খবরঃ
অন্তবর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক আছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে।.. অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব যে খারাপ হয়ে গেছে তা নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন কোনোভাবেই এটি অস্বাভাবিক না হয়। বাংলাদেশ কোনো প্রতিবেশির সঙ্গেই তিক্ত সম্পর্ক চায় না। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সবসময় বলি, আমাদের বাণিজ্য ও রাজনীতিকে আলাদা করে দেখতে হবে। (https://www.jugantor.com/national/1044266)
মন্তব্যঃ
দিল্লি না ঢাকা!!! ঢাকা!! ঢাকা!!! এই স্লোগানে যখন সারা দেশ উত্তাল এবং একমত। তখন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তিনি বলছেন-“বাণিজ্য ও রাজনীতিকে আলাদা রাখতে হবে”। অর্থ উপদেষ্টা সাহেব হয়তো ভুলে গেছেন যে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার নাম করেই পুরো ভারতবর্ষকে নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নিয়েছিল। এখনো ব্রিটেন এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো আপাতদৃষ্টিতে চলে গেলেও নব্য উপনিবেশের মাধ্যমে তাদের স্থানীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে তাদেরই পলিসি দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কি কখনো “বাণিজ্য এবং রাজনীতি আলাদা” এই নীতিতে গৃহীত হয়? রাশিয়া, চীন, ইরান এসব রাষ্ট্রের উপর আমেরিকার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কি এই নীতিতে চলেছে? বরং রাজনীতির সংজ্ঞা অনুযায়ী- রাজনীতি হল রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জনগণের দেখভাল করা এবং রাষ্ট্রকে বহিঃশক্তির হাত থেকে রক্ষা করা। সেখানে বাণিজ্য একটা রাষ্ট্রের সাথে আরেকটা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক, পররাষ্ট্রনীতির সাথে জড়িত কৌশলগত বিষয়। এটা কখনোই আলাদা না। আমেরিকা-চীনের চলমান সম্পর্কই তার অন্যতম প্রমাণ। এক রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক আধিপত্য আরেক রাষ্ট্রের উপর সামগ্রিক আধিপত্য তৈরিতে সহায়তা করে। প্রশ্ন হল- এই অতি স্বাভাবিক বিষয়টা কি তথাকথিত বিজ্ঞ জ্ঞানী উপদেষ্টা মন্ডলি বোঝেন না?
মূলতঃ এই ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার ধারক বাহকেরা ইউরোপিয়ানদের Westphalian Nation State নীতির ফাঁদে পড়েছে। এই নীতি বলে যে প্রত্যেক রাষ্ট্র তার ভূখণ্ডের সীমানা দ্বারা নির্দিষ্ট। রাষ্ট্র সার্বভৌম কর্তৃত্ব উপভোগ করবে। এক রাষ্ট্র আরেক রাষ্ট্রের উপর আধিপত্য বিস্তার করবে না। কিন্তু ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিতে চলা বিশ্বব্যবস্থায় পরাশক্তি ছাড়া আর কোন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বলে কিছু নাই। তাই শাসক বা উপদেষ্টারা পরাশক্তি আমেরিকা ব্রিটেন আর বিশাল প্রতিবেশী ভারত এর বিরুদ্ধে কোন অবস্থায় যেতে পারেন না। ভারত যতই আমাদের পিলখানায় সেনাঅফিসারদের হত্যা করুক, সীমান্তে হত্যা করুক, আদানির সাথে চুক্তি করে ১৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি করাক, তিস্তার পানি না দিক, হাদির মত রাজনীতিবিদদের দিনে দুপুরে খুন করাক- এসব কোন কিছুতেই ইলিশ-আম পাঠানো বন্ধ হবে না। শেখ হাসিনাই হোক আর উপদেষ্টা মহোদয়রাই হোক- কোন ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শাসকের পক্ষে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ছাড়া আর কোন পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। তা জনগণেরা যতই ভারত এবং সাম্রাজ্যবাদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান করুক, এই Westphalian Nation State নীতির বাস্তবতার কাছে তারা পরাজিত।
একমাত্র ইসলামী শাসনব্যবস্থা পারে এই Westphalian Nation State নীতির বাস্তবতা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে। কারণ ইসলামি রাষ্ট্র কোন ভূখন্ড দ্বারা সীমাবদ্ধ না। ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা খিলাফত হল সেই নেতৃত্বশীল রাষ্ট্র যা সমগ্র মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে একীভূত করবে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ভবিষ্যৎ বাণী অনুযায়ী ভারতকে পরাভূত করবে। কারণ ইসলামি রাষ্ট্র খিলাফতের সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের না, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র। তাঁর দেয়া বিধি বিধানের উপর ভিত্তি করেই মুসলিম শাসক খলিফার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে। ইতিমধ্যেই এই দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করেই মুসলিমদের ভারতবিদ্বেষ, ইসরায়েল বিদ্বেষ, আমেরিকা বিদ্বেষ সমগ্র বিশ্বে অনভিপ্রেত আতংক ছড়িয়ে দিচ্ছে। আসন্ন খিলাফতের আশংকায় তারা কম্পিত। শুধু আমাদের মেরুদন্ডহীন ধর্মনিরপেক্ষ পুঁজিবাদী শাসকেরা উম্মাহ্ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নতজানু হয়ে হাঁটছে উল্টোপথে। আফসোস!!!!
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, “তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না”। [সূরা বাকারাঃ১৮]
- জাবির জোহান
