বৈঠক ভালো হয়েছে: পল কাপুর

 


খবরঃ 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খ‌লিলুর রহমা‌ন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবা‌য়েদ ইসলামের স‌ঙ্গে বৈঠক শে‌ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বলেছেন, বৈঠক ভালো হয়েছে। আর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, এখানে আসতে আমাদের সব সময় ভালো লাগে। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠ‌ক শেষে সাংবা‌দিকদের মুখোমু‌খি হয়ে এসব কথা বলেন পল কাপুর ও ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। এদিন মা‌র্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বৈঠকে আলোচনার বিষয়, বি‌শেষ ক‌রে অস্ত্র কেনাকাটাবিষয়ক চুক্তি আকসা (একুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং অস্ত্রবিষয়ক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) নি‌য়ে প্রশ্ন করা হয়। (https://www.ittefaq.com.bd/777768/বৈঠক-ভালো-হয়েছে-পল-কাপুর )

মন্তব্যঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা করেই বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হবে, এই ধারণা যে এক অপরিণত চিন্তার প্রতিফলন, তা বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। এরকম একটা স্বার্থপর সম্পদলোভী গণহত্যাকারী রাষ্ট্রের সাথে যেকোন চুক্তি বা এলায়েন্স যে অপর পক্ষ কিংবা ওই অঞ্চলের জন্য একটা “ক্ষতিকর প্রজেক্ট” তা সারাবিশ্ব বর্তমান সময়ে ভয়াবহভাবে অনুভব করছে। তার উপর যদি সেই চুক্তি বা এলায়েন্স হয় সামরিক, তাহলে তা আর বলার অপেক্ষাই রাখে না। যেমন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাথে MNNA (Major Non-Nato Alliance), DCA (Defense Collaboration Agreement), ACSA (Acquisition of Cross Servicing Agreement), SOFA (Status of Forces Agreement), GSOMIA (General Security of Military Information Agreement) গুলোর মত আরো নানারকম সামরিক চুক্তিগুলোর বৈশিষ্ট্য হল চুক্তি হওয়া রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করে দিয়ে সেই রাষ্ট্রগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশ হয়ে যাওয়া। কারণ চুক্তিগুলো হওয়ার পর চুক্তিতে থাকা রাষ্ট্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধামত অস্ত্র কিনতে হয়, ঘাঁটি বানাতে দিতে হয়, গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে হয়। এর উপর ভিত্তি করেই আমেরিকা ২০২৪ সালে লেবাননে পেজার বিস্ফোরণ ঘটায়। ২০১৪ সাল থেকে জর্ডানের সাথে করা DCA এবং ACSA চুক্তি ব্যবহার করে সিরিয়া এবং ইরাকে মুহুর্মুহু কার্পেট বোম্বিং করে। ২০২০ সালে ইয়েমেনে হুতিদের এবং ইরানের জেনারেল কাসেমিকে হত্যার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা ঘাঁটি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহৃত হয়। এগুলো তো গেল চুক্তির ভয়াবহতা। 

কিন্তু চুক্তি না করেও শুধু যুদ্ধকালীন এলায়েন্স করে নিজের ঘরের ভিতর বিপদ ডেকে এনেছে যেই রাষ্ট্র- সেই রাষ্ট্রের নাম হল ইরান। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যখন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমন করে তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্থলমিত্র ছিল ইরান। এমনকি যুদ্ধ পরবর্তী হামিদ কারজাই সরকার গঠনেও তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ২০০৩ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন অপসারণে ইরানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে, ২০১৪ সালে সিরিয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এলায়েন্স করে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। পরবর্তীতে, ২০২০ সালে শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী এবং মিলিটারি জেনারেল এবং সম্প্রতি সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ খামেনি খুন হওয়ার মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মত রাষ্ট্রের সাথে মিত্রতা করে তার অভ্যন্তরে মোসাদ এবং সিআইএ-দের গোয়েন্দাদের চলাচল সহজ করে দিয়ে এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। 

এত এত দৃষ্টান্ত থাকার পরেও যদি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সাথে ACSA ও GSOMIA চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করে, তবে তা বিএনপি সরকার এবং বাংলাদেশ উভয়ের ভবিষ্যতের জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। ইতিহাসের পাতায় সাদ্দাম হোসেন, হোসনি মোবারক এবং বাংলাদেশের বিগত শাসকগোষ্ঠী মার্কিন স্বার্থরক্ষায় কাজ করেও “টিস্যু পেপারের” মত ব্যবহৃত হয়েছে। উপনিবেশবাদী পশ্চিমাদের এই কাঠামোর মধ্যে থেকে চিন্তা করলে বিএনপি সরকার নতজানুতা ছাড়া আর কোন উপায় খুঁজে পাবে না। তাই তাদের উচিত এই কাঠামো থেকে বের হয়ে এসে আদর্শিক নেতৃত্বশীল জাতি গঠনের জন্য জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়া। সেই আদর্শ ইসলাম ব্যতীত আর কি হতে পারে? "তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না; তোমরাই বিজয়ী (ও শ্রেষ্ঠ) হবে, যদি তোমরা মুমিন হও" [সূরা আলি ইমরান: ১৩৯]

    -    জাবির জোহান


Previous Post Next Post