খবর:
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন জেলাসহ ভারতের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে সৃষ্ট জনমিতিক (ডেমোগ্রাফিক) পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে সব ধরনের প্রশাসনিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ…। (https://www.jugantor.com/national/1113631)
মন্তব্য:
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় মানুষের ভারতে আসা-যাওয়া মূলত জীবিকাকেন্দ্রিক। হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র ভারত নিয়মিতভাবে সীমান্ত হত্যাকান্ড চালিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং তারা আমাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সীমান্তে বিষাক্ত সাপ ও কুমির ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। হাজার বছর ধরে সমৃদ্ধ ও কুরআন-এ বর্ণিত মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠ জাতি-এই মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত অপমানজনক।
কিন্তু, আমাদের এই অপমানজনক অবস্থার মূল কারণ হচ্ছে, মানবরচিত পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী ব্যবস্থা — ১৯২৪ সালে খিলাফত ব্যবস্থার ধ্বংসের পর যা দ্বারা আমরা শাসিত হচ্ছি। এই ব্যবস্থার শাসকরা কখনোই আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা কর্মসংস্থানের মত জরুরি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি। বরং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল বড় ব্যবসায়ী ও কর্পোরেট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা। কারণ দেশের অভ্যন্তরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের স্তরে রেখে দিলে শিল্পখাতের জন্য সস্তা শ্রমিক পাওয়া সহজ হয়। এটা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার একটি কৌশল। এখানে রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয় না। ফলে এখানে জনগণের নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরকেই নিতে হয়। তখন জনগণ বৈধ বা অবৈধ পথে যেকোন উপায়ে ভারতে বা মধ্যপ্রাচ্যে জীবিকার জন্য পাড়ি জমায়।
অথচ এই ভারতবর্ষই প্রায় ৭০০ বছর ধরে ইসলামী ব্যবস্থা ও ইসলামী শাসক দ্বারা সমৃদ্ধি ও স্বচ্ছলতার সহিত পরিচালিত হয়েছে। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশসহ যারাই সালতানাতের দায়িত্ব পালন করতেন, তাদেরকেই কেন্দ্রীয় খিলাফতের কাছ থেকে স্বীকৃতিপত্র আনতে হতো। জুম্মার খুতবায় ও মুদ্রায় খলিফার নাম নিতে হতো। এখানে অর্থনীতি, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, বিচারসহ কোন ক্ষেত্রেই ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ব্যবস্থা দিয়ে জনগণকে শাসন করা হয়নি। খিলাফত ব্যবস্থার অধীনে এই ভারতবর্ষকে বলা হতো ‘বুলিয়ন সিঙ্ক’ কারণ প্রচুর রপ্তানির কারণে বিশ্বের সোনা-রুপার একটা বড় অংশ এখানে জমা হতো। সুতি ও রেশমি কাপড় উৎপাদনে ভারতবর্ষ ছিল বিশ্বের এক নম্বর। বাংলার মসলিন ও সিল্কের ব্যাপক চাহিদা ছিল ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারে। তখন ভারতবর্ষের জিডিপি ছিল পুরো পৃথিবীর জিডিপির চার ভাগের এক ভাগ। আর ভারতবর্ষের জিডিপির একটা বিরাট অংশ আসত ‘বেঙ্গল সুবহা’ বা বাংলা অঞ্চল থেকে, যাকে বলা হতো ‘প্যারাডাইস অফ নেশনস’। তখন পারস্য, তুরস্ক, মধ্য এশিয়া, আরব, ব্রিটেন, ওলন্দাজ, ফরাসি, আর্মিনিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারে হাজারে মানুষ এসে এখানে ব্যবসা করতো। এদের মধ্যে অনেকে স্থায়ীভাবে থেকেও যেত।
যেখানে আজকে এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা অধীনে বাংলা নামক ‘প্যারাডাইস অফ নেশনস’ পরিণত হয়েছে ‘হিউম্যুলেটেড নেশন’ বা অপমানিত জাতিতে, যারা সমৃদ্ধি দূরে থাক, সামান্য জীবিকার আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত কিংবা উত্তাল সাগর পাড়ি দিচ্ছে। আমাদের সেই প্যারাডাইস অফ নেশনের অবস্থায় আবার ফেরত যেতে হলে অবশ্যই খিলাফত ব্যবস্থায় ফেরত যেতে হবে।
- মোঃ জহিরুল ইসলাম
