ভঙ্গুর অর্থনীতি পাচ্ছে নতুন সরকার

 

খবরঃ 

আসছে নতুন নির্বাচিত সরকার একটি স্বস্তিদায়ক অর্থনীতি পাচ্ছে না। পাচ্ছে কঠিন চ্যালেঞ্জিং, অস্বস্তিদায়ক ও বন্ধুর পথে এগোনোর অর্থনীতি। ভঙ্গুর এই অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নতুন সরকারকে অজনপ্রিয় অনেক সিদ্ধান্তই হয়তো নিতে হবে। এসব সিদ্ধান্তের বেশির ভাগই আসবে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) চাপ থেকে। (https://manobkantha.com.bd/news/economics/655471)

মন্তব্যঃ

“আসছে সরকারকে ভার নিতে হবে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতির”। এরকম একটা বাক্যের ব্যাখ্যায় চলে আসে যে বিগত সরকারের প্রবল পরিমাণ দুর্নীতি ও অদক্ষতাই এই ভঙ্গুর অর্থনীতির একমাত্র কারণ। কিন্তু আমরা যদি ১৯৭১ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা সরকার থেকে আরেক সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকালীন সময়ের অর্থনীতির দিকে তাকাই, তাহলে দেখব যে আমাদের প্রত্যেকবারই এই গল্পই শোনা লেগেছে। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের পর জিয়াউর রহমানের ক্ষমতায় আরোহণ করার পর বিভিন্ন পত্রিকা বা শ্বেতপত্রে অর্থনীতির অবস্থা বোঝাতে বলা হয়েছিল "উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এক দেউলিয়া অর্থনীতি"। ১৯৮২ তে যখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন পত্রিকা শিরোনাম বা শ্বেতপত্র ছিল "বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে: আমদানিতে চরম অনিশ্চয়তা"। ১৯৯১ সালে এরশাদের পর ক্ষমতায় আসেন খালেদা জিয়া। সেই সরকারের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের বক্তব্যই শিরোনাম হয়- "শূন্য কোষাগার ও ফোকলা অর্থনীতির দায় কাঁধে লইয়া যাত্রা শুরু"। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসলে শিরোনাম আসে "রিজার্ভের পাতিল শূন্য: আমদানির সামর্থ্য নিয়ে সংশয়"। তাই “ভঙ্গুর অর্থনীতি” কোন নতুন তথ্য নয়, বরং দুর্নীতি আর আইএমএফ- এই দুইয়ের যুগলবন্দিতে বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলো বরাবরই দিশেহারা। 

মূলতঃ ঔপনিবেশিক এই পুঁজিবাদী ডলারভিত্তিক অর্থনীতি যা বাংলাদেশের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে তা কখনোই ভালো অবস্থানে ছিল না। বাংলাদেশের জন্মলগ্ন আর নিক্সন শকের মাধ্যমে ডলারের আধিপত্য শুরুর  সময় একই- ১৯৭১ সাল। যেখানে আমেরিকার ইচ্ছামত ছাপানো ফিয়াট কারেন্সি দিয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রের কেনাকাটা করার অদ্ভুত নিয়ম চালু হয়েছিল যার ফলে বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোকে বাধ্যতামূলক ও নতজানুভাবে আমেরিকার যেকোন পলিসি মেনে নিতে হয়েছিল, হয়েছে এবং সামনেও হবে। কারণ অন্যের মুদ্রা দিয়ে যখন আপনাকে আমদানি করতে হবে, তখন বাধ্যতামূলকভাবে তার সকল ন্যায়-অন্যায় আপনাকে মেনে নিতেই হবে।

বাংলাদেশকে যদি তার এই ধারাবাহিক “ভঙ্গুর অর্থনীতির” তকমা এবং বাস্তবতা থেকে বের হতে হয়, তাহলে অবশ্যই চেহারা বা শাসক না বদলিয়ে, এই ঔপনিবেশিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বদলিয়ে ইসলামি জীবনব্যবস্থা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা উচিৎ। কারণ ইসলামি অর্থনীতির ভিত্তি কখনো অন্যকোন রাষ্ট্রের মুদ্রাব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল হতে পারে না। কারণ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, “...এবং কিছুতেই আল্লাহ্‌ মু‘মিনদের উপর কাফিরদের আধিপত্য মেনে নেন না” [সূরা আন-নিসাঃ১৪১]। তাই খিলাফত ব্যবস্থা স্বর্ণ ও রৌপ্যভিত্তিক মুদ্রাব্যবস্থায় অর্থনীতিকে সাজাবেন। বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোকে নিজ নিজ অঞ্চলের সক্ষমতার (কৃষি, চামড়া, পাট, ভারী সামরিক শিল্প ইত্যাদি) ভিত্তিতে শক্তিশালী করবে যেন অহেতুক অন্য রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল না থাকতে হয়। অতঃপর খিলাফত সকল মুসলিম রাষ্ট্র যেগুলো ১৯২৪ সালের পর ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মাঝে বন্টন করে দেয়া হয়েছিল তা একীভূত করার প্রচেষ্টায় থাকবে। সকল সম্পদশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলো যখন একীভূত হবে, তখন খিলাফত এক অভূতপূর্ব পরাশক্তিতে পরিণত হবে। যেই পরাশক্তির অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্যই রহমত হিসেবে কাজ করবে। কারণ ইসলাম এবং তার অর্থনীতি মানবজাতির কল্যাণের জন্যই মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে সমাধান হিসেবে দিয়েছেন। 

"...আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" (সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩)

    -    জাবির জোহান


Previous Post Next Post