খবরঃ
বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; ২ সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ৩ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও পনরাজ দেবরাজ। অনুমতি ছাড়াই ভোররাতে তাঁরা নিজ নিজ গাড়ি নিয়ে একে একে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘ভারতীয় কর্মকর্তাদেরকে সকালে তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে না পাওয়ার পরই আমরা বিষয়টি জানতে পারি।’ নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারী। (https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/gys740vhz5)
মন্তব্যঃ
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রাণভোমরা হল দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাত। এই খাতে যেকোন স্যাবোটাজ (sabotage) করে দেশের সকল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়া সম্ভব। অথচ: এরকম একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক, জেনারেল ম্যানেজার থেকে শুরু করে সিএফও পর্যন্ত সবাই শত্রুরাষ্ট্র ভারতের নাগরিক! তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্টিকার লাগিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি দাপিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আবার প্রয়োজন হলে সেই গাড়ি নিয়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাড়ি জমায়! রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া আর কোথায় কোথায় এমন ভারতীয়রা ঘাপটি মেরে রয়েছে? বাড়িধারা সহ বিভিন্ন ডিওএইচএস এলাকার পার্ক ও গুলশান-ধানমন্ডি লেক ছেয়ে যাওয়া হিন্দিভাষীরা এখনো আর কোন কোন সেক্টরে ‘গুপ্ত’ হয়ে বসে আছে!? নির্বাচনের মাঠে এই ‘গুপ্ত’ ভারতীয় চরদের নিয়ে কোন আওয়াজ নেই কেন? নাকি এই গুপ্তদের ‘আশীর্বাদ’ ও ‘প্রসাদ’ সঙ্গে নিয়েই তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে?
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গোপনে পালিয়ে যাওয়া ৯ ভারতীয় কর্মকর্তা এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপ, মাইক্রোসফট টিমস ও ভিডিও কনফারেন্সিংসহ বিভিন্ন ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। (কালের কণ্ঠ, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬)। এই ধরনের ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত আমেরিকান ও বৃটিশরা হল বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার নাটের গুরু। বিভিন্ন পেশার ছদ্মাবরনে বাংলাদেশে অবস্থান করলেও এই বিদেশীরা মূলত তাদের দেশের গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ যেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা সারাদেশে ছাড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী এজেন্টদের সাথে সরাসরি সম্পর্ক রক্ষা ও দিকদির্দেশনা দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে তাদেরকে ব্যবহার করে অরাজকতা সৃষ্টি করে। দেশের সকল সেকুলার রাজনৈতিক দল এই গুপ্ত নেটওয়ার্কের ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকিবহাল হলেও এ নিয়ে তারা জনগণকে কিছুই জানতে দেয় না। এর কারণ হল এই রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের লোকজনই এই বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর গুপ্তচর সংস্থার হয়ে সরাসরি কাজ করে এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের মূল এজেন্ডাই হল বাংলাদেশে সেই শত্রুরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। এই রাজনীতিবিদ নামধারী বিদেশী রাষ্ট্রের চরদের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় সম্পদ ও স্বার্থ কথনোই নিরাপদ নয়।
“বিদেশীদের (আমেরিকা, ভারত) সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশে কোন সরকার টিকতে পারবে না”- এই কথার মূলে রয়েছে বাংলাদেশে অবস্থানরত এই বিদেশী গুপ্ত নেটওয়ার্ক। কিন্তু এই নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী মনে করার কোন কারণ নেই। শিকড় কেটে দিলে যেমন গাছ মরে যায়, তা যত বড়-ই হোক না কেন; ঠিক তেমনি শত্রুরাষ্ট্রগুলোর এই গুপ্ত নেটওয়ার্কের ‘সাপ্লাই লাইন’ কেটে দিলে ‘ফ্রন্ট লাইন’ দ্রুতই ভেঙ্গে পরবে। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র দেশের সকল নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সামরিক নেতৃত্ব ও আমিরুল জি*হাদের অধীনে নিয়ে আসবে (সুত্র: কুরআন-সুন্নাহ্’র ভিত্তিতে হিয-বুত তা-হ্রীর কর্তৃক প্রণীত খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৫৪)। এবং খলিফা দ্রুততার সাথে সাহসী দিকনির্দেশনা প্রদান করে দক্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিদেশীদের এই গুপ্ত নেটওয়ার্কগুলোর ‘সাপ্লাই লাইন’ চিরতরে কেটে দিয়ে তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে সমূলে উৎপাটন করবেন, ইনশা’আল্লাহ্।
- রিসাত আহমেদ
