খবরঃ
বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজের পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়েছে।… (https://www.bbc.com/bengali/articles/cp8714nxrdxo)
মন্তব্যঃ
যালিম হাসিনার যুলুমের শিকার হয়েও যারা আপোষহীন থেকেছেন তারা জনগণের নিকট কতটা জনপ্রিয় খালেদা জিয়ার জানাজায় দল-মত নির্বিশেষে বিপুল মানুষ উপস্থিত তার সাক্ষ্য বহন করে। তবে, তার রাজনৈতিক জীবনের যে গুরুত্বপূর্ণ দিকই আলোচনায় আসেনি, সেটা হচ্ছে তার এবং তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় উপনিবেশবাদী মার্কিন-বৃটেন ও তাদের আঞ্চলিক দোসর ভারতের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের বলি হয়েছেন। তার স্বামী জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায়, বৃটেন-ভারত অনুগত ও চরদের দ্বারা হত্যাকান্ডের শিকার হন। এক-এগারোতে মার্কিন-বৃটেন-ভারতের সমঝোতার ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিন সরকার তার দুই সন্তানকে নির্যাতন ও নির্বাসিত করে এবং পরবর্তীতে তিনি সন্তানহারা হন। এরপর ২০০৮ সালে মার্কিন-বৃটেন-ভারতের সমঝোতার হাসিনা সরকার বিগত ১৫ বছর দুঃশাসন চালায় এবং পশ্চিমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন পায়। তাই, আমরা দেখেছি, খালেদা জিয়ার কারাবরণ কিংবা তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা করতে না দেয়া- কোন ক্ষেত্রেই পশ্চিমাদের সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের সেই পশ্চিমা শক্তির সাথেই বিএনপি তথাকথিত ‘সম্পর্ক উন্নয়ন’র নামে বিভিন্ন দর-কষাঘষিতে লিপ্ত হচ্ছে। (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে : বিএনপি) যে পশ্চিমারা বর্তমানে গাজা গণহত্যায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ করে অতি সম্প্রতি (প্রায় ৮০ জন) ভেনিজুয়েলার মাদুরোর অপহরণ কান্ড ঘটিয়েছে। এখন আর তারা তাদের গণতন্ত্র, জাতিরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব কিংবা মানবাধিকারের মুখোশের আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছেনা।
এই বিশ্ব পরিস্থিতিতে বিএনপিসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর এটা বোঝা উচিত, মার্কিন-বৃটেন-ভারত যার বন্ধু, তার শত্রুর দরকার নাই। উপনিবেশবাদীরা তাদের স্বার্থের জন্য কাউকে যেমন হিরো বানাতে পারে, ঠিক তেমনি বলিও দিতে পারে। কারণ তাদের ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী আদর্শের কাছে স্বার্থই শেষ কথা। তাই, রাজনীতিবিদদের মধ্যে যারা নিষ্ঠাবান তাদের উচিত, জনগণের মৌলিক অধিকার হরণকারী পশ্চিমা পুঁজিবাদী নীতি সমূহ প্রত্যাখ্যান করা। ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। সর্বোপরী, দেশের রাজনীতি এবং প্রাকৃতিক ও কৌশলগত সম্পদকে পশ্চিমা কবল মুক্ত করে, বৃহত্তর জনগণের ইসলামী বিশ্বাস, আবেগ এবং আল্লাহ্ প্রদত্ত শারীআহ্ দ্বারা ভবিষ্যত বাংলাদেশকে বিনির্মাণ করা।
- মোঃ জহিরুল ইসলাম
