খবর:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রের শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার উপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, যারা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা চায় না তারাই এ ধরনের সহিংসতার পেছনে রয়েছে। নির্বাচনকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথ হিসেবে যারা মানতে চায় না, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সেই শক্তিগুলো সক্রিয় আছে; এই হামলা তাদেরই কাজ। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই ২০২৪-এর ছাত্রগণ অভ্যুত্থানের চেতনা—জনআকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাই আমাদের পথনির্দেশক। (https://dailyinqilab.com/politics/news/841396)
মন্তব্য:
সাহসী তরুন হাদীকে হত্যার উদ্দেশ্য গুলি করার প্রেক্ষাপটে নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্ব শোনা যাচ্ছে। এমনই এক তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছেন এই নেতা। তার সেই তত্ত্বের জবাবে বলতে হয়, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা আওয়ামী ও বিএনপি উভয়ই চায়। কিন্ত, জনগণ দেখেছে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নাম করে আওয়ামী লীগ ২০২৪ সালে শত-শত ছাত্রজনতাকে পাখির মত গুলি করে মেরেছে। এই সংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট আন্দোলন, সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে দীর্ঘদিন। জনগণ জানে যে ক্ষমতার জন্য হেন কোন অপকর্ম নাই যা আওয়ামী-বিএনপি সেকুলার গোষ্ঠী করতে পারে না। তাদের এই ক্ষমতার লিপ্সার উপর ভর করে পশ্চিমা উপনিবেশবাদী শক্তিগুলো দেশের অভ্যন্তরে আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ পায়, আভ্যন্তরীণ বিষয়ে উপর নাক গলায়। যার ফলে, আমরা বাংলাদেশে রাজনীতিতে মার্কিন, বৃটেন ও ভারতের ব্যাপক আধিপত্য আমরা দেখতে পাই; এক-এগারোর সরকার, তারপর তাদের সমঝোতার হাসিনা সরকার, নিজেকে ভারতের ক্যান্ডিডেড দাবী করা, কিংবা এখন মার্কিন অনুগত রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক আন্তর্জাতিক মহল তাদের সাথে থাকার দাবী, এসবই তার উদাহরণ। দেশের উপর উপনিবেশবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগীতার ফলস্বরুপ শেখ মুজিব, পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়, যার পেছনে বিদেশী শক্তির হাত ছিল বলে বহুল প্রচলিত আছে। আমরা দেখেছি, ভারত কর্তৃক পিলখানা হত্যাকান্ড। বৃটিশ দালাল হাসিনার পতনের পর বৃটেন-ভারত এদেশে তাদের আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে আছে। তারা যেকোন উপায়ে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চায়, তাই জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের মার্কিনপন্থী বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপে রাখার নানা কৌশল তারা হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে, হাসিনা পতন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে, মার্কিনীরা তাদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধান সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন, সেনাবাহিনীর উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের দালালদের দিয়ে ক্রমাগত বিষোধাকার করা, ইত্যাদি হীন কার্যক্রম করে যাচ্ছে। বিদেশী শক্তিগুলোর আধিপত্যের এই নোংরা খেলার নির্মম শিকার হতে হলো সাহসী তরুন হাদীকে।
বিদেশী শক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের এই খেলার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হচ্ছে বাংলাদেশে মার্কিন কিংবা বৃটেন-ভারতের অনুগত রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবি গোষ্ঠী। তারা মুখে জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্খার কথা বললেও তারা মূলত আমেরিকা, ব্রিটেন ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির ভূরাজনৈতিক ও সাম্রাজ্যবাদি এজেন্ডার লোকাল এজেন্ট। তাদের দিন শুরু হয় পশ্চিমা দূতাবাসে সিজদা দিয়ে এবং তারা ঘুমাতে যায় পশ্চিমা দূতাবাদের আশির্বাদ মাথায় নিয়ে। তাই, কাফির-মুশরিক ও উপনিবেশিক শক্তিগুলোর অব্যাহত যড়যন্ত্র মোকাবেলা এবং তাদেরকে চিরতরে নিষ্ক্রিয় করতে হলে তাদের লোকাল এজেন্টদের এখনই প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং নবুয়তের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম, জনগণ ও দেশের পক্ষের শক্তি হিযবুত তাহ্রীর-এর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
- রিসাত আহমেদ
