খবর:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যান্টিনের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে।(https://bangla.thedailystar.net/youth/education/campus/news-3945686)
মন্তব্য:
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে গোপনে ভিডিও ধারণ ও তা অনলাইনে ছড়িয়ে দিয়ে বাণিজ্যিকীকরণের এই মর্মান্তিক ঘটনাটিকে নিছক ব্যক্তিগত বিকৃতির ফল হিসেবে দেখলে মারাত্মক ভুল হবে। বরং এটি এক কাঠামোগত বৈশ্বিক সংকটের পরিণতি — যেখানে সবকিছুকে নিছক কমোডিফিকেশন (Commodification) বা পণ্যে পরিণত করে লাভের হাতিয়ার হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএ-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৯ শতাংশ নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেকনোলজি-ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স (TFGBV) বা অনলাইন সহিংসতার শিকার হন, যার কারণ হিসেবে ফেসবুক বা টেলিগ্রামের মতো পুঁজিবাদী টেক জায়ান্টস (Tech Giants)-দের প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট বা ভিডিওর মনিটাইজেশন (Monetization) ও ডিজিটাল ট্রাফিকের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ কাজ করে। এই মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় সমগ্র সেক্যুলার সিস্টেম (Secular System) বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিজে এই অপরাধের মূল পৃষ্ঠপোষক (Patron) হিসেবে কাজ করে, কারণ এই ব্যবস্থা নৈতিকতার পরিবর্তে পুঁজিবাদী বাজার ও কর্পোরেট প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দিয়ে সাইবার অপরাধ দমনে কাঠামোগত দুর্বলতা বজায় রাখে; যার প্রভাবে নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শরীরকে পণ্যে রূপান্তর করে অর্থ উপার্জনের অপরাধ চরম আকার ধারণ করেছে।
এই মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবস্থার বৈশ্বিক রূপ কেবল বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; পশ্চিমা সমাজেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ও Capitalist Exploitation-এর কারণে অনুরূপ অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের সেক্যুলার গভর্ন্যান্স (Secular Governance) ব্যবস্থা গুগল ও মেটার মতো টেক জায়ান্টস-এর বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার্থে এবং অবাধ স্বাধীনতার নামে অনৈতিকতার প্রসার ঘটিয়ে মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় অপরাধ দমনে কেবল নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হতো না, বরং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে কাঠামোগত ও কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। যেমন — খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের (রা.) শাসনকালে এবং পরবর্তীতে উমাইয়া ও আব্বাসীয় খিলাফতের বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা সিত্র (Sitru) লঙ্ঘন এবং মানুষের ইজ্জত-সম্মানের উপর আঘাত হানার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (তাযীর ও হুদুদ) কার্যকর করা হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাসে খলিফা উমর (রা.) রাতের আঁধারে নগরী পাহারার সময় কারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় এবং সমাজে কোনো ধরনের লুকোচুরি বা অনৈতিক নজরদারি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন; এমনকি কেউ বিনা অনুমতিতে কারও ঘরে উঁকি দিলে বা ব্যক্তিগত পবিত্রতা নষ্ট করলে তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল। এই দৃষ্টান্তগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামে শাস্তি কঠোর (Harsh) হলেও তা কোনোক্রমেই বর্বর (Barbaric) নয়; বরং তা হলো একটি কার্যকর প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (Deterrent), যা সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবন, ইজ্জত ও সম্পদকে নিরাপদ রাখতে এবং অপরাধের মূল উৎপাটন করতে শত শত বছর ধরে সফলভাবে কাজ করেছে।
- আবু ইব্রাহীম
