খবর:
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া আরও ৪৬ জন শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর অন্তত ১৪ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং ধর্ষণচেষ্টার পর আরও ৩ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও, ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর অন্তত ২ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। (আসক) বলেছে, “...শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা শুধু আইনি ব্যর্থতাই নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ও মানবিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলে।” (https://www.tbsnews.net/bangladesh/118-children-victims-rape-january-ain-o-salish-kendra-1445441)
মন্তব্য:
৫ মাসে ১১৮টি শিশু ধর্ষিত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ করে এই সমাজের অসুস্থতা কতটা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান আরো যে বাস্তবতা তুলে ধরে তা হচ্ছে শিশু ধর্ষণের এই ঘটনাগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না বরং আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার মাঝে এমন কোন বিষয় আছে যা প্রতিনিয়ত মানুষের মাঝে বিকৃত যৌন চিন্তা জাগ্রত করছে এবং আমাদেরকে বিকৃত মস্তিষ্কের ধর্ষক উপহার দিচ্ছে। যার ভিক্টিম হচ্ছে আমাদের মা, বোন অথবা শিশু সন্তান। নারী-পুরুষের সম্পর্কের মাঝে যৌন চাহিদা মানুষের স্বাভাবিক প্রজননগত প্রবৃত্তি। একসময় যার মূল লক্ষ্য ছিলো পরিবার গঠন, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন এবং মানুষের বংশবৃদ্ধি বাড়িয়ে পৃথিবীতে মানবজাতিকে টিকিয়ে রাখা। কিন্তু, তা কিভাবে এই বিকৃত রূপ ধারণ করল এবং এজন্য দায়ী কে তা আমাদের আগে বুঝতে হবে। নাহয়, সমস্যার গোড়া যেমন আমরা খুঁজে পাব না, তেমনি এর সমাধানও না। যখন থেকে পশ্চিমা ইউরোপ এবং আমেরিকা সেক্যুলার (জীবন থেকে ধর্মকে পৃথকীকরণ) জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করে তখন থেকে তারা অন্যান্য অনেক কিছুর পাশাপাশি সমাজে নারী-পুরুষ সম্পর্কের ভিত্তিগুলোকেও নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা শুরু করে। পশ্চিমা দার্শনিক জেরেমি বেন্থামের “Maximize pleasure, minimize pain”, ফ্রেডরিখ নিটশে এর “God is dead — we must create values and live as Übermensch (self-overcoming)” এবং হেডোনিজম (ভোগবাদ) এর মত আইডিয়াগুলো সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত নারী-পুরুষের সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্যকে পরিবর্তন করে নিয়ে যায় সর্বোচ্চ ইন্দ্রিয়গত সুখ অর্জন করার ধান্ধায়। যার ফলে, সমাজে নারীর প্রতি ধারণা, যৌন চাহিদার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবার গঠনের প্রয়োজনীয়তা সমস্ত কিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। ভোগের আনন্দ যখন হয়ে উঠে মুখ্য তখন নারী হয়ে উঠে ভোগ্যপণ্য, আর যৌন চাহিদা ধীরে ধীরে রূপান্তর নেয় যৌন ক্ষুধায়। ক্ষুধার্ত পশু যেভাবে খাবারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যৌনতার আকাংখাও তেমন হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৬০ সালে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোয় সেক্সুয়াল রেভ্যুলিউশন ঘটে এবং পশ্চিমা শহরগুলো হয়ে উঠে অবাধ যৌনতার এবং নারী-পুরুষের বাধাহীন মিলনকেন্দ্র। ফলে এই শহরগুলোকে বিবাহবহির্ভূত যৌনতা, পরকীয়া, লিভ-টুগেদার, ধর্ষণ, যৌন-নির্যাতন, পর্ণোগ্রাফি, নগ্নতা, পতিতাবৃত্তি, হোমো-সেক্সুয়ালিটি, শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার, পশু ধর্ষণ, ইনসেস্ট, সেক্স পার্টি, পার্টনার সয়াপিং এর মত নিত্যনতুন যৌন উন্মাদনা গ্রাস করে নিতে থাকে। ফলে, প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একজন যৌন হেনস্তার রেকর্ড নিয়ে আমেরিকার মত দেশ হয়ে উঠে বিশ্বের ধর্ষণ ক্যাপিটাল। এমনকি যার প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে শাসকগোষ্ঠীর বড় অংশ শিশু ধর্ষণের জন্য এপস্টেইন আইল্যান্ডের মত জায়গা তৈরি করে। একই রকমভাবে যখন এই উন্মুক্ত যৌনতার ডিজিটালাইজেশন ব্যাপক হারে ঘটে এবং পশ্চিমারা পর্ণোগ্রাফিকে বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়, তখন এটি পশ্চিমাদের আদর্শ দ্বারা পরিচালিত বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলকে একইভাবে আক্রান্ত করে ফেলে। এবং প্রতিটি অঞ্চলকেই শিশু ধর্ষণের সুপ্ত এপস্টেইন আইল্যান্ড করে তোলে। উপরোক্ত পরিসংখ্যান এটিই প্রমাণ করে যে আমাদের এই অঞ্চলকেও পশ্চিমাদের এই নিকৃষ্ট জীবনধারণা গ্রাস করে নিয়েছে। কিছুদিন আগে শিশু রামিসার ধর্ষণ এবং হত্যা এরই প্রমাণ।
এখন এর থেকে নিস্তার পাওয়ার উপায় কি? স্বাভাবিকভাবেই যিনিই নারী-পুরুষকে সৃষ্টি করেছেন তিনি জানেন কিভাবে নারী-পুরুষের সম্পর্ককে সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করতে হয়। সুতরাং, আমরা যদি আমাদের সমাজকে পুনরায় আল্লাহ্’র দেয়া বিধান অনুযায়ী পরিবর্তন করি; যেমন: “আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, তবে নিশ্চয়ই জান্নাতই হবে তার আশ্রয়স্থল।” (সূরা আন-নাযিয়াত : ৪০–৪১) “আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং খুবই নিকৃষ্ট পথ।” (সূরা আল-ইসরা : ৩২) তাহলে, এপস্টেইন আইল্যান্ডের মত আমাদের এই অসুস্থ সমাজকে পুনরায় শিশুদের জন্য নিশ্চিত বাসযোগ্য আবাসস্থলে রূপান্তর করা যাবে ঠিক যেভাবে পূর্বের খিলাফাত রাষ্ট্র ছিলো।
- আসাদুল্লাহ্ নাঈম
