খবর:
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা’ এবং এর সঙ্গে ‘ভারতীয় যোগসাজশ’ থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ল ম ফজলুর রহমান। …ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা এবং বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ‘কথা হচ্ছে এই বাহিনীটাকে দুর্বল করার ও বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র ছিল। তখন ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে আর তৎকালীন সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছিল।’ (দৈনিক ইত্তেফাক: tinyurl.com/ycyv9jc5)
মন্তব্য:
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় ও হিন্দিভাষী লোকজনের সম্পৃক্ততা এখন আর গোপন কিছু নয়। এই বিষয়ে বহু প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীর বিবরণ বিভিন্ন সময়ে মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দূর্বল করা ও একটি অনুগত সেনাবাহিনী তৈরির উদ্দেশ্যে ভারত ২০০৯ সালে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল। কিন্তু ওই একই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র ও সমর্থনের কথা সামনে আনা হয় না। সেই সময় হত্যাকাণ্ড অনুসন্ধানে স্থানীয় তদন্তকারীদেরকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI) এবং যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কর্মকর্তারা তদন্ত কাজে সম্পৃক্ত হয়, এবং আন্তর্জাতিক মান ও দক্ষতাসম্পন্ন এই সংস্থাগুলোর নিকট এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন নিশ্চয়ই কোন জটিল বিষয় ছিলনা। কিন্তু, তারা এই ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়েছে, কারণ হাসিনা ছিল বৃটিশ দালাল এবং ভারত হচ্ছে এই অঞ্চলে মার্কিন-বৃটেন এর স্বার্থ রক্ষার আঞ্চলিক চৌকিদার।
এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের নয়া সমীকরণ (ভারতের চোখে বাংলাদেশকে দেখা) বাস্তবায়নে সামরিক বাহিনীর উপর ভারতের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় পথে প্রধান অন্তরায় ছিল সামরিক বাহিনীর এই মেধাবী ও নিষ্ঠাবান অফিসারগণ। বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিনীদের মুখোশ পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মার্কিন-ভারতের সম্পর্কের কোন পরিবর্তন হয় নাই। আমরা ইতিমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে ব্যবহার করে আমাদের সামরিক বাহিনীর মনোবল ক্ষুন্ন করতে চায় এবং এই উদ্দেশ্যে সে তার দালাল গোষ্ঠীকে অনআইন ও অফলাইনে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচারে লিপ্ত করেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতোই এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্যও একই: সেনাবাহিনীর নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়া, যেন বাংলাদেশে একটি দুর্বল ও অনুগত সেনাবাহিনী তৈরি করা যায়। কেননা একটি অনুগত সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ এশিয়া, বার্মা, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর কেন্দ্রিক মার্কিন-ভারত পরিকল্পনাকগুলো বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর সমর্থন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্মা অ্যাক্ট ২০২২, ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি, ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক, আরাকান করিডোর ইত্যাদি ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘৃণ্য ও নারকীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে মার্কিন-বৃটেন-ভারতের পরিকল্পনাকে প্রতিহত করতে হবে। কেবলমাত্র খিলাফতের আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রের রয়েছে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ভিশন ও সক্ষমতা, যা দ্বারা বহিঃশক্তির ঘৃণ্য পরিকল্পনাগুলোকে রুখে দেয়া সম্ভব।
- রাশিদ হাসান মেহেদি
