দেশে যৌনকর্মীরা প্রতিনিয়ত সহিংসতা, নির্যাতন ও বৈষম্যের মুখে পড়ছেন। খদ্দের ও দালালের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে এ জনগোষ্ঠীর কোনো দৃশ্যমান উপস্থিতি নেই। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে ‘যৌনকর্মীদের প্রতি সহিংসতা ও আইনি সুরক্ষা’ শিরোনামে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সমকাল ও সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (এসডব্লিউএনবি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। (https://samakal.com/bangladesh/article/334584/যৌনকর্মীদের-অধিকার-মর্যাদা-ও-ন্যায়বিচার-নিশ্চিতের-আহ্বান)
মন্তব্যঃ
দেশের মানুষ ইসলামী শারী‘আহ্ দ্বারা যে শাসিত হতে চায় তা দেশী-বিদেশী সকল জরিপে (পিউ রিসার্চ, প্রথম আলো, সংবিধান সংস্কার কমিটি) উঠে এসেছে। এমন বাস্তবতায়, ইসলামকে একটা অচল ও সেকেল জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রমাণের প্রচেষ্টা চলছে। মানুষের এই বিশ্বাস ও আবেগকে উপেক্ষা করে ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর আলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছে, “ইসলামী শারী‘আহ্ কী মেয়েদের হাফপ্যান্ট পড়তে দেবে”, “নারী-পুরুষ কি সম্পত্তিতে সমান ভাগ পাবে”, “মেয়েদের কর্মঘন্টা কি হবে”। “যৌনকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান” শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান সেইধরণের প্রচেষ্টারই একটি পরোক্ষ আয়োজন। কিন্তু দু:খজনকভাবে কতিপয় ইসলামপন্থী রাজনীতিবিদরা বিষয়টিকে ইসলামের আলোকে ব্যাখ্যা না করে, বরং দেশী-বিদেশী ধর্মনিরপেক্ষগোষ্ঠীকে তুষ্ট করার আলোকে উত্তর দিচ্ছে।
যদি জনমানুষের বিশ্বাস ও আবেগের ভিত্তি ইসলামকে সত্যিই প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে তা আপসহীনভাবেই (Unapologetic) হতে হবে। কারণ ইসলাম একটি পূর্ণ জীবনব্যবস্থা। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদও সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন জীবনব্যবস্থার ভিত্তি। ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় আইন তৈরি করে মানুষ, আর ইসলামে আইন তৈরি করেন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা। তাই কোন ব্যক্তি বা দল যদি ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোর মধ্যে থেকে ইসলামকে গ্রহণযোগ্য (Accommodate) করার প্রচেষ্টা করে, তাহলে তাকে সবসময়ই একটা “অপরাধী” ভাব নিয়ে চলতে হবে। কারণ যেই কাঠামোতে যৌনকর্মও স্বাধীনতা, সেখানে যৌনকর্মকে হারাম বললে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। স্রষ্টার বানানো আইনকে যদি তার সৃষ্টি মূল্যায়ন করে; বাদ দেয়; পরিমার্জন করে, তাহলে তা কিভাবে যুক্তিযুক্ত হতে পারে? ঐতিহাসিকভাবেও যারা ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোতে ইসলামকে জোড়া দেয়ার চেষ্টা করেছেন তারা ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। যেমন আলজেরিয়াতে ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট, মিশরে মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তিউনিশিয়ায় আন-নাহাদা পার্টি।
ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সকল হীনমন্যতা ও বাস্তবতার দোহাই দেয়া বন্ধ করে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর দেখানো পথ আপসহীনভাবে অনুসরণ করতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তাঁর মক্কা জীবনে আংশিক ইসলাম বাস্তবায়নের অনেক প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি একবারে পূর্ণ ইসলাম বাস্তবায়ন নিশ্চিত না করে কারো প্রস্তাবে রাজি হননি। বনু শায়বান বিন সা’লাবা গোত্র রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে বলেছিল, "আমাদের গোত্র পারস্য সম্রাটের (কিসরা) সাথে একটি চুক্তিতে আবদ্ধ যে, আমরা নতুন কোনো ঝামেলার সৃষ্টি করব না। আমরা আরবের সীমান্ত রক্ষায় আপনাকে সাহায্য করতে পারি, কিন্তু পারস্যের বিরুদ্ধে বা আন্তর্জাতিক কোনো ঝামেলায় আমরা জড়াতে পারব না"। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছিলেন, "আল্লাহ্’র দ্বীনকে সাহায্য করার জন্য এমন লোকদের প্রয়োজন যারা একে পূর্ণাঙ্গভাবে (সব দিক থেকে) রক্ষা করবে।" তাই প্রশ্ন চলেই আসে- ইসলাম বাস্তবায়নের জন্য আমেরিকা-ব্রিটেনের ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মেনে নেয়া মুসলিমদের জন্য কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? "হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে (পুরোপুরি) প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না" (সূরা বাকারাহ: ২০৮)।
- জাবির জোহান
