বিএনপির দিকেই ঝুঁকছে ভারত

 

খবরঃ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একটি শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করেছেন,… আগামীর পথচলায় খালেদা জিয়ার আদর্শ ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব বিকাশে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে। নরেন্দ্র মোদির এই চিঠির মাধ্যমেই খুব স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছে ভারত, আগামী দিনে বিএনপির ওপরই আস্থা রাখতে তারা আগ্রহী। … বিএনপির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ার বার্তা দিলেও ভারতের সঙ্গে অত্যন্ত সতর্কভাবে এগোতে চায় বিএনপি। … তিনি বলেন, বিএনপির মূলনীতি একটাই—সবার আগে বাংলাদেশ। কূটনীতির ক্ষেত্রেও বিএনপির নীতি সবার আগে বাংলাদেশ, আমার জনগণ, আমার দেশ ও আমার সার্বভৌমত্ব। এই স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই অন্য সব বিষয় বিবেচনা করা হবে।… (https://www.banglanews24.com/banglanews-special/news/bd/1631405.details)

মন্তব্যঃ

বাংলাদেশের মানুষের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে ভারতের কোন আগ্রহ নেই। তারা  অব্যাহত সীমান্ত হত্যাসহ সকল ধরনের শত্রুতা অব্যহত রেখেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি সমস্ত মানবমন্ডলীর মধ্যে আপনি ইয়াহূদ ও মুশরিকদেরকে তুমি অবশ্যই সবচেয়ে বেশি শত্রুতাপরায়ণ দেখতে পাবে…” (সূরা মায়েদাঃ ৮২)। তাদের সমস্ত আগ্রহ বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী শাসকগোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক স্থাপন যাতে তারা তাদের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে পারে। তাই বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপি কতটা হাসিনা কিংবা ভারতবিরোধী এটা তাদের কাছে মূখ্য বিষয় নয়। যেমনটি আমরা দেখেছিলাম, শেখ মুজিবের হত্যাকাণ্ডের পর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ঢাকায় তখনকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেন ফুলের তোড়া নিয়ে দেখা করতে গিয়েছিল বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের সঙ্গে। পরদিন ভারতের জাতীয় স্তরের দৈনিক 'দ্য হিন্দু'তে দু'জনের হাসিমুখে করমর্দনের ছবি ছাপা হয়েছিল প্রথম পাতাতেই।

প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার আঞ্চলিক চৌকিদার ভারত এই অঞ্চলে  লুটপাটের উদ্দেশ্যে তার পররাষ্ট্রনীতিসমূহ প্রণয়ন করে। এদেশের সাথে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত লুটপাট এর একটি বড় উদাহরণ। (পড়ুন, আদানির বিদ্যুৎ কিনে ঠকছে বাংলাদেশ)। ভারত তার একনিষ্ঠ দালালের (হাসিনা) আকস্মিক পতনে সাময়িকভাবে বেকদায় রয়েছে। তাই লুটপাট অব্যাহত রাখার স্বার্থে হাসিনা ও ভারতবিরোধী কারো সাথে সম্পর্ক স্থাপনে তার কোন সমস্যা নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক গোষ্ঠীরা যদি জনগণের ভারতবিরোধীতা অবজ্ঞা করে, তবে তারাও হাসিনার মত বিশ্বাসঘাতকদের কাতারে মিলিত হবে।

তারেক রহমান তার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে দেশের মানুষের ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাউকে সহায়তা না করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু তার এই সার্বভৌমত্বের ধারণা যদি ভারত মহাসাগরের সীমানা অতিক্রম করে আমেরিকা পর্যন্ত না পৌঁছায়, তাহলে তার এই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ তত্ত্ব ফাঁকা বুলি হিসেবে প্রমাণিত হবে। কারণ আমেরিকা হচ্ছে সেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, যেটি বর্তমানে ঘোষণা দিয়েছে, সে আর কোন আন্তর্জাতিক আইন মানে না, যদিও এই আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নে তারই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই আমেরিকার দয়ায় কোন দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করাও সম্ভব নয়। আর সেই দেশের সার্বভৌমত্বও তার থেকে রেহাই পাবে না। দেশের সকল রাজনীতিবিদদের এটাও জানা উচিত যে, বাংলাদেশের মানুষ যেমন ভারতের গোলামী করতে রাজি নয়, তেমনি তারা মার্কিনীদের গোলামী করতেও রাজি নয়। তাদের এটাও বোঝা উচিত যে, কাফের-মুশরিক শক্তিগুলো তাদের বৈশ্বিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে যতই মূলা ঝুলাক না কেন, দেশের মানুষের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবস্থান, জনগণের অধিকার হরণ ও দেশের সার্বভৌমত্বকে বিসর্জন দিয়ে বহিঃশক্তির গোলামী করলে, সকল শাসককে অপমানজনকভাবেই পতিত হতে হয়। পতিত হাসিনা তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post