খবরঃ
পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পর স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া ৪০০ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বহু অজানা ও স্পর্শকাতর তথ্য—যা এতদিন পর্দার আড়ালে ছিল।...প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি শেখ হাসিনার গ্রিন সিগন্যাল ছিল। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে এবং ভারতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই হত্যাযজ্ঞে সায় দিয়েছিলেন। ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এই হত্যাযজ্ঞের প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন। বিদ্রোহীদের সঙ্গে তিনি একাধিক বৈঠক করেছেন। (https://www.dhakatimes24.com/2025/12/03/397657)
মন্তব্যঃ
১৬ বছর পর পিলখানা ট্র্যাজেডির তদন্ত রিপোর্ট জনমনে যে বিশ্বাস এতোদিন লুকায়িত ছিলো মূলত সেটিকেই প্রমাণিত করেছে। কেননা, ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পরপরই যখন নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক দল হিযবুত তাহ্রীর -সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে ধ্বংস করার ভারতীয় ষড়যন্ত্র এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রেক্ষিতে জনগণকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়, তখন প্রতিক্রিয়াস্বরুপ হাসিনা সরকার এই দলটিকে নিষিদ্ধ করে দেয়। যার ফলে, এই ধারণা জনমনে দৃঢ়ভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় যে হিযবুত তাহ্রীর যা বলেছে তা সত্য। এতো বছর পর জনমনের এই সত্যটিই প্রমাণিত হল। এই প্রতিবেদনের বরাতে আমরা যেমন মূল ক্রিমিনাল “ভারত এবং তার দোসদের” পরিশেষে নিঃসন্দেহভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছি। তেমনিভাবে, আমাদের এখন নিঃসন্দেহে চিহ্নিত করা প্রয়োজন এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের গড-ফাদারকে। কেননা, প্রতিটি সন্ত্রাসীর যেমন একজন গড-ফাদার থাকে যার ছত্রছায়ায় সে তার অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত করে। ঠিক একইভাবে, সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ভারতেরও একজন গড-ফাদার রয়েছে যার ছত্রছায়ায় এটি আমাদের সেনাবাহিনীকে দুর্বল এবং নতজানু করতে এই হত্যাকাণ্ড বিশ্বাসঘাতক শেখ হাসিনার সহায়তায় সংঘটিত করেছে। ভূ-রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন ব্যক্তি মাত্রই জানেন, ইন্দো-প্যাসিফিক এই অঞ্চলে ভারত আমেরিকার “আঞ্চলিক চৌকিদার” হয়ে কাজ করছে। অর্থ্যাৎ, এই অঞ্চলে ভারত আমেরিকার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটিজি(IPS) বাস্তবায়নের অন্যতম গুঁটি। যা প্রমাণ করে ভারতের গড-ফাদার হচ্ছে আমেরিকা, যার ছত্রছায়ায় এটি এই অঞ্চলে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো পরিচালিত করে যাচ্ছে। গত ৩৫ বছরের ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের আমলনামা পর্যালোচনা করলে এই চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। পাকিস্তান জার্নাল অব আমেরিকান স্টাডিস এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী “১৯৯০ সালের পর থেকে বিজেপি সরকারের হাত ধরে ভারত-আমেরিকার কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্পর্ক ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া শুরু করে”। এরই প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে ২০০৪ সালে Next Steps in Strategic Partnership (NSSP) উদ্যোগ শুরু হয় যা ১৮ জুলাই ২০০৫ সালে এসে New Framework for the US-India Defence Relationship ফ্রেমওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে একটা বাস্তবিক রূপ নেয়। যাকে ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্ব (Strategic Partnership) প্রতিষ্ঠার মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হয়। যেখানে ভারত এবং US শুধুই অস্ত্র কেনাবেচা নয়, বরং প্রযুক্তি, গোয়েন্দা, নৌ ও বিমান অপারেশন, মহাকাশ, নাগরিক, পারমাণবিক, উচ্চ প্রযুক্তি বাণিজ্য সবকিছু মিলিয়ে একটা “কৌশলগত অংশীদার” হিসেবে যুক্ত হয়েছে। ২০০৮ সালে U.S.–India Civil Nuclear Agreement স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে Major Defence Partner (MDP) হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে foundational agreements যেমন - Logistics Exchange Memorandum of Agreement (LEMOA), COMCASA(২০১৮), BECA(২০২০), Quadrilateral Security Dialogue (Quad-২০২১) ভারতকে US military tech, logistics, communication, intelligence sharing–এর সঙ্গে যুক্ত করেছে । ২০২৫ সালে নতুন করে ১০-বছরের defence framework ও high-tech co-production, supply chain deals প্রমাণ করে যে, ভারত-মার্কিন এই অংশীদারিত্ব এককালীন নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদী, institutionalised ও বহুমাত্রিক। । অর্থ্যাৎ, এক কথায় বলা যায় এই অঞ্চলে ভারত মার্কিনীদের আশীর্বাদপুষ্ট সন্ত্রাসী। তাইতো, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর একটা ওপেন এন্ড শাট কেইসে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বাংলাদেশে তদন্তে নেমে ভারতকে শত্রু হিসেবে খুঁজে পায়নি। সুতরাং, যারা দাবি করেন ভারতকে মোকবেলায় আমেরিকার প্রয়োজন তারা নিতান্তই ভারত-মার্কিন সম্পর্ক সম্পর্কে জ্ঞানহীন।
মূলত, ভারত-আমেরিকা উভয়ই মুসলিম উম্মাহ্’র শত্রুরাষ্ট্র যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত। এদের উভয়ের চাওয়া এই অঞ্চলের মুসলিম সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে তাদের স্বার্থের গুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা। যাতে মুসলিম সামরিক অফিসারদের রক্ত দিয়ে তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের পথ পরিষ্কার করতে পারে। এই লক্ষ্যেই তৎকালীন নিষ্ঠাবান সামরিক অফিসারদেরকে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সরিয়ে দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের পথকে প্রশস্ত করা হয়। এবং ঠিক এর পরপরই ২০০৯ সাল থেকেই শেখ হাসিনা সরকারের সহায়তায় আমেরিকা-ভারত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ নিতে Tiger Shark, CARAT (Cooperation Afloat Readiness and Training), Tiger Lightning, Joint UAS/Drone cooperation, (e.g. via RQ-21 Blackjack), Pacific Angel, SAMPRITI এই ধরণের সামরিক এক্সারসাইজ শুরু করে। এসত্য অনুধাবন করার পর, কালক্ষেপন না করে, আমাদের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মার্কিনীদের ষড়যন্ত্রের এই মেগা-প্রজেক্ট এখনই রুখে দিতে হবে। কেননা, “...এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মুসলিমদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নেন না” (সূরা-নিসাঃ১৪১)।
- আসাদুল্লাহ্ নাঈম
