যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: ফ্লোরিডার জোড়া খুনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

 


খবর:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদ লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টির হত্যার ঘটনায় কমিউনিটি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, অফ-ক্যাম্পাস বাসস্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। বিশেষ করে যারা রুমমেটের সঙ্গে বসবাস করেন, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে আতংকিত না হয়ে সচেতন ও সতর্ক থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহবান ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের। (https://www.mzamin.com/article/13142/ফ্লোরিডার-জোড়া-খুনে-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা)

মন্তব্য:

আমেরিকায় পড়তে আসা, কাজ করতে আসা, “উন্নত” জীবনের আশায় কিংবা “আমেরিকান ড্রিম” পূরণের আশায় আমেরিকায় হাজির হওয়া মানুষগুলো শুধু কি সচেতন ও সতর্ক থাকলে শেষরক্ষা হবে?? যেখানে আমেরিকার Gallup (গ্যালপ) এবং U.S. Census Bureau-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা (২০২৩-২৪) অনুযায়ী, প্রায় ১৮% (প্রতি ৬ জনে ১ জন) আমেরিকান জানিয়েছেন যে তারা বর্তমানে ডিপ্রেশনের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছেন বা এই সমস্যায় ভুগছেন। আমেরিকার CDC (Centers for Disease Control and Prevention)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৮,৮২৪ জন। বন্দুক হামলার তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা Gun Violence Archive (GVA) এবং Pew Research Center-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর গুলোতে গড়ে ৪৩,০০০ থেকে ৪৮,০০০ মানুষ মারা যায়। Gun Violence Archive-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে আমেরিকায় বছরে গড়ে ৬০০-এর বেশি 'ম্যাস শুটিং'-এর (যেখানে অন্তত ৪ জন হতাহত হয়) ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একজন বিদেশ বিভূঁই থেকে আসা মানুষ কিভাবে বুঝবে যে তার রুমমেট সেই ৬ জনের একজন কিনা যে মানসিক সমস্যায় ভুগছে? অর্ধলক্ষ মানুষ যে সমাজে প্রতি বছর আত্মহত্যা করে, সেই সমাজে তো নিশ্চিতভাবে তার চেয়েও বহুগুণে মানুষ প্রায় যেকোন সময় আত্মহত্যা করার মন-মানসিকতা নিয়ে ঘোরে। এরকম মানুষ তো শুধু নিজেকেই হত্যা করে তা না, তার আগে অনেকেই আশেপাশের মানুষ এমনকি নিজের পরিবারকেও ছেড়ে দেয় না। এরকম একটা সমাজে আমরা কতটুকু সচেতন ও সতর্ক হয়ে থাকতে পারব? আর কতকাল আমরা সমাজের মত বড় ফ্রেমটাকে অবহেলা করে শুধু “উন্নত” জীবনের আশায় নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা করব?

আসুন আমরা বড় চিত্রটা দেখার চেষ্টা করি। যে উন্নত সমাজের অংশ হওয়ার জন্য আমরা আমাদের মেধাবী ও পরিশ্রমী ছেলে-মেয়েদের পাঠাচ্ছি, সেই উন্নয়নের সংজ্ঞাটা আসলে কিভাবে নির্ধারিত হয়? ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বা না করে ভালো চাকরি। ভালো খাওয়া দাওয়া। ঘোরা ফিরা। অর্থাৎ পুরো উন্নয়নের সংজ্ঞায়নটা হয়েছে অর্থনৈতিক এবং বস্তুকেন্দ্রিক প্রাপ্তির উপর ভিত্তি করে। শুধু বস্তুকেন্দ্রিক বা অর্থনৈতিক প্রাপ্তির উপর ভিত্তি করে কি মানসিক প্রশান্তি পাওয়া সম্ভব? হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি' গবেষণা বলছে সম্ভব না। কারণ এখানে “Sense of Purpose” খুঁজে পাওয়া যায় না। একজন বস্তুগত প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় হেরে হতাশ। আরেকজন জিতে হতাশ কারণ এরপরে আরো বস্তুগত প্রাপ্তির পিছনে দৌড়ানো ছাড়া সে আর কিছু খুঁজে পায় না।

ইসলাম আমাদেরকে প্রকৃত উন্নয়নের সংজ্ঞা দেয় এবং এই মিসিং “Sense of Purpose”কে খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কারণ ইসলামের “Sense of Purpose” হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা-কে সন্তুষ্ট করার জন্য জীবনধারণ করা। তাকে খুশি করার অংশ হিসেবে চাকরি করা, পরিবারের কাঠামো মেনে চলা, প্রতিবেশীর খোঁজ রাখা, দরিদ্রকে যাকাত দেয়া ইত্যাদি। অর্থাৎ ইসলাম শুধু বস্তুগত উন্নয়নকেই একমাত্র উন্নয়ন হিসেবে আখ্যা দেয় না, বরং একটি সমাজের সামগ্রিক ভারসাম্যকে ঠিক রাখতে মানব জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ  মূল্যবোধ যেমন: আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা, মানবিকতা মূল্যবোধকেও গুরুত্ব সহকারে সমাজে বজায় রাখে। এতে করে একটা সমাজ এর মধ্যে প্রশান্তি (Tranqulity) বিরাজ করে। একেই বলে সামগ্রিক বা প্রকৃত উন্নয়ন। কিন্তু আজকে আমরা মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও সেই প্রকৃত উন্নয়নের দেখা পাচ্ছি না। কারণ আমরা আমাদের সমাজেও আমেরিকা থেকে ধার করে বস্তুকেন্দ্রিক প্রাপ্তিকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছি। তাতেও সফলতা না পেয়ে একটা সর্বগ্রাসী রাক্ষুসে সমাজে আমরা আমাদের মেধাবী ও পরিশ্রমীদের ঠেলে দিচ্ছি। একমাত্র ইসলামি শাসনব্যবস্থা খিলাফত হবে আমাদের মেধাবী ও পরিশ্রমীদের রক্ষাকবচ কারণ তার “Sense of Purpose” হচ্ছে স্রষ্টার সন্তুষ্টি।  

"যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" [সূরা মুলকঃ ১৪]

    -    জাবির জোহান

Previous Post Next Post