গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশ পুনর্গঠন সম্ভব নয়, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তারেক রহমান

 


খবরঃ

যেকোনো মূল্যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।… “যেকোনো মূল্যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ দেশ পুনর্গঠনের পূর্ব শর্ত হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনলে মানুষের ইচ্ছের প্রতিফলন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন সম্ভব হবে না।”… “জনগণের ভোটে বিএনপি আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আপনাদের মধ্যে যোগ্যদের খুঁজে বের করে দেশ পুনর্গঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হবে। অলরেডি বিএনপির উদ্যোগে দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক কর্মসূচি চলছে।”… (https://banglanews24.com/politics/news/bd/1626422.details)

মন্তব্যঃ

পশ্চিমাদের দেখানো পথে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে কখনোই দেশের পুনর্গঠন সম্ভব না। ৭১ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আমরা তাই দেখছি। আমরা এটাও দেখেছি, এদেশের গণতান্ত্রিক শাসকরা দেশ পুনর্গঠনের চাইতে নিজেদের আখের গোছানোর দিকেই মনোযোগ বেশি দিয়ে থাকে। আর বর্তমান হাসিনা পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক শাসক কিংবা রাজনীতিবিদদের মানসিকতার এমন কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এমতাবস্থায়, দেশের ‘অমূল্য সম্পদ’ সামরিক বাহিনীর অফিসারদের এসব গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে? দেশ পূনর্গঠনের নামে এরা কেবল অতীতের মতোই লুটপাট করবে। উপরন্তু এদের সেই ইচ্ছা এবং যোগ্যতাও নেই, যার মাধ্যমে তারা দেশের সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সকল কৌশলগত সম্পদের ওপর পশ্চিমা কুফর শক্তির কর্তৃত্বের অবসান ঘটাবে। বরং এরা সমগ্র পৃথিবীতে গণহত্যা চালানো পশ্চিমাদের ভাড়াটে যোদ্ধা (মার্সেনারি ফোর্স) হিসেবে আমাদের সামরিক বাহিনীকে ‘শান্তিরক্ষী’ নামের আবরণে ব্যবহার করবে, যেখানে প্রায়শই হতাহতের শিকার হতে হয়। এভাবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বলিদানের মাধ্যমে তারা পায় পশ্চিমাদের সমর্থনে ক্ষমতায় টিকের থাকার মহামূল্যবান সার্টিফিকেট। যেটা পেয়ে তারা মহা উৎসাহে দেশ পুনর্গঠনের নামে লুটপাট চালিয়ে যায় এবং সেনা সদস্যদেরকে ‘দেশ পূনর্গঠনের দায়িত্ব’র নামে লুটপাটে ভাগ দেওয়ার মুলা ঝুলায়। তাই সামরিক বাহিনীর সদস্যদের এটা বুঝতে হবে যে, গণতান্ত্রিক শাসকরা বস্তুত এ শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতা লাভ করে, সেটা পাঁচ বছরের জন্য হোক কিংবা হাসিনার মত ১৫ বছরের জন্য হোক। এই সময়ে তাদেরকে কেউই প্রকৃতভাবে জবাবদিহিতা করতে পারেনা। তখন জনগণের উপর জুলুম করলে তাদেরকে সহজে অপসারণ করাও যায় না। আর অপসারণ করতে গেলে জুলাই’২৪ এর মত অনেক রক্ত, জীবন ও সম্পদ ব্যায় করতে হয়।

সামরিক অফিসারদের সমর্থন দেওয়া উচিত, এমন শাসনব্যবস্থাকে যেখানে শাসকরা প্রকৃতপক্ষে জনগণ ও আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র নিকট জবাবদিহিতার সম্মুখীন হন। এটি একমাত্র খিলাফত শাসন ব্যবস্থায় সম্ভব। এখানে শাসকগণ প্রতি পদে পদে জনগণের প্রতিনিধি মজলিস আল উম্মাহ্‌, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত, সর্বোপরি মাযালিম আদালতের নিকট জবাবদিহিতার সমূখীন হন। এ শাসন ব্যবস্থায় শাসকের নিকট জনগণের অধিকার যেমন সুনির্দিষ্ট, তেমনি কৌশলগত সম্পদের ব্যবস্থাপনাও সুনির্দিষ্ট। সেই সাথে এটাও সুনির্দিষ্ট যে, বহিঃশক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক কেমন হবে? ইসলামে বহিশক্তির সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ভিত্তি হলো ‘আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র দ্বীনের কর্তৃত্বকে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়া’। আর এ লক্ষ্যেই মূলত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সামরিক বাহিনী গঠিত হয়। গণতান্ত্রিক শাসকরা যেখানে দেশ পুনর্গঠনের নামে লুটপাটে ভাগ দেয়ার মূলা দেখায়, সেখানে খিলাফত শাসন ব্যবস্থায় শাসকরা সামরিক বাহিনীকে নতুন নতুন ভূমি বিজয়ের মাধ্যমে সেখানে ন্যায়-পরায়ণ শাসক হিসেবে আল্লাহ্‌’র দ্বীন বাস্তবায়ন করে তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত লাভের দিকে পরিচালিত করে। আবু ওবায়দা (রা), আমার ইবনুল আস (রা) থেকে শুরু করে আমাদের এই অঞ্চলের বিন বখতিয়ার খিলজী (রহ), শাহজালাল (রহ)-এর মত সেনাপতিরা সবাই এভাবেই ভূমিসমূহ বিজয়ের পরে ন্যায়-পারায়ন শাসক হিসেবে জমিনে বিপুল সম্মানের অধিকারী হয়েছিলেন। তারপর যুগ যুগ ধরে তাদের দ্বারা শাসিত জনগণের দু‘আ’র মধ্যে নিজের অবস্থান রেখে গিয়েছেন। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাদের উপর সন্তুষ্ট থাকুন, আমিন!

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post