খবরঃ
শ্রমশক্তি রপ্তানিতে বড় বাধা দালাল বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, বিদেশগামীদের দালালদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস এবং জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ তিনি এ কথা বলেন। (https://mzamin.com/news.php?news=194504)
মন্তব্যঃ
প্রায় দেড় কোটিরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসে কাজ করে। তার মধ্যে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি কাজ করে মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে। এই রাষ্ট্রগুলোর সাধারণ মানুষের বিশ্বাস এবং আবেগ ইসলাম। তারা বিশ্বাস করে এই বিশ্বের অধিপতি আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা। প্রত্যেক মুসলিম একে অপরের ভাই। তাহলে এক ভাই কেন আরেক ভাইয়ের এলাকায় যেতে গেলে এত শর্ত, এত কাগজপত্র আর আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়? যেখানে ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের অঞ্চলে বিনা বাঁধায় ঘোরাফেরা করে সেখানে মুসলিমরা কেন নিজেদের এলাকায় নিজেরা বিনা বাঁধায় চলাফেরা করতে পারবে না? এটার একমাত্র কারণ আমাদের মুসলিম অঞ্চলগুলো জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ব্রিটেন আর ফ্রান্সের তৈরি করা কৃত্রিম সীমানার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এতে করে আমার বাংলাদেশি মুসলিম ভাইয়ের পরিচয় হয় ‘বাংলাদেশি’ আর ইয়েমেনের মুসলিম ভাইয়ের পরিচয় হয় ‘ইয়েমেনি’। এভাবেই ব্রিটেন ফ্রান্স তথা পশ্চিমারা আমাদের একটিমাত্র পরিচয় থেকে পঞ্চাশেরও বেশি পরিচয়মূলক বিভেদ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং, আমাদের বাংলাদেশি মুসলিম ভাইদের এক অঞ্চল থেকে আরেক অঞ্চলে যাওয়ার পেছনে বড় বাঁধা দালাল না বরং পশ্চিমাদের দেওয়া এই জাতীয়তাবাদ যা দিয়ে তাদেরই নিয়োগ করা দালালরা রাষ্ট্র চালায়।
একমাত্র ইসলামি জীবনব্যবস্থা খিলাফতই পারে মুসলিমদের এই পঞ্চাশ রকমের পরিচয়কে এক নিমেষে মুছে দিয়ে এক পরিচয়ে নিয়ে আসতে। খিলাফত রাষ্ট্র পৃথিবীর যে প্রান্তেই প্রতিষ্ঠিত হোক না কেন সে একের পর এক মুসলিম দেশগুলোতে পশ্চিমাদের নিয়োগ করা দালালদের অপসারণ করে একক ইসলামি রাষ্ট্র খিলাফতের অধীনে নিয়ে আসবে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের খনির উপর হক যেমন এক বেদুইনের থাকবে, ঠিক তেমনি থাকবে বাংলাদেশের এক কৃষকের ছেলের। সেখানে ঘুরতে যাওয়ার, কাজ করতে যাওয়ার জন্য কোন বাঁধার সম্মুখীন হতে হবে না। ঠিক যেভাবে করে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা আসে একজন কিংবা লাহোর থেকে ইসলামাবাদ যায় একজন। ঠিক সেভাবে তেতুলিয়া থেকে ইস্তানবুল যাওয়া হবে সেরকমই স্বাভাবিক বিষয়। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ “এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার উপরে জুলুম করে না, তাকে পরিত্যাগ করে না এবং তাকে লাঞ্ছিত ও হেয় করে না। কোন ব্যক্তির জন্য তার কোন মুসলিম ভাইকে হেয় ও ক্ষুদ্র জ্ঞান করার মত অপকৰ্ম আর নাই” (মুসনাদে আহমাদ: ১৬/২৯৭, ৭৭৫৬)।
- জাবির জোহান
