BTS World Tour 2026: বাংলাদেশ কি অবশেষে সুযোগ পাচ্ছে?

 


খবর:

অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব সফরে বের হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। প্রায় চার বছরের বিরতির পর, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে দক্ষিণ কোরিয়া কনসার্টের মাধ্যমে শুরু হতে যাচ্ছে তাদের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এই সফর এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপজুড়ে ৭০টিরও বেশি শো নিয়ে মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। তবে, এই সফরের তালিকায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাম না থাকায় স্থানীয় ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, বিটিএস কি বাংলাদেশে আসবে?

(https://m.youtube.com/watch?v=S6HbgZ8VZmA )

মন্তব্য:

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কে-পপের বিস্তার আসলে সাংস্কৃতিক উপনিবেশবাদ, যেখানে Popular Culture একটি সফট পাওয়ার হিসেবে কাজ করে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কে-পপ শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। এই অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক তরুণ ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন ব্যবহার করে, যার ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোরিয়ান কনটেন্ট খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইউটিউব ও স্পটিফাইয়ের মতো প্ল্যাটফর্ম কে-পপ সংগীতকে আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় করতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। উদাহরণস্বরূপ, BTS–এর গান Dynamite এবং BLACKPINK–এর গান How You Like That প্রকাশের পর ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতে দ্রুত ট্রেন্ডিং হয় এবং কোটি কোটি ভিউ অর্জন করে।

কে-পপ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শক্তিশালী ফ্যানডম সংস্কৃতি। কে-পপ ভক্তরা শুধু গান শোনে না; তারা তাদের প্রিয় শিল্পীদের কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফ্যান ক্লাব তৈরি করে এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালায়। উদাহরণস্বরূপ, BTS–এর ভক্তরা নিজেদের ARMY নামে পরিচয় দেয় এবং বিভিন্ন দেশে বড় বড় ফ্যান কমিউনিটি গড়ে তুলেছে। একইভাবে BLACKPINK–এর ভক্তরা BLINK নামে পরিচিত এবং তারা নিয়মিত বিভিন্ন অনলাইন ফ্যান প্রজেক্ট আয়োজন করে। এই ফ্যানডম সংস্কৃতি কোরিয়ান সংগীত ও সংস্কৃতির প্রভাবকে আরও বিস্তৃত করেছে।

এই প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে কোরিয়ান সংগীত ও নাটকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক তরুণ Crash Landing on You বা Squid Game–এর মতো কোরিয়ান নাটক দেখে কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোরিয়ান ফ্যাশন, ভাষা, সংগীত ও জীবনধারার অনুকরণ এখন সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণ কোরিয়ান নাম ব্যবহার করা, কোরিয়ান স্টাইলের পোশাক পরা বা কোরিয়ান ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

কে-পপ সংস্কৃতির অনুকরণ ব্যক্তিগত ও সামাজিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, তরুণদের মধ্যে পরিচয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে, কে-পপ আইডলদের জীবনধারা দেখে অনেকের মধ্যে অবাস্তব সৌন্দর্য ও জীবনধারার মানদণ্ড তৈরি হচ্ছে। অনুকরণ বা আসক্তি তরুণদের আচরণ, চিন্তা ও সামাজিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলছে। কে-পপ তারকাদের প্রতি অতিরিক্ত মোহে আবদ্ধ অনেক মুসলিম তরুণ-তরুণীদের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হচ্ছে।

পুঁজিবাদী নীতির কারণে বহু ডিজিটাল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম মুসলিম দেশগুলোতে অবাধে কাজ করছে, যা কোরিয়ান সাংস্কৃতিক পণ্য ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করছে। একইভাবে বিভিন্ন মুসলিম শহরে কে-পপ কনসার্ট আয়োজন করা হচ্ছে, যা তরুণদের এই বাজারে আরও জড়িয়ে ফেলছে। অন্যদিকে, একই রাষ্ট্রগুলো “ইসলামি উগ্রবাদ” দমনের নামে নানা কর্মসূচি চালায়, যা এক ধরনের দ্বৈত মানদণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। জাতীয়তাবাদকে কেবল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, অথচ কোরিয়ান সংস্কৃতির ব্যাপক অনুপ্রবেশ অবাধে চলতে দেওয়া হয়।

ইসলামের স্বর্ণযুগে অর্থাৎ খিলাফতের অধীনে মুসলিম সভ্যতা জ্ঞান, সংস্কৃতি ও নেতৃত্বে অত্যন্ত উন্নত ছিল। আব্বাসীয় খিলাফতের সময় বিশাল অনুবাদ আন্দোলন পরিচালিত হয়েছিল। তখন গ্রিক, ভারতীয় ও পারস্য সভ্যতার জ্ঞানভান্ডার থেকে মূল্যবোধ-নিরপেক্ষ ও ব্যবহারিক জ্ঞান (যেমন গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান) গ্রহণ করা হলেও, ইসলামি আক্বীদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক চিন্তা-ধারণা বাছাই করে বাদ দেয়া হতো। শারিয়াহ্‌’র সঙ্গে সাংঘর্ষিক সাংস্কৃতিক উপাদান রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

এই ইতিহাস স্মরণ করানোর উদ্দেশ্য কেবল অতীত স্মরণ নয়; বরং মুসলিম দেশগুলোর সাংস্কৃতিক সুরক্ষার জন্য একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজে বের করা। কুরআন থেকে আমরা দেখতে পাই মুসা (আঃ)-এর দোয়া “হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের জন্য পরীক্ষার বস্তু করো না এবং তোমার রহমতে আমাদেরকে অবিশ্বাসী সম্প্রদায় থেকে রক্ষা কর” (সূরা ইউনুস: ৮৫–৮৬)।

    -    আবু ইউসুফ


Previous Post Next Post