বেকার যুবকদের ৩২% উচ্চশিক্ষিত



খবর:

২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩.৯৫ শতাংশ। একই অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) এই হার ছিল ৪.৪৯ শতাংশ। রাজনৈতিক অস্থিরতা, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হওয়াও এই বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। (https://dailynayadiganta.com/printed-edition/zO3s8DQuGafy)


মন্তব্য:

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এক গভীর বৈপরীত্যে নিমজ্জিত। প্রথম বড় বৈপরীত্যটি হলো: দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, কিন্তু চাকরির নিরাপত্তা কমছে; যেখানে উচ্চশিক্ষা মানেই অধিক কর্মসংস্থান হওয়ার কথা, সেখানে ২০২৫ সালের বিবিএস (BBS) রিপোর্ট অনুযায়ী শুধু ঢাকা বিভাগেই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দাবি করছে তারা দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে, অথচ শিল্পখাত বলছে তারা ‘জব-রেডি’ কর্মী পাচ্ছে না। এই পার্থক্যের কারণে একদিকে স্থানীয় প্রকৌশলীরা বেকার থাকছে, অন্যদিকে টেলিকম বা বড় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্টে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা প্রতি বছর প্রায় ৫-৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স লুণ্ঠন করে নিয়ে যাচ্ছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক নয়, বরং সাংঘর্ষিক।

এই বৈপরীত্যগুলো কোনো আকস্মিক প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে গৃহীত নতজানু পররাষ্ট্রনীতির একটি সরাসরি কুফল। যখন একটি রাষ্ট্র নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা স্বাধীনভাবে না করে IMF বা World Bank-এর মতো পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানের ডিক্টেশনে চলে, তখন সেই দেশ কখনোই একটি প্রকৃত শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে না। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক পলিসি মূলত এই নব্য-উপনিবেশবাদী শর্ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা রাষ্ট্রকে Structural Adjustment Program (SAP) অনুসরণ করতে বাধ্য করছে। এর ফলে কৃষিতে ভর্তুকি কমানো এবং রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন করার চাপে দেশ এক ভয়াবহ De-industrialization প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইএলও (ILO) এবং বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর ফলে শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের হার আশঙ্কাজনকভাবে ১১.৫%-এ নেমে এসেছে, অথচ কৃষি খাতে কর্মসংস্থানের হার উল্টো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪%-এ।

এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতির মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে চিরকাল পশ্চিমাদের জন্য একটি Cheap Labor Source বা সস্তা শ্রমের বাজারে পরিণত করে রাখা। বর্তমান বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮১.৫% আসে কেবল গার্মেন্টস (RMG) খাত থেকে, যা মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর সস্তা পোশাকের জোগান দেয়। কিন্তু রাষ্ট্র কখনোই নিজস্ব ভারী ও সমরভিত্তিক শিল্পায়ন (Heavy and War-based Industrialization) গড়ে তোলার সাহস বা সক্ষমতা দেখায়নি, কারণ এতে পশ্চিমা ও ভারতের ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে। এই নিদারূণ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো এই উপনিবেশবাদীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ভেঙে শক্তিশালী ইসলামী রাজনৈতিক ভিশনকে গ্রহণ করা। ইসলাম তার রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফতের মাধ্যমে বিদেশি শক্তির শর্ত ও উপনিবেশিক এজেন্ডা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব প্রযুক্তি ও শিল্প কাঠামো গড়ে তুলবে, যা উচ্চশিক্ষিত নাগরিকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।

    -    আবু ইব্রাহীম

Previous Post Next Post