ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ‘অগ্রাধিকার’ দেবে জামায়াত

 

খবরঃ

… ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ব্যাপারে জামায়াতের অবস্থান কি? এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার।…(https://www.ittefaq.com.bd/774422/ভারতের-সঙ্গে-সুসম্পর্ককে-‘অগ্রাধিকার’-দেবে)

মন্তব্যঃ

‘একটি রাষ্ট্রের সাথে অন্য রাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বার্থের ভিত্তিতে হবে’ এই ধারণাটাই অমানবিক, কারণ রাষ্ট্রসমূহ কখনোই শক্তিতে পরস্পর সমান নয়। এখানে কোন রাষ্ট্র দুর্বল, আবার কোন রাষ্ট্রর সবল। এমনও রাষ্ট্র রয়েছে যাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো যেমন, খাদ্যবস্তু, পানি, জ্বালানি ইত্যাদি পূরণ করার জন্যও অন্য রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করতে হয়, এমনকি অনেক রাষ্ট্র রয়েছে যাদের স্বাধীনভাবে টিকে থাকার মত সমর্থ্যও নেই। এমত অবস্থায় যখন রাষ্ট্রসমূহ পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করে, তখন সবল রাষ্ট্রগুলো তাদের থেকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর বিভিন্ন অন্যায় আচরণ করে। যেমন আপাত দৃষ্টিতে শক্তিশালী রাষ্ট্র ভারত বাংলাদেশে সীমান্ত হত্যা করে, পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না, বর্ষার সময় হঠাৎ বাঁধগুলো ছেড়ে দিয়ে দেশকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়, এদেশের নতজানু শাসকসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক এবং সামরিক চুক্তি চাপিয়ে দেয় -এরকম সবদিক থেকে তারা অন্যায় আচরণ করে যাচ্ছে। একইভাবে আমরা দেখি আমেরিকা ভেনেজুয়েলার সাথে, রাশিয়া ইউক্রেনের সাথে, ইজরায়েল ফিলিস্তিনের সাথে অপেক্ষাকৃত সবল হওয়ার কারণে অন্যায় আচরণ করে যাচ্ছে। এভাবে দুটি অসম শক্তি বা সত্তা যখন পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করে, তখন স্পষ্টতই সবল দুর্বলের উপর অত্যাচার করে। এখানে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ মূলক সম্পর্ক তৈরি হয়।

মূলত বর্তমান স্রষ্টাবিবর্জিত সেকুলার বিশ্ব এই ‘পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরী’র দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে রেনেসাঁ পুর্ববর্তী দার্শনিক ম্যাকিয়াভ্যালি থেকে। তিনিই সর্বপ্রথম রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতার চেয়ে স্বার্থ এবং শক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ায় কথা বলেন- সেটা নিজ রাষ্ট্রের জনগণের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে হোক। এই চিন্তা থেকেই উপনিবেশবাদের জন্ম হয়, সেটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পুর্ববর্তী সময়ের সরাসরি উপনিবেশ হোক কিংবা বর্তমান সময়ের নব্য উপনিবেশবাদ হোক। এ ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ধরনের অমানবিক সম্পর্ক ও আচরণ অবশ্যই পরিত্যায্য। 

এর বিপরীতে ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে জাতিসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনই মানবজাতিকে এ ধরনের জুলুম থেকে রক্ষা করতে পারে। ইসলামী ব্যবস্থা কোন দেশকে দখল করে উপনিবেশবাদ কিংবা নব্য-উপনিবেশবাদ প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে। বরং এটি কোন অঞ্চলকে বিজয় করে মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালার বিধান বাস্তবায়নের কথা বলে, যেখানে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অভিভাবকের দায়িত্ব রাষ্ট্র পালন করে। ইসলামী আদর্শে অন্যরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরি করা হয় ‘ইসলামের দাওয়াকে বহন করা’র ভিত্তিতে। ফলে এখানে দাওয়া বহনে বস্তুগত বাধা প্রদানকারী রাষ্ট্র বা ভূখণ্ড ‘শত্রু রাষ্ট্র’ বা ‘সম্ভাব্য শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে বিবেচিত হয়। শত্রুরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধাবস্থা চলে ও সকল ধরনের চুক্তি করা নিষিদ্ধ। সম্ভাব্য শত্রুরাষ্ট্রের সাথে শর্তসাপেক্ষে অর্থনৈতিক, সামরিক কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তি হতে পারে। আল্লাহ্‌’র রাসুল (সঃ) বলেছেন, “আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর রাসূল”। এক্ষেত্রে ইসলামিক রাষ্ট্রে বসবাসরত অমুসলিমগণ এই হাদিসের আয়ত্ত্বের বাহিরে, কারণ তারা শরীয়া অনুমোদিত ইবাদতের অধিকার ব্যতীত অন্য সকল কিছু যেমন, বিচার, শাসন, অর্থনীতি, সামাজিক ব্যবস্থা ইত্যাদির ক্ষেত্রে শরীয়ার ভেতরেই থাকে। অন্যদিকে ভারত কিংবা ইসরাইলসহ যেসকল ভূখন্ড ইসলামী শাসনের অধীনে ছিল সেগুলোতে অন্য শাসনব্যাবস্থা বাস্তবায়নের অনুমোদন নেই। তাই বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এ অঞ্চলের সকল মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর উচিত ইসলাম বাস্তবায়ন করে নিজেদের ভূখন্ড একত্রিত করার পাশাপাশি ভারতকে পুনরায় ইসলামী শাসনের অধীনে নিয়ে আসা। ইসলামে ‘প্রতিবেশী রাষ্ট্র’ নামক কোন টার্মিনোলজির বৈধতা নেই। ইসলামের ইতিহাসে এই আদর্শ অনুসরণ করার কারণেই ভারত প্রায় ৭০০ বছর মুসলিম শাসনের অধীনে সমৃদ্ধির সহিত পরিচালিত হয়েছিল।

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post