খবরঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার পর ভোটযুদ্ধের শেষ পর্বে মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। বিএনপি যেমন অভিযোগের বিষে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে চেয়েছে, তেমনি পাল্টা তোপ দেগেছে জামায়াত। ‘জান্নাতে যাওয়ার’ কথা বলে জামায়াতের ভোট চাওয়া ও মুক্তিযুদ্ধে নৃশংসতায় দলটির ভূমিকার সমালোচনার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ করেন তারেক রহমান। বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের নামে ‘খাজনা’ তোলার অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। (https://bangla.bdnews24.com/13th-parliamentary-election/09168e6dc167)
মন্তব্যঃ
প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক প্রার্থীকে ব্যক্তিগত আক্রমন (Ad Hominem), গালিগালাজ ও চরিত্রহরণ বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও তাদের সমর্থকদের চরিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এগুলো হল পশ্চিমা সেকুলার (অ)সভ্যতার বৈশিষ্ট্য। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও সিনেটর নির্বাচনে এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমন ও চরিত্রহনন আমরা লক্ষ্য করি। ক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ, যেকোন স্বার্থে একে অন্যকে ব্যক্তিগত আক্রমন, গালিগালাজ ও চরিত্রহরণ কিংবা অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারে তারা কোন লজ্জাবোধ করে না। এর কারণ হল, পশ্চিমা সেকুলার সভ্যতা সহজাতভাবে সংঘাতপ্রবণ এবং এই সংঘাতকে তারা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে বিশ্বরাজনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে। পশ্চিমাদের সেকুলার রাজনীতির “কম্বো প্যাকেজের” অংশ হিসেবে এই রাজনৈতিক কুচরিত্র ও অসভ্যতা বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে। কোন দৃঢ় আদর্শিক অবস্থান কিংবা বৃদ্ধিবৃত্তিক গভীরতা কোনটিই নেই যা দিয়ে তারা জনগণের সামনে নিজেদেরকে দেশ পরিচালনার অধিকতর যোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। যা দেশের সেকুলার রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়াত্বকে প্রকটভাবে প্রমাণ করে।
ইসলামী ব্যবস্থায় নির্বাচনের আচরণবিধিতে প্রতিপক্ষকে কোনরূপ উপহাস ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিষিদ্ধ এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোন কুৎসা রটনা বা নেতিবাচক প্রচারণা করা যাবে না; যারা এরূপ করবে তারা অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন: “… আর তোমরা একে অন্যকে অপমান-অপদস্ত করো না এবং একে অন্যকে আপত্তিকর ও অশ্লীল উপনামে সম্বোধন করো না। ঈমান আনার পর এই ধরনের ইতর কর্মকান্ড তোমরা কিভাবে করতে পার! এরপরও যারা তওবা করবে না তারাই তো প্রকৃত জালিম” ( সূরা হুজুরাত: ১১)। এবং রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন: যদি তোমরা বেহায়া হও (হায়া বা লজ্জা হারিয়ে ফেল), তখন যা মুখে আসে বল ও যা খুশি কর (মা—শিঈ’তা) (সহীহ বুখারী: ৬১২০)। প্রার্থীরা শুধুমাত্র যার যার যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা দিয়ে জনগণকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের ‘মজলিস আল-উম্মাহ্’র’ দুই ধাপের নির্বাচন এবং খলিফা নির্বাচনে এই আচরণবিধি কার্যকর করা হবে। এই ইসলামী নির্বাচনী আচরণবিধি আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সুউচ্চ সামাজিক মানদন্ড ও মুসলিম উম্মাহ্’র নৈতিক উৎকর্ষতার সাক্ষ্য দিবে। সর্বোপরি ইসলাম যে আদর্শ হিসেবে অন্য সকল আদর্শ থেকে শ্রেষ্ঠ তার প্রতিফলন অন্য সকল ক্ষেত্রের পাশাপাশি খিলাফত রাষ্ট্রের নির্বাচন ও নির্বাচনি আচরণবিধির মাধ্যমেও প্রতিফলিত হবে, ইনশা’আল্লাহ। মহান আল্লাহ্ বলেন: “তোমরাই সর্বোৎকৃষ্ট জাতি, মানবজাতির কল্যানের জন্যই (দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী হিসেবে) তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে” (সূরা আলি ইমরান: ১১০)।
- রিসাত আহমেদ
