যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সংরক্ষণ হচ্ছে মুঘল আমলের মুসা খান মসজিদ



খবরঃ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুঘল আমলের মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর; আর এ কাজে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার কার্জন হল এলাকার ওই মসজিদ প্রাঙ্গণে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও উপযোগী সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করে মসজিদের পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা হবে, এক্ষেত্রে মুঘল স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য ও উপকরণ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। (https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/e390219530f4 )

মন্তব্যঃ

২০০৯ সালে কায়রোতে “আস সালামু আলাইকুম” বলে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা সম্মেলনে বক্তব্য শুরু করেছিলেন এবং ঠিক সেই মুহূর্তেই আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরাকের আকাশে মার্কিন ড্রোনের গর্জন এবং কামানের গোলা মুসলিমদের রক্ত ঝরাচ্ছিল। এই “আস সালামু আলাইকুম” বলাটা ছিল ওবামার একটা নির্মম এবং অপমানজনক নোংরা রসিকতা। ঠিক একইরকমভাবে আমরা ইরাক ও আফগানিস্তানে হত্যাযজ্ঞ চালানো জর্জ ডব্লিউ বুশকে বহুবার বলতে শুনি “ইসলাম শান্তির ধর্ম”। হাদিস শুনিয়ে শাসনকাল শুরু করা বাইডেন একই ধারা অব্যাহত রাখে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসা খান মসজিদ সংস্কার করতে অনুদান দেয়াটাও এরকমই একটা নির্মম রসিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এখন অনেক বেশী সচেতন এবং ওয়াকিবহাল। বিশেষ করে গাজা এবং ইরানে ইসরায়েল আমেরিকার নজিরবিহীন আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞ দেখার পর পুরো বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের তরুণ সমাজও জেগে উঠেছে। বিভিন্ন স্কুলে, কলেজে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ভারতের পতাকা পদদলিত করা ও পোড়ানো হচ্ছে। যেকোন মিছিলে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে কালেমা পতাকা নিয়ে “আল্লাহু আকবার” স্লোগান দেয়া খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বে মুসলিমদের অভিভাবকত্বহীনতা এবং আমেরিকান আগ্রাসনের প্রতি প্রবল ঘৃণা তরুণ ও যুবক মুসলিমদের মাঝে খিলাফত শাসনব্যবস্থাকে সমাধান হিসেবে আনতে বাধ্য করছে। এই তীব্র আমেরিকা বিরোধী মনোভাব এবং ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থার বদলে খিলাফতের দাবি বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আতংক অনুভব করছে। তাই তারা মসজিদ সংস্কারের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এটা বোঝাতে চায় যে তারা আসলে আমাদের বিশ্বাস ও আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

কিন্তু আমেরিকার বোঝা উচিৎ যে “উম্মাহ” নামক যে ঘুমন্ত সিংহকে সে বোমা, সন্তানদের বাবা হারানোর আর্তনাদ, বাবা মায়ের সন্তানের লাশের ভার সইতে না পেরে আহাজারিতে জাগিয়ে তুলেছে সেই সিংহ আর ঘুমুতে যাবে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম সে ঘুমিয়ে বিরক্ত, রাগান্বিত। তাই যেই আবার তার মাথায় চাপড় দিয়ে ঘুমুতে যেতে বলবে তাকেই সে আক্রমণ করবে। উম্মাহ্‌’র সরব প্রতিনিধি এই তরুণ সমাজ এখন আর নামায রোযায় শুধু ইসলামকে দেখে না। তারা ইসলামি ব্যবস্থা খিলাফতকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে দেখে। গাজার কারো হত্যাকে সে দূর দেশে কারো মৃত্যু বলে দেখে না। দেখে নিজের ভাইয়ের অপমান হিসেবে। তার সকল ইন্দ্রিয় প্রতিশোধ নিতে চায় এই নজিরবিহীন অত্যাচারের। তার অসহায়ত্ব তাকে অস্থির করে তুলেছে। এরকম একটা জেগে ওঠা সিংহকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে তার আত্মসম্মানে যুক্তরাষ্ট্র যে আঘাত করে ফেলছে, যদি তা তারা এখনো বুঝতে না পারে তবে তার পতন হয়তো খুব অল্প সময়ের ব্যাপার। 

ইতিহাসের পট পরিবর্তনের এই দুর্লভ সময়ে বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান করা। উম্মাহ্‌’র বিশ্বাস ও আবেগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। উম্মাহ্‌’র শত্রু আমেরিকাকে শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করা। সূরা নসর-এ আল্লাহ্‌ বলছেন, “যখন আসবে আল্লাহ্‌’র সাহায্য ও বিজয়। এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহ্‌’র দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন। তখন আপনি আপনার পালনকর্তার পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।”

প্রেক্ষাপট তৈরি, শুধু দেখা যে কে আল্লাহ্‌’র পবিত্রতা ঘোষণা করে, আর কে আমেরিকার!!!!

    -    জাবির জোহান


Previous Post Next Post