খবর:
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’র সেই বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) তার কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে স্থান পায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওই আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’-সংক্রান্ত দুর্নীতির প্রতিবেদনও (www.banglatribune.com/national/945294/রূপপুরের-সেই-‘বালিশ’-জাদুঘরে-রাখার-কথা-বললেন)
মন্তব্য:
রূপপুরের পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতির প্রতীক সেই “বালিশকে” যেমন জাদুঘরে পাঠানো উচিত, ঠিক তেমনি দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের জন্মদাত্রী- সেকুলার পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থাকেও জাদুঘরে পাঠানো উচিত। কারণ এই শাসনব্যবস্থার ছদ্মাবরণে মুসলিমদের শ্বাসনালীর উপর দিয়ে চলন্ত শত্রুর (কাফির-সাম্রাজ্যবাদিদের) এই কনভয়কে (convoy) চিরতরে থামানোর মাধ্যমে জনগনকে কয়েক শতাব্দির নিষ্পেষন থেকে মুক্তি দিতে হবে। তাই, জনগণকে সজাগ থাকতে হবে, শুধুমাত্র বাছাই করা দুর্নীতির বর্ণনা শুনে যাতে তাদের দৃষ্টি মূল কারণ থেকে সরে না যায়।
বাংলাদেশের সরকারী অর্থের লুটপাট ও দুর্নীতির দায় কোন একক সরকারের নয়, বরং ছোট-বড় সকল সেকুলার-গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক গোষ্ঠী এর সাথে জড়িত। পলাতক হাসিনার সরকারকে অজুহাত বানিয়ে তারা যেন দায়মুক্তি না পায় তার ব্যাপারে জনগনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আগের সরকারের উপর সকল ব্যর্থতার দায় চাপানো বাংলাদেশে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যদিও জনগণ তা মোটেও পছন্দ করেনা। জনগণের উচিত সরকারকে প্রশ্ন করা যে বিদ্যমান যেকোন সমস্যার ব্যাপারে এই সরকারের diagnosis কী, মূল কারণ হিসেবে সরকার কোন বিষয়টিকে চিহিৃত করেছে, সেই কারণকে গোড়া থেকে সমাধান করার জন্য সরকারের কর্মপরিকল্পনা কী এবং সেই কর্মপরিকল্পনা কি যৌক্তিক ও ইসলামের মানদন্ডে গ্রহণযোগ্য কিনা? তাহলেই আগের সরকারের উপর দায় চাপানোর ভূত মাথা থেকে নেমে যাবে।
রূপপুরের সেই বালিশকে জাদুঘরে রাখার কথা বললেও, বালিশের নামে আত্মসাৎ করা টাকার মধ্যে কয় টাকা বর্তমান সরকার উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমা করেছে তার কোন হিসাব দেয়া হয়নি। পলাতক হাসিনা সরকারের আমলের হাজার-হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির সাথে জড়িতদের কাছ থেকে তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে জমা না করে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার বিরাট অংশ বর্তমান সরকারপন্থীদের হস্তগত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগের কোন যুক্তিসঙ্গত জবাব এই সরকার দেয়নি। এর মধ্যেই আবার চিহিৃত লুটেরাদেরকে দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে পুনর্বাসন করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সরকারের এসব কর্মকান্ডের ‘লক্ষণ’ বলছে যে লুটপাট ও দুর্নীতির খঢ়গ থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়ার কোন বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান তৈরী করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
- রিসাত আহমেদ
