খবরঃ
বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীতে ব্যতিক্রমধর্মী ও গর্বের এক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার বলে একসঙ্গে ৫৪ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে আকাশ থেকে ফ্রি ফল প্যারাসুট জাম্প সম্পন্ন করেছেন।এই ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নেন বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুর রহমানসহ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত প্যারাট্রুপাররা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক জাতীয় পতাকা বহন করে ফ্রি ফল প্যারাসুট জাম্প, যা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্তির জন্য নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫৪ জন সেনা সদস্যের এই জাম্প আয়োজনটি পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই প্যারাসুট জাম্প শুধু একটি ক্রীড়া বা সামরিক কৌশল প্রদর্শন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, সাহস এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রতিফলন।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে সহায়ক হবে। (https://dailyinqilab.com/national/news/842984)
মন্তব্যঃ
প্যারাসুট জাম্পে বিশ্বরেকর্ড করার এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, শত্রুদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করার ও তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঈমানী চেতনা, সাহস, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা সবই দেশের মুসলিম সামরিক বাহিনীর রয়েছে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের পশ্চিমা অনুগত ধর্মনিরেপক্ষ শাসকেরা তাদেরকে ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে, আমাদের সামরিক বাহিনী “UN Peacekeeping” বা জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কাফিরদের স্বার্থ রক্ষায় ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে, অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সীমান্ত সুরক্ষা ও অখণ্ডতা রক্ষায় লেবাননে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাফার জোনে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু তারা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, ইউঘুর ও মায়ানমার সহ বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও নিপীড়িত মুসলিমদের স্বার্থরক্ষায় কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না।
অথচ কাফির-মুশরিক শত্রুদের উপযুক্ত ডিটারেন্ট হিসেবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সামরিক বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বিভিন্ন সময়ে প্রমাণিত। ফিলিস্তিনী মুজাহিদীনদের ছোট্ট একটা দল অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্রের দম্ভ ও অপরাজেয়তার বেলুনকে যদি চুপসে দিতে পারে তাহলে মুসলিম দেশের সুসজ্জিত সামরিক বাহিনীর অভিযানের মুখে ইসলামের শত্রুদের কি অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। অথচ ইসলাম ও মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতার ব্যবহারের পেছনে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দালাল শাসকেরা। তারা বিভিন্ন সামরিক চুক্তি, যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রতিরক্ষা সংলাপের মাধ্যমে আমাদের সামরিক বাহিনীকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পরিবর্তে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে, আর মুসলিমদের বিষয়ে তাদেরকে ব্যারাকে বন্দি রেখেছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পদপ্রার্থী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের কেউই তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক বাহিনীকে আমাদের শত্রু রাষ্ট্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার ও শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয় নি।
আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রকৃত বিশ্ব রেকর্ড তৈরির সুচনা সেদিন হবে, যেদিন তারা দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সহায়তা প্রদান করে মুসলিম উম্মাহ্‘কে পুনরায় বিজয়ের পথে পরিচালিত করবে এবং বাংলাদেশ সহ সমগ্র মুসলিম ভূখন্ডে কাফির-মুশরিক ও ঔপনিবেশিক শক্তিসমূহের কর্তৃত্বকে প্রকম্পিত এবং চূর্ণ বিচূর্ণ করে পৃথিবীর সকল প্রান্তে মুসলিম সেনাবাহিনীর আল্লাহু আকবার ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হবে। আর এই বিশ্ব রেকর্ডের সম্মান ও গৌরবগাথার স্বাক্ষী হতে হলে মুসলিম সামরিক বাহিনীকে পশ্চিমা অনুগত শাসক ও রাজনীতিবিদদের থেকে মুক্ত হতে হবে এবং মুসলিমদের প্রকৃত অভিভাবক খলিফার হাতে আমাদের শাসনের দায়িত্বভার অর্পণ করতে হবে।
- কাজী তাহসিন রশীদ
