খবরঃ
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশের মাটিতে পা রাখার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আসুন আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি—ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আসবে, আমরা সকলে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ন্যায়পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করি—হে রাব্বুল আলামিন, আপনি যদি আমাদের রহমত দান করেন, তাহলে এ দেশের মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। আল্লাহ্’র সাহায্য ও দয়া আমাদের সঙ্গে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।” (https://sorejominbarta.com/political/article/50589/মহানবী-সা-এর-ন্যায়পরায়ণত)
মন্তব্যঃ
দেশের মাটিতে দেয়া তার প্রথম বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে, তিনি দেশের মানুষের ইসলামী আবেগ ও আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে ভালোই অবগত আছেন। কিন্তু, বিএনপি তাদের ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের রুপরেখা ৩১ দফা- যার মূলে রয়েছে ‘পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র’ এবং ‘সকল আদর্শের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে’ একটা জাতীয় সরকার মডেলে দেশ পরিচালনা করা, তাহলে তিনি কিভাবে রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ন্যায়পরায়নতার আলোকে দেশ পরিচালনা করবেন?
তারেক রহমানকে বুঝতে হবে দেশের মানুষের ইসলামের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার অর্থ হলো, শুধুমাত্র ইসলাম দিয়ে শাসিত হওয়া। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে ইসলাম শুধুমাত্র একটি স্পিরিট বা মূল্যবোধ নয় এটি আসলে একটি পূর্ণাংগ জীবন ব্যবস্থা। এবং এই মূল্যবোধ এবং শারীয়াহ্ সবই একটি উৎস থেকে আসা, যা হচ্ছেন মহান স্রষ্টা আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলা। তিনি মানবজাতির সমস্যা সমাধানের জন্য পথনির্দেশ হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর উপর ওহীর মাধ্যমে ইসলামকে প্রেরণ করেছেন। তিনি (সাঃ) সেই ঔশী বিধানকে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক, বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্রনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়পরায়ণ শাসন কায়েম করেছিলেন।
এটা কি করে হতে পারে, একজন শাসক আল্লাহ্’র সাহায্য ও নিয়ামত আশা করবেন, অথচ তিনি আল্লাহ্ প্রদত্ত স্পষ্ট নির্দেশসমূহের বিপরীতে মানবরচিত পশ্চিমা পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দ্বারা দেশ পরিচালনা করবেন? এটা কি যুক্তি যুক্ত হতে পারে, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর ন্যায়পরায়নতা অনুকরণীয়, অথচ তাঁর (সাঃ) অনুসৃত শাসন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, বিদেশনীতি ইত্যাদি ভালো না?
তাই, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর ন্যায়পরায়নতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে হলে, শাসকদেরকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর আদর্শ তথা ইসলামি ব্যবস্থাকে ধারণ করতে হবে। মানুষ অসংগতিপুর্ণ ও প্রতারণামূলক পশ্চিমা পুঁজিবাদী-গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পরিত্যাগ করছে এবং তাই শাসকগোষ্ঠীরও উচিত তা পরিত্যাগ করে পূর্ণাংগভাবে বিশ্বাস ও ব্যবস্থা হিসেবেই ইসলামকে গ্রহণ করা। তাহলেই শাসক ও মুসলিম হিসেবে দুনিয়া ও আখিরাতের নেয়ামতসমূহ পাওয়া যাবে। উনাদের বুঝতে হবে মানবরচিত ব্যবস্থা মানে দুনিয়া ও আখিরাত- উভয় স্থানেই লাঞ্চনা। আল্লাহ্ সুবাহানাহু ওয়া তাআলা বলেন, “…তাহলে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশকে বিশ্বাস কর এবং কিছু অংশকে প্রত্যাখ্যান কর? অতএব তোমাদের যারা এমন করো তাদের জন্য পার্থিব জগতে লাঞ্ছনা ও অপমান ছাড়া আর কী প্রতিদান হতে পারে? এবং ক্বিয়ামাতের দিন তারা কঠিন শাস্তির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হবে, আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন” (সুরা বাকারাঃ ৮৫)।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন
