খবরঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন এ কথা বলেন।ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকুক। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশের সুসম্পর্ক জরুরি। বাণিজ্যিক কূটনীতি নিয়ে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘অনেক মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে তারা চায়, পরবর্তী সরকার শুরুতেই স্পষ্টভাবে জানাক যে দেশটি ব্যবসাবান্ধব। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারই নির্বাচিত করুক, যুক্তরাষ্ট্র সেই সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।(https://www.ittefaq.com.bd/774279/বাংলাদেশ–ভারত-ভালো-সম্পর্ক-দেখতে-চায়-ট্রাম্প)
মন্তব্যঃ
Westphalian জাতি রাষ্ট্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশের মত ছোট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বলে কিছু নেই, সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যে তা ফুটে ওঠেছে। ওয়েস্টফেলিয়ান বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো রাষ্ট্র হিসেবে আমাদেরকে দুর্বল ও অধীনস্থ (Weak & Subordinate) করে রাখে এবং আমাদের পররাষ্ট্রনীতির গতি প্রকৃতি তাদের দিকনির্দেশনা এবং স্বার্থ অনুসারেই নির্ধারিত হয়। ১৬৪৮ সালে জার্মান শহর ওয়েস্টফালিয়ায় পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো সার্বভৌমত্বের(Sovereignty) নীতির উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য কিছু নিয়ম সংজ্ঞায়িত করেছিল যেখান রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বা কর্তৃত্ব একটি আঞ্চলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং রাষ্ট্রকে স্বাধীন প্রাতিষ্ঠানিক সত্তা হিসাবে বিবেচনা করে জাতি-রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে, এতে দুই ধরনের রাষ্ট্র তৈরি হয়ঃ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুর্বল। শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর উপর অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক কতৃক্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। স্নায়ু যুদ্ধের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক বিষয়াদি ব্যবস্থাপনায় আধিপত্য বিস্তার করছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলো আঞ্চলিক পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ক্রমবর্ধমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা আঞ্চলিক পর্যায়ে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গঠনে ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের উত্থানকে নিয়ন্ত্রণ ও খিলাফতের আবির্ভাব ঠেকানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পররাষ্ট্রনীতি। এই নীতির আলোকে মার্কিনীরা তাদের আঞ্চলিক চৌকিদার ভারতকে শক্তিশালী করছে এবং ইন্দো প্যাসিফিক কৌশলের সামরিক জোট কোয়াডে(QUAD) ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশের অবস্থান ভৌগলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ভারতের অবস্থান সুসংহত করতে বাংলাদেশের ভূমিকা মার্কিনীদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মার্কিন রাষ্ট্রদুত আমাদের শত্রুরাষ্ট্র ভারতকে তাদের প্রকাশ্য মদদের ব্যাপারে আশ্বস্ত করছে এবং বাংলাদেশকে ভারতের সাথে দ্বন্দ্ব পরিহার করে ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে চাপ প্রয়োগ করছে। ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত দল বিএনপিগোষ্ঠী এবং বিরোধী দল জামায়াতগোষ্ঠী উভয়েই শত্রুরাষ্ট্র ভারতের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে। এভাবে ওয়েস্টফেলিয়ান বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো বাংলাদেশের মত জাতি রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল ও তাদের অধীনস্থ(Weak & Subordinate) করে রাখে এবং তাদের স্বার্থ অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ণে বাধ্য করে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব হরণ করে।
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা এবং স্বাধীন ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ণের মাধ্যমে মার্কিন-ভারত নেক্সাসকে মোকাবেলা করার জন্য ওয়েস্টফেলিয়ান জাতি রাষ্ট্র মডেলের পরিবর্তে বিকল্প মডেল বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। নব্যুওয়্যাতের আদলে খিলাফতের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে শক্তিশালী ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে নতুন বিশ্বব্যবস্থার গোড়াপত্তন করাই এক্ষেত্রে একমাত্র বিকল্প। আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র ওয়েস্টফালিয়ান জাতি-রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ভেঙে দেবে এবং শরীয়াহ নির্ধারিত শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। খিলাফত রাষ্ট্র ওয়েস্টফালিয়ান আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের আদর্শ, ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি এবং বজায় রাখার ধারণা বা নিয়ম-ভিত্তিক বৈশ্বিক বা আঞ্চলিক শাসন কাঠামোর ধারণাকে সমর্থন করে না কারণ ইসলাম আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আমূল পরিবর্তন করতে চায় যাতে সমগ্র মানবজাতির কাছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সুমহান বাণী পৌঁছে দেওয়া অনুকূল হয়। তাই ইসলাম একটি বিস্তৃত রাষ্ট্রের ধারণা উপস্থাপন করে যা আঞ্চলিক সীমানা দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় বরং আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র।
- কাজী তাহসিন রশীদ
