এক আমূল পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত?



খবর:

তবে এই চরম ক্লান্তির মাঝেও আশার আলো উঁকি দিচ্ছে। উৎসবে ইয়োগা, ব্রিদিং সেশন, নাচ, চিত্রকলা এবং মেডিটেশনের মতো আয়োজনগুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া আগ্রহ দেখা গেছে; অনেক শিক্ষার্থীই জানিয়েছেন যে এখন থেকে তারা নিজেদের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে চান।  (https://www.thedailystar.net/health/news/bangladeshs-youth-are-exhausted-are-they-ready-change-4171756)

মন্তব্য:

ক্যাম্পাসগুলোতে Yoga, Therapeutic Dancing, Mindfulness sessions এবং Therapy মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রমোট করে। এখানে বারবার বলা হয় Fix your own mind, Self-care is the priority, Find your inner peace এবং Optimize yourself। এই অনুশীলনগুলো সব সমস্যাকে ব্যক্তিগত চাপ সামলানোর ব্যর্থতা হিসেবে দেখায়। ফলে শিক্ষাব্যাবস্থার নিষ্ঠুর চাপ, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার তুলনা এসব গৌণ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা নিজের মন শান্ত করার কৌশল শেখে, কিন্তু কেন এই ব্যবস্থা এত খারাপ তা নিয়ে প্রশ্ন করে না। তারা ভাবতে শুরু করে যে সমস্যাটা তাদের নিজের মধ্যেই, যেমন তারা যথেষ্ট মেডিটেশন করছে না বা যথেষ্ট সেল্ফ-কেয়ার করছে না। এতে করে তারা সিস্টেমের দোষ দেখতে ভুলে যায় এবং নিজেকে আরও বেশি চাপ দিতে থাকে।

এভাবে বাণিজ্যিকরণের মাধ্যমে Yoga-ও এই ধরনের অনুশীলনগুলো পুঁজিবাদী বাজারের অংশ হয়ে যায়। Wellness Industry প্রায় ৬.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে ব্যক্তির একাকীত্ব ও আত্মিক ক্ষুধাকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করে। বিভিন্ন অ্যাপ, অনলাইন ক্লাস, রিট্রিট প্রোগ্রাম এবং দামি সেশনের মাধ্যমে এই ব্যবসা চলে। এতে community বা higher duty এর বোধ দুর্বল হয়। মানুষ নিজের সুখের জন্যই সবকিছু করে।

এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাধানগুলো আস্তে আস্তে Individualism কে আরও শক্তিশালী করে। Individualism ব্যক্তির autonomy, self-interest এবং “personal rights” কে সবার উপরে রাখে। এটি Enlightenment thinkers যেমন Locke ও Mill থেকে এসেছে, যারা বলেছিলেন যে ব্যক্তি স্বাধীনভাবে নিজের জীবন গড়ে তুলবে এবং সমাজ তার পরে। কিন্তু বাস্তবতা পুরো উল্টো। মানুষ আসলে unencumbered self নয়, অর্থাৎ সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কোনো বন্ধনহীন সত্তা নয়। মানুষ স্বভাবতই সমাজে বাস করে। একা থেকে কেউ পুরোপুরি সুখী হতে পারে না। Pure individualism এসব বন্ধন ভেঙে atomized individual তৈরি করে, যে নিজের ছাড়া আর কারো কথা ভাবে না। এতে করে মানুষের মধ্যে একাকীত্ব বাড়ে এবং সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে।

যেসব সমাজে Individualism খুব বেশি, যেমন USA ও Western Europe, সেখানে loneliness epidemic, depression, suicide rates এবং mental health crisis অনেক বেশি দেখা যায়। Robert Putnam এর Bowling Alone বইয়ে দেখানো হয়েছে social capital কতটা কমে গেছে, অর্থাৎ মানুষেরা আর একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে না, শুধু নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। Gen Z এর তীব্র loneliness এর বড় কারণ এই hyper-individualistic culture. Pure self-interest কোনো higher purpose দিতে পারে না। Nietzsche এর God is dead ধারণার পর nihilism এবং hedonism বেড়েছে। Sensual gratification বা material success দিয়ে আত্মিক ক্ষুধা মেটে না। এতে lust man তৈরি হয়, যে শুধু comfort চায়, কোনো transcendence বা sacrifice এর জন্য প্রস্তুত নয়। সে শুধু নিজের সুখের পেছনে ছোটে, কিন্তু জীবনের গভীর অর্থ খুঁজে পায় না। এছাড়া Individualism এর Social ও Political Consequences খুব খারাপ। এটি community solidarity ভেঙে Exploitation সহজ করে। যখন সবাই নিজের জন্য লড়ে, তখন শোষণকারীরা সহজেই সুবিধা নেয়। Family ও social decay ঘটায় — marriage rates ও birth rates কমে যায়, strong communities দুর্বল হয়। Isolated individuals হয় corporation এর consumer বা state এর dependent। এতে soft despotism এর ঝুঁকি বাড়ে, অর্থাৎ মানুষ স্বাধীনতা হারিয়ে রাষ্ট্র বা বড় কোম্পানির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। Extreme self-reliance শুধু একটা myth. বাস্তবে একা কেউ বেঁচে থাকতে পারে না।

ইসলাম মানুষকে বিচ্ছিন্ন একক বা Individual হিসেবে দেখে না, বরং তাকে Ummah বা একটি অবিভাজ্য সামষ্টিক দেহের অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের পবিত্র হাদিসে রাসুলুল্লাহ্‌ (সাঃ) মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়াকে একটি অখণ্ড দেহের সাথে তুলনা করেছেন, যার একটি অঙ্গ অসুস্থ হলে পুরো দেহই অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়। ইসলাম যেখানে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধকে সামষ্টিক দায়িত্ব ঘোষণা করেছে, সেখানে বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তরুণদের ভেতর থেকে সামষ্টিক ‘We’-এর পজিটিভ বোধটুকুই ধুয়েমুছে সাফ করে দিচ্ছে।

তরুনরা জীবনে যেই Higher purpose খুজছে ইসলাম মানুষকে জীবনের সেই Higher purpose দেয় যেখানে এই দুনিয়ার জীবনটাই শেষ না বরং তাকে তার দায়িত্বের ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা’র সামনে আখিরাতে জবাবদিহিতার জন্যে দাড়াতে হবে। তাই তরুণদের জীবনের চূড়ান্ত ও একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো ক্ষণস্থায়ী কর্পোরেট ট্রফি নয়, বরং দুনিয়ার বুকে সামষ্টিক ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে  তার জীবনের Higher purpose বা সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্থাৎ (Ridwanullah) অর্জন করা।

    -    আবু ইউসুফ

Previous Post Next Post