উগ্রবাদী ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি: মার্কো রুবিও

 



খবরঃ

উগ্রবাদী ইসলাম কেবল নিজেদের খিলাফত বানিয়ে এক অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা সম্প্রসারণ চায়,” বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, উগ্রবাদী ইসলামের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে ‘আরও বেশি অঞ্চল ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’, যা বিশ্বের জন্য ‘আসন্ন বিপদের হুমকি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় বুধবার রুবিও এ কথা বলেছেন। তার মতে, মুসলিম চরমপন্থিদের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা দেশটিকে ‘বিশ্বের অশুভ সবকিছুর মূল উৎস’ মনে করে। উগ্রবাদী ইসলাম কেবল নিজেদের খিলাফত বানিয়ে এক অংশে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা সম্প্রসারণ চায়। আরও অঞ্চল ও মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে এটা বিপ্লবীপনা এবং তারা বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। পশ্চিমা দেশগুলো, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপকে নিয়ে তাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা তো প্রকাশ্যই। আমরা সেখানে তাদের অগ্রগতিও দেখেছি। “প্রভাব বিস্তারে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সমাজে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় যা করা যায় তারা করছে,” সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন মার্কিন এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। (https://bangla.bdnews24.com/world/83a83f59cd97

মন্তব্যঃ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এই বক্তব্য প্রমাণ করে খিলাফত ব্যবস্থাই হচ্ছে কাফির উপনিবেশিক শত্রুদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করে তোলার একমাত্র রাজনৈতিক প্রকল্প, যার আসন্ন প্রত্যাবর্তনের ভয়ে ক্রুসেডারদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে ভীত। কারণ খিলাফত হচ্ছে সেই রাজনৈতিক প্রকল্প যা কৃত্রিম জাতীয়তাবাদী সীমানার পরিবর্তে বিশ্বের সকল মূসলিম ভুমিকে একীভূত করার বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গঠিত। এটা পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে বাস্তবায়ন করবে এবং দাওয়াহ ও জি*হাদের মাধ্যমে সারাবিশ্বকে উপনিবেশবাদীদের যুলুম থেকে মুক্তির জন্য কাজ করবে। মার্কো রুবিও ইসলামী আদর্শের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকৃতিগতভাবে বিপ্লবী বলছে এবং এই আদর্শের বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের আকাঙ্খাকে বৃহত্তর পশ্চিমা বিশ্বের জন্য সুস্পস্ট হুমকি হিসেবে বর্ণনা করছে।  অর্থাৎ, পশ্চিমারা ঠিকই তাদের আদর্শের একমাত্র হুমকি হিসেবে ইসলামের রাজনৈতিক প্রকল্প খিলাফত ব্যবস্থাকে দেখে। অথচ মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই খিলাফত ব্যবস্থাকে এখনও বিভ্রম বা দূরবর্তী স্বপ্ন হিসেবে দেখে এবং এটার বাস্তবায়নের ব্যাপারে হীনমন্যতায় ভোগেন।

কিন্তু খিলাফত হচ্ছে এই উম্মাহ্‌‘কে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি এবং এ ব্যাপারে রয়েছে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর ভবিষ্যৎবাণী। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন,  “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে আল্লাহ্‌ তাদেরকে এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি নিশ্চিতভাবে তাদেরকে যমীনে খিলাফত প্রদান করবেন, যেমনটি তিনি পূর্ববর্তীদেরকে প্রদান করেছিলেন” (সুরা নুরঃ৫৫)। এছাড়া বর্তমান যুলুমমূলক ব্যবস্থার পরে খিলাফতের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর ভবিষ্যৎবাণী রয়েছে, “...অতঃপর আবার আসবে খিলাফত- নবুয়তের আদলে” ( মুসনাদে আহমাদ)। আল্লাহ্‌’র সাহায্য ও বিজয়ের প্রতিশ্রুতি থাকলে যেকোনো ভয় বা বিপদের মুহূর্তেও মু'মিনরাই বিজয়ী হয়, যেমনটি মূসা (আঃ) এর ক্ষেত্রে হয়েছিল। মূসা (আঃ) এবং ফেরআউনের যাদুকরদের মধ্যকার যাদু প্রদর্শনের ঘটনার সময় যাদুকরদের যাদুর প্রভাবে মূসার(আঃ) মনে ভয় ঢুকেছিল কিন্তু আল্লাহ্‌ তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন যে, সে-ই বিজয়ী হবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সুরা ত্বহা-তে বলেন, “তখন মূসা তার মনে ভীতি অনুভব করল। আমি বললাম, ‘ভয় করো না, তুমিই বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যে লাঠি আছে তা নিক্ষেপ কর, তারা যে যাদু করেছে এটা তাকে গ্রাস করে ফেলবে, তারা যা করেছে তাতো কেবল যাদুকরের কলা-কৌশল। যাদুকর যে রূপ ধরেই আসুক না কেন, সফল হবে না। মুসার লাঠি অজগর হয়ে যাদুকরদের সাপগুলোকে গিলে ফেলল এবং তখন যাদুকরেরা (আল্লাহর প্রতি) সাজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের উপর ঈমান আনলাম” (সুরা ত্বহাঃ ৬৭-৭০)। সুবহানআল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এভাবেই মুমিনদেরকে তার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন। তাই আল্লাহ্‌’র প্রতিশ্রুত খিলাফতের প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে এই উম্মাহ্‌’র ভীতি কিংবা হীনমন্যতায় ভোগার কোন সুযোগ নেই। এই প্রতিশ্রুতি অতি শীঘ্রই অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে ইনশা‘আল্লাহ্‌।

    -    কাজী তাহসিন রশীদ


Previous Post Next Post