খবর:
সামরিক কুচকাওয়াজে সশস্ত্রবাহিনীর প্রদর্শিত বিভিন্ন সরঞ্জাম, যেমন: ড্রোন, মিসাইল বা ডামি অস্ত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রলের ছড়াছড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাহিনী তৈরী করার জন্য তাত্ত্বিকভাবে আমাদের জিডিপির ৩-৪% প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া দরকার; অথচ, বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১%। সামগ্রিক অর্থনীতির আকার বাড়লেও, আনুপাতিক হারে বিগত বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা বাজেটের পরিমান প্রায় ৩০-৪০% সংকুচিত করা হয়েছে। ফলে, নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংযোজন ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয়ের জন্য যে বিপুল পরিমান অর্থের দরকার তার হিসাব কাগজে কলমেই থেকে যায়। গত দুই দশকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সামরিক বাহিনীকে বাধ্য হয়ে পুরোনো অস্ত্র ও আউটডেটেড ডিফেন্স সিস্টেমের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। (https://www.youtube.com/watch?v=slD1NoEaHis )
মন্তব্য:
বাংলাদেশের জনগণ ও সামরিক বাহিনীর দুর্ভাগ্য যে দেশের সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলো সবসময় ব্যর্থ ও দুর্নীতিগ্রস্থ সেকুলার-পুঁজিবাদি রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের রক্ষীবাহিনী হিসেবে কাজ করেছে। কৃত্রিমভাবে ভেন্টিলেশন দিয়ে টিকিয়ে রাখা এই ব্যর্থ সেকুলার রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের এই রক্ষীবাহিনীগুলো তাদের নিজেদের দলীয় স্বার্থ ও তাদের বিদেশী প্রভূদের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া আর কিছুই করেনি। যার প্রত্যক্ষ ফলাফল হল বাংলাদেশের কৌশলগত ডিফেন্স সিস্টেমের এই ভগ্ন দশা।
শাসকের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সঠিক পরিকল্পনা আসে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে, জাতি হিসেবে উচ্চতর আকাঙ্খা লালন করার মাধ্যমে এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহিতার ভয়ের কারণে; যার কোনটিই সেকুলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা যায়নি। যার ফলে, সেঁকেলে অস্ত্র হাতে ধরিয়ে দিয়ে তারা আমাদের অকুতভয় সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে ও শত্রুদেরকে ভীতসন্ত্রস্ত করার পরিবর্তে উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আর এই বিষয়টি সামনে আসলে সব সরকারই আগের সরকারের উপর দোষ চাপিয়ে দায়মুক্তি অর্জনের চেষ্টা করেছে। তাদের এই পিলোপাসিং খেলায় জনগণের জীবন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ সেনাবাহিনীকে ট্রল না করে সময় এসেছে এই সংকটের মূল হোতা সেকুলার রাজনৈতিকগোষ্ঠীকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা। কারণ, যেকোন সময় যদি বাংলাদেশ আক্রান্ত হয় তাহলে এই সীমিত সক্ষমতা নিয়েই দেশের সামরিক বাহিনী বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে, আর এই রাজনৈতিকগোষ্ঠী ‘টুপ’ করে সেকেন্ড হোমে আশ্রয় নিবে।
যখনই বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতার প্রসঙ্গ আসে, তখনই বিদেশ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয়ের ব্যাপারে আলোচনা হয়। এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় শাসনক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরা সবসময় তাদের পকেট ভারি করে এবং জনগণের অর্থকে যেনতেন ভাবে নয়-ছয় করে। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বিষয়। কিন্তু যেই প্রশ্নটি কেউই করে না- তা হল, বিদেশ থেকে সমরাস্ত্র ক্রয় করে কোন দেশ পৃথিবীতে সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে? দেশের প্রতিরক্ষার প্রধান যুদ্ধাস্ত্র ও কৌশলগত ডিফেন্স সিস্টেম কেন নিজের দেশে তৈরী করার কোন উদ্যোগ গত ৫০ বছরে নেওয়া হল না? সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতীতের কোন সরকারই কেন বাংলাদেশের সমরাস্ত্র পরিকল্পনায় শত্রুরাষ্ট্রের খবরদারিকে চ্যালেঞ্জ করলো না? জনগণের উচিত দেশের সেকুলার রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে এই ব্যাপারে কৈফিয়ত চাওয়া।
জনগনের জীবন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে সুসংহত করতে ব্যর্থ সেকুলার-পুঁজিবাদের বিপরীতে ইসলামী খিলাফত শাসনব্যবস্থায় জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি শরীয়াহ বাধ্যবাধকতার কারণে একটি “অতি-অগ্রাধিকার” খাত হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রের অন্যান্য খাতের ব্যয় সংকোচন করে হলেও সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া শরীয়াহগত ভাবে বাধ্যতামূলক। রাষ্ট্রের নিয়মিত আয় ও যাকাতলব্ধ তহবিলের পাশাপাশি গ্যাস, কয়লা, জ্বালানী তেল সহ অন্যান্য খনিজ সম্পদের আয়ের একটা বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করা হবে। ফলে, খিলাফত রাষ্ট্রে সামরিক বাজেটের জন্য বিশাল তহবিল তৈরী হবে, যা স্বল্প ও মধ্যম-মেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে ব্যয় করা হবে। বর্তমান আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও সামরিক সাপ্লাই চেইনের বৈশ্বিক বিস্তৃতির কারণে কোন দেশের পক্ষে সামরিক খাতে দেশীয়ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া কার্যত অসম্ভব। কিন্তু, শরীয়াহ বাধ্যবাধকতার কারণে আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র প্রধান প্রধান যুদ্ধাস্ত্র ও কৌশলগত সমরাস্ত্র তৈরীর নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করবে এবং ‘by any means’ সেটা সফল করা হবে, ইনশাআল্লাহ্। সেদিন, কাফির-মুশরিক শত্রুদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হবে। মহান আল্লাহ বলেন, “আর প্রস্তুত রাখ তোমাদের সামরিক পরাক্রম শক্তি ও ক্ষীপ্র অশ্বসমূহ হতে, যেন এর দ্বারা আল্লাহ্’র শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হয়” (সূরা আল-আনফাল:৬০)।
- রিসাত আহমেদ
