রামিসার খুনির প্রকাশ্যে শাস্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, “...আমরা মধ্যযুগে নাই”



খবর:

রামিসার খুনির প্রকাশ্যে শাস্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, “…আমরা মধ্যযুগে নাই, আমরা আধুনিক যুগে। কোন ঘটনা ঘটল আর সেটার জন্য চটজলদি কোন আইন প্রণয়ণ করে ফেলা, কোন আদালত সৃষ্টি করে ফেলা — এগুলো ইমোশনালি করা যায় না।” (https://www.youtube.com/watch?v=-ivZcsketro

মন্তব্য:

ধর্ষণসহ গুরুতর অপরাধ দমনে সেকুলার বিচারব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ায় যখন শারী’আহ্ ভিত্তিক শাস্তির দাবী ওঠে, তখন এদেশের সেকুলারগোষ্ঠী সেটাকে বর্বর, অন্ধকার যুগ ও মধ্যযুগীয় বলে আক্রমণ করে। যদিও, ইউরোপে চার্চের কর্তৃত্ববাদী ও নিপীড়নমূলক শাসনকালকেই মধ্যযুগীয় শাসনকাল বলে আখ্যায়িত করা হয়, যা ছিল সত্যিকারের বর্বর, পশ্চাৎপদ ও সহিংস। খ্রীস্টান চার্চ তার শিক্ষা ও ব্যাপক দুর্নীতির সমালোচনাকারী ব্যক্তি ও চিন্তাবিদদের দমন করতে অকথ্য নির্যাতন চালাত এবং জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মত পৈশাচিক পন্থা অবলম্বন করতেও পিছিপা হত না। 

পরবর্তীতে, ইউরোপীয় চিন্তাবিদরা চার্চের Philosophy & Teaching কে সমাজ থেকে অপসারণ করে Human Reasoning and Science দ্বারা প্রতিস্থাপন করে চার্চ পরবর্তি যুগকে “The age of Enlightenment and Modernism” বলে আখ্যায়িত করে যা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ভিত্তি। এর ফলে, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীর এই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতাকে ইসলামের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করে খ্রিস্টধর্মের অনুরুপ বিবেচনায় ইসলামী আইন ও শাসনব্যবস্থাকেও বর্বর, মধ্যযুগীয় ও পশ্চাৎপদ হিসেবে আখ্যায়িত করে। 

অথচ, ইউরোপ অন্ধকার যুগের (Dark Age) মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনেক আগেই, ৭১১ হিজরিতে তারিক বিন যিয়াদ-এর নেতৃত্বে আইবেরিয়া উপদ্বীপ (আন্দালুস) বিজয়ের পর থেকে ইউরোপের আরেক অংশে খিলাফতের অধীনে ইসলামের স্বর্ণযুগ চলমান ছিল। আন্দালুসের মানুষ হাজার হাজার সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং ইসলামের প্রতিষ্ঠা এমন এক সমাজ তৈরি করেছিল যা দেখে ইউরোপের বাকি অংশ ঈর্ষা করত। ইউরোপের অন্যান্য অংশ যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল তখন — আন্দালুসের নাগরিকরা রাস্তার আলো, সুনির্মিত সড়ক, গণস্নানাগার এবং প্রবাহমান জলের সুবিধা ভোগ করত। কর্ডোভা ও গ্রানাডার মতো শহরগুলো তখন বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞানের কেন্দ্র ছিল। এখান থেকেই ইবনে রুশদ এবং ইবনে সিনার মতো বিখ্যাত মুসলিম চিকিৎসক ও দার্শনিকদের জন্ম হয়েছিল, যাদের সৃষ্টিকর্ম পরবর্তীকালে ইউরোপীয় রেনেসাঁর প্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মুহাম্মদ আল ফাতেহ কর্তৃক কন্সটান্টিনোপল বিজয়ের পর এটিকে বিশ্বের সেরা বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো যে সম্পর্কে পরবর্তীতে নেপোলিয়ন নিজেই বলেছিল, “যদি সমগ্র বিশ্ব একটি রাজ্য হতো, তবে তার রাজধানী হিসেবে কনস্টান্টিনোপলের চেয়ে উপযুক্ত আর কোনো শহর হতো না।” তাই ইসলামী সভ্যতাকে ও প্রয়োগকৃত আইন কানুনকে “অন্ধকার” বা “মধ্যযুগীয় বর্বরতা” হিসেবে উপস্থাপন করা ধর্মনিপেক্ষবাদীদের সংকীর্ণ পর্যবেক্ষণ এবং একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই নয়।

সুতরাং, ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামী শারী’আহ্ ও আইন কানুনকে নেতিবাচক ট্যাগ দিলেও, আমাদের অবশ্যই হীনমন্যতা পরিহার করতে হবে এবং এর প্রাসঙ্গিকতা ও বাস্তবায়নের সুফল নিয়ে আলোচনার পরিধি বাড়াতে হবে। তবে শুধুমাত্র ধর্ষণের মত কিছু অপরাধের শাস্তির ক্ষেত্রে খন্ডিতভাবে শারী’আহ্ আইন বাস্তবায়নের দাবী করলেই তা সত্যিকারের সুফল বয়ে আনবে না। যেহেতু ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা উদারনৈতিক মূল্যবোধ ও অবাধ যৌনতাকে উৎসাহিত করে ধর্ষণের মহামারী সৃষ্টি করছে এবং তার বিচারব্যবস্থা ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ, তাই ধর্ষক তৈরিক কারখানা এই সিস্টেমকে মূলোৎপাটন করে পরিপুর্ণভাবে ইসলামী শারী’আহ্ ও বিচারব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। তবেই ইসলামী শাসনব্যবস্থার সুফল দৃশ্যমান হবে। খিলাফাত রাষ্ট্র খন্ডিতভাবে নয় বরং পরিপুর্ণভাবে ইসলামী শারী’আহ্ ও বিচারব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে ধর্ষণের মত অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা (চাবুক মারা থেকে মৃত্যদন্ড) করে সকল প্রকার মুনকারকে শূণ্যের কোঠায় নিয়ে আসবে। 

    -    কাজী তাহসিন রশীদ

Previous Post Next Post