খবর:
বাংলাদেশ বিমান এবং মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে ১৪টি বিমান ক্রয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটির ইতিহাসে বৃহত্তম বহর সম্প্রসারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই চুক্তির অধীনে বিমান বাংলাদেশ দশটি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। (https://bangla.thedailystar.net/news/bangladesh/news-3920876)
মন্তব্য:
"এভিয়েশন মাইলফলক" হিসেবে এই চুক্তিকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হলেও ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের এই বিমান-বোয়িং চুক্তিটি মূলত নির্বাচনের দুইদিন আগে করা ‘U.S.-Bangladesh Agreement on Reciprocal Trade (ART)’ চুক্তির বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর আগে এই চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান গম অন্য বাজারের দরের থেকে ৩৫% বেশী দামে কেনা হয়েছে। চুক্তির কারণে আমেরিকা, ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের অনুমতি হরমুজ দিয়ে তেল আনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও (পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশ এনেছিল) অন্য উৎস থেকে তেল গ্যাস কেনায় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা বেশী লেগেছে। আইএলও (ILO) মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে ফলে শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা আরও কমেছে। এছাড়া আমেরিকান পণ্য প্রবেশের পথ সহজ করতে সরকার বেশ কিছু আইন ও নীতি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে ফলে দেশের ঔষধ শিল্প, স্বাস্থ্যখাত, প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা, সর্বোপরী জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। এসবের পাশাপাশি বোয়িং চুক্তিটি মূলত ART এর মাধ্যমে আমেরিকার ২২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সম্পদ শোষণের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু - যার মধ্যে আরও রয়েছে রয়েছে মার্কিন এলএনজি (১৫ বিলিয়ন ডলার) এবং কৃষিপণ্য (৩.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা। অর্থাৎ আদতে এটিকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বলা হলেও ART কার্যত বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের ‘নিষেধাজ্ঞা’ বা ‘Sanction’।
যদি এখনই এটিকে বাতিল না করে হয় তাহলে আমেরিকার জন্য এই "চুক্তিটি" এমন এক লক্ষ্য অর্জন করছে যা প্রথাগত Sanction দিয়েও সম্ভব নয়: আর তা হলো বাংলাদেশের ‘total policy capture’। প্রথাগত স্যাংশনকে জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা যায় না, এতে শত্রুতা দৃশ্যমান হয়। অথচ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চাপিয়ে দেয়া এধরণের মরণাস্ত্রের থেকেও ভয়ংকর ব্যবস্থাকে স্যাংশন না বলে ‘চুক্তি’ বলে দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। বাস্তবে এধরণের চুক্তি শুধু দেশের মানুষ ও দেশকে শৃংখলে আবদ্ধ করে তা নয়, শাসকদের জন্য এগুলো হয়ে উঠে ‘আত্মঘাতী মালা’। ইতিহাস সাক্ষী, হাসিনা থেকে ইউনূস কিংবা মুসলিম দেশসমূহের অন্যান্য শাসকরা যে-ই এরকম ‘আত্মঘাতী মালা’ গ্রহণ করেছে, সে দ্রুত তার কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়ার সামর্থ অবরুদ্ধ হতে দেখেছে এবং তার অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা বিলীন হয়েছে ফলে দ্রুতই সে ক্ষমতা হারিয়েছে।
আমেরিকার মত ডাকাত, অনৈতিক, ইসলাম-বিদ্বেষী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত স্পষ্ট হওয়ার পরও; এবং স্পষ্টত ইরানের কাছে হেরে আমেরিকার দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ার পরও যদি আমাদের শাসকগোষ্ঠী আমেরিকার গোলামির মালায় নিজেকে তলিয়ে ফেলতে চায় তা ‘রুয়াইবিদাত্বের’ তথা নির্বোধতার, নির্বুদ্ধিতার নিকৃষ্টতম উদাহরণ হয়ে যাবে। দেশের শাসকের বুঝা উচিত প্রকৃত নেতৃত্ব সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডার এই প্রতারণামূলক "নির্দেশনায়" নেই, বরং তা নিহিত রয়েছে ‘ইসলামী আকিদাহ্’র মাঝে। ইসলামের সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পররাষ্ট্রনীতি ইসলামের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এমন সাহস এবং প্রতি-কৌশল (counter-mechanism) প্রদান করে যা দিয়ে এই শোষক বিদেশি চুক্তিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব। ইসলামের শ্বাসত ব্যবস্থার পূর্ণাংগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন শাসক মুসলিম ভূখণ্ডের বিশাল সম্পদ এবং কৌশলগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে এই সাম্রাজ্যবাদী অশুভ শক্তিকে পরাজিত করতে পারেন এবং বিশ্বমঞ্চে ইসলামের মর্যাদা ও নূর (আলো) পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে নিজেকে সন্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, “...তিনি তাদের ওপর থেকে বোঝা এবং শৃঙ্খলগুলো নামিয়ে দেন যা তাদের ওপর চেপে ছিল” (সূরা আল-আ'রাফ : ১৫৭)।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন
