"বাংলাদেশে দরকার গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, ভোটে কি তা হবে"- আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের নিবন্ধ

 


খবরঃ

.. যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিতবাংলাদেশের দরকার একটি গণতান্ত্রিক পুনঃস্থাপন: নির্বাচন কি তা দিতে পারবেশিরোনামের .. নিবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এর মধ্য দিয়ে দেশটি কয়েক দশকেরপ্রতিশোধের রাজনীতিরঅবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার চেষ্টা করছে ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নোবেল বিজয়ী . মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রমজান মাস শুরুর আগেই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি চাপের মুখে ছিলেন.. বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারির ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল হতে পারে বিএনপির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন.. (https://samakal.com/bangladesh/article/329884/বাংলাদেশে-দরকার-গণতান্ত্রিক-নবযাত্রা-ভোটে-কি-তা-হবে)

মন্তব্যঃ 

বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে চ্যাথাম হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়াসহ বুদ্ধিজীবি মহলের মধ্যে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়েছেবাংলাদেশের সরকারগুলোর বৈধতা মূলত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে ধারণাটি শুধু বাস্তবতা বিবর্জিত নয় বরং একটি ভ্রান্ত প্রোপাগান্ড শেখ হাসিনার শাসনকালকে (২০০৯-২৪) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সেরা সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয় মেগাপ্রকল্প নির্ভর এই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আমেরিকাসহ উপনিবেশবাদী দেশগুলোর আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বদ্ধিজীবিরা অলৌকিক অর্থনৈতিক রূপান্তর হিসেবে চিহ্নিত করেছিল (বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশেঅলৌকিকঅর্থনৈতিক রূপান্তর, একাত্তর, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন কি হাসিনার শাসনকে বৈধতা দিয়েছে? না হাসিনা সরকারের তথাকথিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তার জুলুমের শাসনকে শুধু বৈধতাই দেয়নি, বরং একই সাথে বাংলাদেশে সেকুলার রাজনীতির ফ্লাগশিপ দল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে ১৫ বছর একচ্ছত্র শাসনকারী দলটির নেতৃত্বকে এখন বিদেশে অবস্থান করে ভাড়া করা লোক কিংবা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে (বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ মাটিকাটা শ্রমিক ভাড়া করে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ইত্তেফাক, ০২ জুন ২০২৫)

চ্যাথম হাউসের নিবন্ধে এই বাস্তবতার কোন রিফ্লেকশন আছে কি? নাই কারণ, চ্যাথাম হাউসের মত বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত উপনিবেশবাদীদের স্বার্থ রক্ষার প্রোপাগান্ডা মেশিন যারা উপনিবেশবাদীদের ন্যারেটিভ দিয়ে আমাদের চিন্তা এবং রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে এইসকল উপনিবেশবাদীদের প্রোপাগুন্ডাকে অতিমূল্যায়ন আমাদের ভূখন্ডের উপর উপনিবেশবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্যের প্রমাণ যা চিন্তাগতউপনিবেশবাদ ছাড়া আর কিছুই নয় কোন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি কি বিদেশী বিশেষ করে উপনিবেশবাদী প্রতিষ্ঠানের চোখে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যত দেখতে পারে? কোন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত সঠিকভাবে বুঝতে হলে সেই দেশের মানুষের বিশ্বাস এবং আবেগকে সঠিকভাবে অনুধান করা গুরুত্বপূর্ণ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা যদি সেই দেশের মানুষের বিশ্বাস এবং আবেগের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয়, তবে সেই দেশে সামাজিক এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতে পারে না

ব্যাক্তিগত স্তরে অনেক অন্যায় অপরাধের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার পরেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস হচ্ছে ইসলাম তারা ইসলামী শাসন (খিলাফত) ব্যবস্থার মাধ্যমে শাসিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্খা ধারন করে বিস্তারিত জানতে দেখুনঃ দেশে শরিয়া আইন চায় ৮২ ভাগ মুসলমান!, ntvbd.com, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ উল্লেখ্য, এই তথ্যটি ২০১৩ সালের যদি বর্তমানে একই প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে জরিপ চালানো হয় ফলাফল কেমন আসবে তা সমাজ সম্পর্কে সচেতন যেকোন ব্যক্তিই ধারনা করতে পারে এই দেশের মানুষের বিশ্বাস এবং আকাঙ্খার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন ব্যতীত দেশে স্থিতিশীল সমাজ নিশ্চিত করা যাবে কি? দেশের মানুষের বিশ্বাস এবং আকাঙ্খার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিই হওয়া উচিত এই মুহূর্তের একমাত্র রাজনৈতিক এজেন্ডা

    -    মো: সিরাজুল ইসলাম


Previous Post Next Post