খবরঃ
জনমত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ইসলামি আইন প্রবর্তন করলে এর ফল ভালো হবে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সমাজে এমন মনোভঙ্গি তৈরি হয়েছে যে ইসলামি আইনে মুক্তি নিহিত। এ বিষয়ে মন্তব্য প্রতিবেদনে লেখক লিখেন, “বিদ্যমান রাজনীতির ভেতর মানুষ শুভ বা কল্যাণের ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে না, যা মানুষের ভেতর আশাহীনতা তৈরি করে। মানুষ জাগতিক ব্যবস্থার চেয়ে পারলৌকিক ব্যবস্থায় মুক্তি খুঁজতে চাইছে”। তিনি আরও লিখেন, “রাষ্ট্র একটি জাগতিক প্রতিষ্ঠান। এর পরিচালনা ব্যবস্থা ও আইনি পরিকাঠামোর বিশ্বজনীন মান দাঁড়িয়ে গেছে। আর তা হলো গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। গণতন্ত্রেই মুক্তি। গণতন্ত্রের চিন্তা ও চর্চা এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে”।
[https://www.prothomalo.com/bangladesh/lqd6mste2i ]
মন্তব্যঃ
প্রথম আলোর মতো সেকুলার আদর্শের প্রচারক একটি পত্রিকা যে মানুষের ইসলামী আইন তথা শারিয়াহ চাওয়ার প্রকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলবে না তা অনুমেয়। জরিপের ফলের পাশেই এই মন্তব্য প্রতিবেদন ছাপানোর মাধ্যমে তারা তা নিশ্চিত করেছে। তাদের জরিপের হিসেবেই দেখা যাচ্ছে ৮৭.৭% মানুষ শরিয়ার বিষয়ে নেতিবাচক নয়, অথচ তারা ‘৬৫% মনে করে ইসলামী আইন প্রবর্তন করলে ভালো হবে’ এভাবে শিরোনাম করে জরিপের প্রকৃত ফলকে একটু ঢাকার চেষ্টা করেছে। আবার পাশাপাশি দেয়া এই মন্তব্য প্রতিবেদনে ইসলামী ব্যবস্থা চাওয়ার নিরংকুশ জনমতকে ‘আশাহীনতার ফল’ এবং ‘গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা বিশ্বজনিন’ এবং ‘গণতন্ত্রেই মুক্তি’ এমনটা বলে জনমতকে শুধু হেয়ই করেনি বরং জনমতের উপরে নিজেদের মতকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। উল্লেখ্য পিউ রিসার্চ সেন্টারের (Pew Research Center) ২০১৩ সালের একটি জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৮৪% মুসলিম শরিয়া আইনকে দেশের আইন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে। বলাবাহুল্য এখন শরিয়াহ তথা ইসলামি ব্যবস্থা চাওয়ার সংখ্যা আরও বাড়ারই কথা।
অসাড় যুক্তি দিয়ে সত্যকে ঢেকে রাখার চেষ্টা না করে সেক্যুলারিজম প্রেমী এই অতিক্ষুদ্র এলিট গোষ্ঠীর উচিত সত্য মেনে নেয়া। তাদের বুঝা উচিত ‘হাসিনা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার’ সেক্যুলার শাসকদের একের পর এক চরমভাবে ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তির ব্যর্থতা নয় বরং সেক্যুলার ডেমোক্রেটিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা। ‘রাষ্ট্র একটি জাগতিক প্রতিষ্ঠান তাই এর ব্যবস্থা হতে হবে স্রষ্ট্রা বিবর্জিত’- এই ধারণা যে ভুল তা এখন বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত। মানুষ দেখেছে এই ব্যবস্থার আইন তথা পলিসি সবই মুস্টিমেয় এলিট বা ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষা করে এবং নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুলুমের শিকার হয়। সচেতন চিন্তার যুক্তিতেও এটাই সত্য, কারণ মানুষ প্রকৃতিগতভাবে দুর্বল, সীমাবদ্ধ, নির্ভরশীল, তাই মানুষের তৈরি আইনে ভুল থাকবে, বৈপরিত্য থাকবে এবং সেগুলো স্বার্থপরতায় দুষ্ট আইন হবে। তাছাড়া ‘সেক্যুলার ডেমোক্রেসি’ পশ্চিমা এলিটদেরই তৈরি একটি ব্যবস্থা যেটিকে ব্যবহার করে তারা ‘খ্রিস্টীয় ইউরোপ’ এর ব্যর্থতার জেরে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রেখেছিল। এই ব্যবস্থা দ্বারা পশ্চিমারা বৈশ্বিক নেতৃত্ব পেলেও এখন এর ব্যবস্থাগত ব্যপক বৈষম্য ও যুলুম পশ্চিমা বিশ্বেও স্পষ্ট।
এই দেশের জনবিচ্ছিন্ন দৈন্য সেক্যুলার গোষ্ঠীর স্বীকার করা উচিত যে পশ্চিমাদের সেক্যুলার ডেমোক্রেসির ব্যবস্থাগত আগ্রাসনও এখানকার মানুষের মধ্যে থাকা ইসলামের চিন্তা ও বিশ্বাসকে মুছে দিতে পারেনি। বরং মুসলিমদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে যে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মানুষের জাগতিক সমাজ পরিচালনের জন্যই ইসলামি আইন বা শারিয়া তথা ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা নাজিল করেছেন। স্রষ্ট্রা যেহেতু সকল সীমাবদ্ধতা নির্ভরশীলতার উর্ধ্বে এবং যেহেতু ঊনি সকল মানুষের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সবই জানেন সেহেতু উনার কাছ থেকে আসা আইন ও ব্যবস্থাই হবে মানুষের জন্য সত্য ও সঠিক। মুসলিম বিশ্বের এই জনমত শুধুমাত্র একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতার ফসল নয় বরং এটি ইসলামি আক্বিদার সঠিক অনুধাবনের ফল। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, “আর আপনি (হে মুহাম্মদ) আল্লাহ্ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী শাসন (বিচার-ফয়সালা) করুন এবং তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না” (সুরা আল-মায়িদাঃ ৪৯)।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন