খবরঃ
আলোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করে টেলিফোনে আড়িপাতা তদারকির জন্য একটি আধা-বিচারিক সংস্থা গঠন করা হবে। এবং সরকার চাইলেও এখন থেকে আর দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করতে পারবে না। এ দুটি বিধানসহ 'বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫' খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। (https://samakal.com/bangladesh/article/330956/এনটিএমসি-বিলুপ্ত-নতুন-নাম-সিআইএস)
মন্তব্যঃ
সরকারের হাতে আইন প্রণয়নের সার্বভৌম ক্ষমতা থাকার ফলে সাধারণ মানুষ ও ভিন্নমতের উপর কিভাবে দমন-পীড়ন করতে হয় তার অন্যমত উদাহরণ হল, নাগরিকদের টেলিযোগাযোগে সরকারী সংস্থার নজরদারি ও আড়িপাতা। সরকারের বিরুদ্ধে যেকোন মতামত প্রদানকে “জাতীয় নিরাপত্তার” প্রতি তথাকথিত হুমকি হিসাবে উপস্থাপন করে তা দমনের উদ্দেশ্যেই মূলত সরকারী বিভিন্ন সংস্থা নজরদারি ও আড়িপাতার বিভিন্ন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে থাকে। অপরদিকে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘প্রকৃত হুমকি’ বিদেশী রাষ্ট্রের গোয়েন্দাবাহিনীর সদস্য ও চরদের সাথে তারা সকাল-বিকাল উঠাবসা করে ও তাদেরকে অবাধে বাংলাদেশে বিচরণ করতে দেয়! এই পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক শাসকগোষ্ঠী জাতীয় নিরাপত্তাকে সঠিক ও ষ্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ শব্দটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভিন্নমত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়নে এই ধরনের প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে আসছে।
এনটিএমসি বিলুপ্তির ঘোষণার মাধ্যমে নাগরিকদের উপর আড়িপাতা মোটেও বন্ধ হচ্ছে না; নতুন নামে পরিচালনা করার মাধ্যমে এর খোলস পরিবর্তন করা হচ্ছে মাত্র। তাছাড়া, এটা সর্বজনবিদিত যে বাংলাদেশে আড়িপাতা শুধুমাত্র এনটিএমসি করে না। বরং দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থার হাতেই আড়িপাতার বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি রয়েছে। ফলে, “এনটিএমসি বিলুপ্তির” সংবাদটি বাস্তবে সরকারের একটি ‘ছেলে-ভুলানো’ জনতুষ্টির প্রচেষ্টার প্রমাণ হিসেবেই থাকবে। এবং বিদ্যমান অন্তর্বর্তী সরকার ও আগামীর যেকোন পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক সরকার এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিন্নমত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সচেতন ও প্রতিবাদী জনগণের কন্ঠরোধ করবে। এবং এই কারণেই এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে, জনগণের উপর আড়িপাতা বন্ধের দাবী জানিয়ে বিএনপি কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী কোন ধরনের বক্তব্য প্রদান করেনি।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা পবিত্র কুর‘আন-এ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বেশি বেশি সন্দেহ ও অনুমান করাকে পরিহার কর এবং একে অন্যের উপর গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারি করো না” (সূরা হুজুরাত: ১২)। ফলে, রাষ্ট্রের নাগরিকদের (মুসলিম ও অমুসলিম) উপর কোন প্রকার গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারি নিষিদ্ধ বা হারাম, তা স্বশরীরে হোক কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে। এর বিপরীতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা করা এবং শত্রুরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও তাদের সাথে সখ্যতা রাখা ব্যক্তিদের উপর নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা রাষ্ট্রের জন্য ফরয বা বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) আব্দুল্লাহ্ বিন জাহাশ (রা.)-এর নেতৃত্বে ০৮ জন সাহাবার একটি গোয়েন্দা দলকে শত্রুরাষ্ট্র কোরাইশদের বানিজ্য কাফেলা ও সৈন্যবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের মিশন দিয়ে মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী ‘নাখলা’ নামক স্থানে প্রেরণ করেছিলেন। তাছাড়া, কুরাইশরা হুদাইবিয়ার চুক্তি ভঙ্গ করার পর রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) একজন ব্যক্তিকেও মদীনার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেননি এবং তিনি মদীনার প্রতিটি প্রবেশ পথে পাহারা বসিয়েছিলেন যেন তাঁর যুদ্ধপ্রস্তুতির খবর কুরাইশরা কোনভাবেই অবগত হতে না পারে (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স)।
ফলে, আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্রে নাগরিকদের উপর কোন নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না। শুধুমাত্র সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীকে পাকড়াও কিংবা রহস্য উদঘাটনের জন্য এধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। খিলাফত রাষ্ট্র একটি বিশ্বমানের গোয়েন্দা বাহিনী গঠন ও পরিচালনা করবে; কারণ, শত্রুরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও দেশের মধ্যে শত্রুরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপর নজরদারি করা রাষ্ট্রের জন্য বাধ্যতামূলক। এই বিশ্বমানের গোয়েন্দাবাহিনীর হাতে state of the art প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম তুলে দেওয়ার জন্য খিলাফত রাষ্ট্র প্রয়োজনে সারাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তবিদদের সমাবেশ ঘটাবে ও তাদেরকে সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে।
- রিসাত আহমেদ
