খবরঃ
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএমএফের আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার একমত হওয়া শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে বাংলাদেশ জুনের মধ্যে ডিসেম্বরের বাকি থাকা কিস্তিসহ ঋণের ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাবে। (https://banglaaffairs.com/ট্রাম্পের-অভিনন্দন-বাণি/ )
মন্তব্যঃ
আইএমএফের ঋণের শর্তগুলো যেমন আয়কর-ভ্যাট বৃদ্ধি, কৃষি-শিল্প-জ্বালানী খাতসহ সর্বোপরী ভর্তুকী উঠানো, দেশীয় মুদ্রার মান কমানো, মূদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য সুদের হার বাড়ানো ইত্যাদি স্পষ্টত যেকোন দেশের জনগণের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। তারপরও বিভিন্ন দেশ বাজেট ঘাটতি মিটাতে, সামষ্টিক অর্থনীতি ঠিক রাখা কিংবা জরুরী আমদানী ব্যয় মিটানোর যুক্তি দিয়ে আইএমএফের এসব জনবিরোধী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ঋণ গ্রহণ করে। মেগাপ্রজেক্টের মেগাদূর্নীতিবাজ পতিত হাসিনা সরকার নানা শর্তে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফের কাছ থেকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ গ্রহণের চুক্তি করে। সেজন্য পতিত হাসিনা সরকার ভর্তুকী কমাতে তেলের দাম ৪৫%–৫০% বৃদ্ধি করে, গ্যাসের দাম ৮০% থেকে ১৮০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে ও বিদ্যুতের দাম ১৫%–২০%+ বৃদ্ধি করে; “market-based exchange rate” চালুর উদ্যোগ নেয় ফলে ডলারের দাম ৮৭ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়ে যায়, সুদের হার ৯% থেকে ১৩% পর্যন্ত বাড়ে। এসব নীতির ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং হাসিনা সরকার আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং ২০২৩ সালের ৫ই আগস্ট তাকে পালাতে হয়। একই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে ইউনুস সরকার জনগণ, ব্যবসায়ী ও প্রশাসন থেকে নানা চাপে পড়ে।
ফলে তারেক রহমানের মনে রাখা উচিত আইএমএফের শর্তজনিত বড় ধরনের জনঅসন্তোষের শিকার হয়ে ক্ষমতা শুধু হাসিনাকে ছাড়তে হয়নি, শ্রীলংকার রাজাপাকশে (২০২২), মিশরের হোসনী মোবারক (২০১১), তিউনেসিয়ার বেন আলী (২০১১), আর্জেন্টিনার ফার্নেন্ডো রুয়া (২০০১) সহ আছে এরকম অসংখ্য উদাহরণ।
ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রীর উচিত পতিতদের বিপরীত পথ অনুসরণ করা। তিনি বরং ইরান যুদ্ধের ক্রাইসিসের অজুহাতে আইএমএফের চাপে ১৯৮৬ সালে করা Structural Adjustment Program (SAP) বাতিল করতে পারেন। যার মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানী, ইন্টারনেটসহ নানা খাতকে বেসরকারীকরণের নামে বহুজাতিক কোম্পানীর মনোপলী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব। সততা, ন্যায়-পরায়ণতা ও দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত নিতে পারলে নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করে এলএনজি আমদানী প্রায় শুণ্যের কোটায় আনা সম্ভব। উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) মডেলের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে গ্যাস তুললে কিংবা টার্ণ-কি ভিত্তিক কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন করলে নিজেদের গ্যাসকে বিদেশী কোম্পানী থেকে আন্তর্জাতিক দামে ডলারে কিনতে হবে না। এভাবে শুধুমাত্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে ২০-২৫ বিলিয়ন ডলারের বড় অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
শুধুমাত্র ইসলামের অর্থ ও জ্বালানী নীতি সমূহ অনুসরণের খুব সহজেই এই সংকটকে মোবাবেলা করা সম্ভব। ইসলামের নীতি অনুসারে জ্বালানী-বিদ্যুৎ হচ্ছে ‘গণমালিকানাধীন’ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে ফলে এসবের ‘বেসরকারীকরণ’ নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, “আগুন, পানি, চারণভুমী এসবের মালিকানা জনগণের”। ‘ইসলাম’ সরকারকে আয়কর ও ভ্যাটের বিপরীতে ‘উদ্বৃত্ত সম্পদ ও উৎপাদন নির্ভর কর নীতি’ গ্রহণের ভিত্তি দেয়। কারণ ইসলামে আয়কর ও ভ্যাটের মত জুলুমের কর আরোপ নিষিদ্ধ। বিপরীতে ইসলামি অর্থনীতি বাস্তবায়ন করলে খারাজ, উসুর, যাকাত এবং ‘গণমালিকানাধীন সম্পদ থেকে আয়’ ইত্যাদি থেকে ব্যাপক পরিমাণে রাজস্ব আদায় সম্ভব। ইসলামের স্বর্ণ ও রৌপ্য ভিত্তিক মূদ্রানীতি সুদ ও মূল্যস্ফীতির অভিশাপ থেকে রক্ষা করবে। তাই, এসব ইসলামি নীতি গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের শাসক শুধুমাত্র জনগণের ভালোবাসাই অর্জন করতে পারবে তা নয়, বরং স্বনির্ভরতা তৈরী করে উপনিবেশবাদী আগ্রাসন থেকে নিজেকে ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে পারবে।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন
