খবর:
এখন অনেক তরুণকে দেখলে মনে হয় তারা যেন কোনো কিছুতেই খুব বেশি অবাক হন না, খুব বেশি উচ্ছ্বসিতও হন না। কেউ প্রশংসা করলেও শান্ত, মন খারাপ হলেও শান্ত, সম্পর্ক ভাঙলেও শান্ত। কথা বলার ধরন, মুখের অভিব্যক্তি, এমনকি টেক্সটের উত্তর দেওয়ার ভঙ্গিতেও এক ধরনের ইচ্ছে করে উদাসীন থাকার চেষ্টা দেখা যায়। (https://bangla.thedailystar.net/life-living/news-3926621?fbclid=IwdGRzaAR7pTtjbGNrBHulEmV4dG4DYWVtAjExAHNydGMGYXBwX2lkDDM1MDY4NTUzMTcyOAABHu6Rf_AY_Ko2j4I5I2WvtlBCvBmSUFRwTcLCzRFbnQ-i79HRltMiHXeTW-Kx_aem_Bu04iKDacCKRts9qvMy89w&sfnsn=mo)
মন্তব্য:
হলিউডের টমি শেলবি কিংবা ইন্টারনেটের ‘Sigma Male’ ভাইবসের অন্ধ অনুকরণে যে তরুণটি আজ পাথরমুখো হয়ে ‘Nonchalant’ সেজে বসে আছে — সে আসলে কোনো অহংকারী অপরাধী নয়; সে গ্লোবাল লিবারেল সোশ্যাল মিডিয়ার (Liberal Social Media) অ্যালগরিদমিক ট্র্যাপের এক নীরব শিকার (Victim)।
পশ্চিমা লিবারেল পপ-কালচার কোনো সাধারণ বিনোদন নয়। অ্যান্ড্রু টেট (Andrew Tate)-এর মতো হাইপার-মাস্কুলিন ইনফ্লুয়েন্সার কিংবা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা আজ ‘Roasting’, ‘Cancel Culture’ আর ‘Meme Economy’ দিয়ে জাজমেন্টাল ও বুলিং আচরণকে ‘Cool’ হিসেবে জাস্টিফাই করে তরুণদের ওপর তীব্র পিয়ার প্রেশার তৈরি করছে। এই মানসিকতার পেছনে মূল পৃষ্ঠপোষক বা প্যাট্রোনাইজার হিসেবে কাজ করছে মেটা (Meta), টিকটক (TikTok) এবং এক্স (X)-এর মতো টেক জায়ান্টরা, যাদের অ্যালগরিদম টক্সিক কন্টেন্টকে বেশি রিচ ও ভিউ এনে দেয়। সমাজ থেকে ‘Judged’ বা রিজেক্টেড হওয়ার এই ট্রমা থেকেই Gen-Z মূলত তাদের আসল সফট ইমোশন লুকাতে এই ডেডলক মুখোশকে ‘Survival Mechanism’ হিসেবে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
ভেতরের কনসেপ্টই মানুষের বাহ্যিক আচরণকে ড্রাইভ করে। লিবারেল প্যাট্রনরা তরুণদের মগজে প্রতিনিয়ত থিওরি ঢোকাচ্ছে যে কারও সাথে আন্তরিক হওয়া মানেই তুমি সস্তা বা ‘Cringe’, আর সম্পূর্ণ ডিটাচড থাকাই হলো ‘Aura Points’ বাড়ানোর একমাত্র সিক্রেট। এই সাইকোলজিক্যাল ডিজাইনের কারণে ১৯৮০-র দশকের চেয়ে তরুণদের মাঝে নার্সিসিজম (Narcissism) প্রায় ৩০% বেড়েছে। টিকটকে কাউকে রোস্ট করে নিজের ‘Alpha’ ইমেজ ক্রিয়েট করা কিংবা অন্যের ব্রেকডাউন নিয়ে ট্রল করাটাই যেন এখনকার ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ‘Hyper-Individualism’ ও লিবারেলিজমের মন্ত্র পশ্চিমে অলরেডি ফ্যামিলি বন্ড ধ্বংস করে এক ভয়াবহ ‘Loneliness Epidemic’ এনেছে, যা তাদের মতে প্রতিদিন ১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমপরিমাণ ডেডলি। বাংলাদেশেও এর ইমপ্যাক্ট স্পষ্ট; কিছু Gen-Z এখন বাবা-মায়ের ইমোশনকে অবমূল্যায়ন করছে, বন্ধুদের ‘Ghosting’ করছে এবং ইচ্ছে করে ম্যাসেজে লেট রিপ্লাই দিয়ে সস্তা ‘Aura maxing’ করছে। পরিণতি? তীব্র ডিপ্রেশন আর পারিবারিক আইসোলেশন।
এই আচরণ মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য বা স্পিরিচুয়াল ইনস্টিঙ্কটের পরিপন্থী। লিবারেল সমাজ তরুণদের আত্মাকে spiritually ক্ষুধার্ত রেখে তাদের ‘Existential Dread’-এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মূলত, সেকুলারিজম কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ ছাড়াই গায়ের জোরে রাষ্ট্র থেকে স্রষ্টাকে নির্বাসিত করে মানুষের উপর এক ধরনের ‘Intellectual Rape’ চালিয়েছে। পশ্চিমা দার্শনিক ও ধর্মযাজকদের এই কম্প্রোমাইজড আক্বীদাহ্ সেকুলারিজম গ্রহণের ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে পারিবারিক কাঠামোগুলো ভেঙে চুরমার। পশ্চিমে ডিভোর্স রেট ৫০% ছাড়িয়েছে এবং সিঙ্গেল প্যারেন্টিং পুরো সমাজকে ক্রাইসিসের মুখে ফেলেছে।
শেষ পর্যন্ত, এই যুদ্ধটি আসলে পশ্চিমা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ বনাম আধ্যাত্মিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া ইসলামী জীবনব্যবস্থার (Islamic value system prioritising spiritual values) এক মহাদ্বন্দ্ব। পশ্চিমা স্বার্থপর মডেল যেখানে ডিটাচড ‘Sigma Male’ বানায়, ইসলাম সেখানে মুহাম্মদ আল ফাতেহের মতো আল্লাহ্’র (ﷻ) সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া জমিনে আল্লাহ্’র (ﷻ) প্রতিনিধি তৈরি করে। তাই পশ্চিমাদের দেয়া individualism-এর সস্তা মোহ ছেড়ে আজ প্রয়োজন Cosmic Humility বা মহান স্রষ্টার আনুগত্য। জীবন কোনো পার্সোনাল মুভি বা নিজের ‘Main Character Energy’ দেখানোর স্ক্রিন নয়; এটি স্রষ্টার তৈরি এক নিখুঁত সুর, যেখানে আমাদের কাজ হলো কোনো Fake Acting ছাড়া বিনয়ের সাথে সেই পরম সুরকারের জন্য নিজের টিউনটুকু পারফেক্টলি বাজিয়ে যাওয়া।
- আবু ইউসুফ
