কেন কে-ড্রামা (K-Dramas) হয়ে উঠেছে বিশ্বের মানুষের আবেগের আশ্রয়



খবর:

​দর্শকরা অবশ্য পশ্চিমা (Western) ড্রামাগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলছে না; তারা স্রেফ একটি ভারসাম্য খুঁজছে। “থ্রিলার, ক্রাইম বা ডার্ক কমেডির জন্য আমি এখনও পশ্চিমা শো উপভোগ করি, কিন্তু কোরিয়ান ড্রামা আমি ভালোবাসি কারণ এগুলো আমাকে আবিষ্ট করে রাখে,” বলেন জুনায়েদ ইসলাম। তিনি আরও যোগ করেন, “গল্পগুলো খুব সহজ এবং বোধগম্য হওয়ায় আমাকে মাথা খাটানোর জন্য খুব একটা চাপ নিতে হয় না, যা আমার কাছে অনেক বেশি নিরাপদ এবং উষ্ণ মনে হয়।” (www.thedailystar.net/life-living/news/why-k-dramas-became-the-worlds-emotional-escape-4161156)

মন্তব্য:

জেন জি এবং আলফা জেনারেশন এক অদ্ভুত ‘পেন্ডুলাম’-এর মতো দুলছে। জীবনের একটি সুনির্দিষ্ট সার্থকতা বা Meaning of life খুঁজে পাওয়ার ব্যাকুলতায় তারা একদিকে পশ্চিমা ব্যক্তিকেন্দ্রিকতায় নিজেকে বিলীন করছে, আবার পরক্ষণেই কোরিয়ান ড্রামার রঙিন ফ্যান্টাসিতে ডুবে থাকছে। ডিজিটাল গোলকধাঁধায় জেন জি এবং আলফা জেনারেশনের পেন্ডুলামের মতো দোল খাওয়া একটি Existential Crisis। এই প্রজন্মকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিকলাঙ্গ বানানোর  নেপথ্যে রয়েছে ডেরিডা ও ফুকোর মতো তাত্ত্বিক বা Perpetrators, যাদের দর্শনকে ঐতিহাসিকভাবে CIA এবং ফোর্ড ফাউন্ডেশনের মতো Colonial Patronizers-রা অর্থায়ন করেছে। ডেরিডার সেই বিষাক্ত দাবি- “বাস্তবতাকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ভাগ করা মূলত শোষণের হাতিয়ার” (Categorizing reality privileges one concept and marginalizes others)- আজ তরুণদের মনে এই বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দিয়েছে যে, নৈতিকতা বা সত্য বলতে কিছুই নেই। এর ফলে পশ্চিমা বিশ্বে Gender Fluidity মহামারী আকার ধারণ করেছে এবং আমেরিকায় প্রতি ১০ জন তরুণের মধ্যে ৪ জনই দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতায় ভুগছেন। বাংলাদেশেও এই প্রভাব স্পষ্ট, যেখানে প্রায় ২৮% তরুণ তীব্র একাকীত্বে ভুগছেন এবং “ভাল্লাগেনা” শব্দটি আজ তাদের জাতীয় স্লোগাণে পরিণত হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে এক গভীর Colonial Agenda, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসগুলো অনেকটা আমেরিকার “স্যাটেলাইট” হিসেবে কাজ করছে। এই দূতাবাসগুলো কোরিয়ান ওয়েভ বা ‘হাল্লু’ (Hallyu)-কে ব্যবহার করে এক ধরণের “Clean Colonialism” বা পরিচ্ছন্ন উপনিবেশবাদ ফেরি করছে। মুসলিম দেশগুলোতে এই এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে নেটফ্লিক্সের মতো প্ল্যাটফর্ম এবং দূতাবাসের 'কালচারাল গ্র্যান্টস'-এর মাধ্যমে। উদাহরণস্বরূপ, নেটফ্লিক্সের ‘এলিট’ বা ‘সেক্স এডুকেশন’-এর মতো সিরিজগুলো মুসলিম সমাজের চিরাচরিত নৈতিক কাঠামোকে ভাঙার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আবার কোরিয়ান দূতাবাসের স্পন্সরশিপে পরিচালিত ‘কে-পপ ফেস্টিভ্যাল’ বা ‘ড্রামা স্ক্রিনিং’ তরুণদের সামনে এক অবাস্তব Simulacra হাজির করে, যা তাদের শিকড়বিচ্ছিন্ন করে তোলে। সমাজকে অসংখ্য ক্ষুদ্র পরিচয় বা Identity Politics-এ খণ্ডিত করার এই নব্য-উপনিবেশবাদী কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম উম্মাহ্‌’র রাজনৈতিক ঐক্য বা Khilafah-র মতো সামষ্টিক জাগরণকে অসম্ভব করে তোলা।

এই অস্থির দোলার বিপরীতে ইসলাম একটি Fixed Standard বা স্থায়ী ধ্রুবক হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা এই মানসিক অস্থিরতার প্রকৃত সমাধান। Post-Modernism যেখানে বলে “সবই আপেক্ষিক” (Moral Relativism), ইসলাম সেখানে বাস্তবতাকে ধ্রুব হিসেবে তুলে ধরে। পবিত্র কুরআন-এ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকে চিন্তাশীলদের জন্য পরম নিদর্শন হিসেবে পেশ করে বলেন: “নিশ্চয় আসমান ও যমীন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তা করে” (সূরা আলি-ইমরান : ১৯০)। 

ইসলামের এই Divine Alignment তরুণদের সেই মানসিক প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতা দান করে, যা নেটফ্লিক্সের ডিস্টোপিয়া বা দূতাবাসের সফট পাওয়ার প্রজেক্ট দিতে সক্ষম নয়। যখন একজন তরুণ বুঝতে পারে যে তার জীবনের প্রকৃত সার্থকতা কোনো বিদেশি শক্তির প্রমোট করা Hyper-reality-তে নেই, বরং স্রষ্টার দেওয়া শাশ্বত বিধানেই নিহিত; তখনই সে এই “Post-modern Chaos” থেকে মুক্তি পেয়ে জীবনের আসল নোঙর খুঁজে পায়।

    -    আবু ইউসূফ

Previous Post Next Post