খবরঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার বাণিজ্য চুক্তি করার আগে দুই রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও জামায়াত সম্মতি দিয়েছিল। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে (৪ মার্চ) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। এদিন ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও (বিএনপি-জামায়াত) এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি। (https://www.banglanews24.com/national/news/bd/1640718.details )
মন্তব্যঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্য থেকে এটা সুস্পষ্ট নির্বাচনের পূর্বেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গিয়ে আমেরিকার সাথে করা নতজানু বাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখার অঙ্গিকার করে এসেছে। অহংকারী ট্রাম্প নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর সময়ও সেই অঙ্গিকারের কথা শুধু স্মরণ করিয়ে দেয়া নাই, বরং নতুন করে প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। (বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আহ্বান জানালেন ট্রাম্প, প্রথম আলো, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার বা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কেন যুক্তরাষ্ট্রের এই অন্যায্য আধিপত্য মেনে নিচ্ছে? এই ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং বুদ্ধিজীবি বলার চেষ্টা করে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় আমেরিকার সাথে সমঝোতা না করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। একই রকম যুক্তি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম শাসকরা যুক্তরাষ্ট্রকে সেনা ঘাঁটি প্রদানসহ বিভিন্ন রকম আর্থিক সুবিধা প্রদান করে আসছিল। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ ট্রাম্পের সৌদি সফর: ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তি’র পাশাপাশি যেসব ঘোষণা , দ্যা ডেইলি স্টার, ১৪ মে ২০২৫ । কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণেই আজ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু। বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ ইরানের হামলায় বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্ররা, জনকন্ঠ, ২ মার্চ ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের কাছে নির্লজ্জ আত্মসমর্পণই এখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকী। ভয় দেখিয়ে আনুগত্য বা চুক্তি আদায় উপনিবেশবাদী যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল। এই কৌশলটির নাম “Stick and Carrot“। এই কৌশল বাস্তবায়নের অন্যতম উপাদান হচ্ছে শাসকগোষ্ঠীর হীনমন্যতা এবং কাপুরুষতা। মুসলিম শাসকদের ইসলাম নিয়ে হীনমন্যতা এবং কাপুরুষতার কারণেই উপনিবেশবাদী জালেমরা উম্মাহ্’র উপর আধিপত্য বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে।
মোঙ্গলরাও একই রকম কৌশল ব্যবহার করে একের পর এক ভূমি দখল করছিল। শাসকরা গোলামীর চুক্তির মাধ্যমে মোঙ্গলদের শক্তিশালী করে তুলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১২৬০ সালে হালাকু খান সুলতান কুতুজের নিকট একটি কঠোর আত্মসমর্পণমূলক পত্র পাঠান, যাতে বাগদাদ ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে মিশরের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ দাবি করে। মোঙ্গলদের অপরাজেয়তা, বিশাল বাহিনীর কথা স্মরণ করিয়ে প্রতিরোধ করলে ধ্বংসের হুমকি দেয়। কিন্তু, সুলাতান কুতুজ মোঙ্গলদের দাম্ভিক হুমকির কাছে আত্মসমর্পণ না করে রুখে দাঁড়ান। তিনি মোঙ্গল দূতদের হত্যা করে তাদের ছিন্ন মস্তক কায়রোর ফটকে ঝুলিয়ে দেন, যা মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের বার্তা হিসেবে গণ্য হয়। মোঙ্গলরা বিশাল বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করতে আসে। কুতুজের সেনাবাহিনী সাহসিকতার সাথে রুখে দাঁড়ায়। কুতুজের সেনাবাহিনীর সাহসিকতা দেখে তাতাঁরদের সাথে জোটভুক্ত অন্য মুসলিম ভূখন্ডের বাহিনীগুলোও হীনমন্যতা কাটিয়ে মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধে মোঙ্গলদের শোচনীয় পরাজয় হয় এবং দাম্ভিক মোঙ্গলদের জয়যাত্রা বন্ধ হয়।
দাম্ভিক আমেরিকার আধিপত্য বিস্তার বন্ধ করতে আজও সুলতান কুতুজের মত নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব প্রয়োজন যার কাছে ইসলাম এবং মুসলিমদের থেকে অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ নয়। নিষ্ঠাবান এই নেতৃত্বের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের দাম্ভিকতার সাম্রাজ্য বালির প্রাসাদের মত ভেঙে পড়বে। ইনশা’আল্লাহ। আসন্ন খিলাফত ছাড়া কি সেই নেতৃত্ব পাওয়া সম্ভব? “প্রকৃতপক্ষে ইমাম (খলিফা) হলেন ঢাল স্বরূপ। তার পিছন থেকে যুদ্ধ করা হয়, তার দ্বারা (শত্রুদের কবল থেকে) নিরাপত্তা পাওয়া যায়“ ( হাদিস: বুখারী ও মুসলিম)। সুতরাং, প্রতিশ্রুত দ্বিতীয় খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়াই হচ্ছে মুসলিম উম্মাহ্’র এখনকার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচী। “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাদেরকে এ মর্মে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনের প্রতিনিধিত্ব (খিলাফত) প্রদান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব প্রদান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য শক্তিশালী ও সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তিনি তাদের ভয়-ভীতিকে শান্তি-নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন” (আন-নূর, আয়াত ৫৫)।
- মো: সিরাজুল ইসলাম
